• ই-পেপার

কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৫

অধ্যক্ষের স্ত্রী নিরাপত্তাকর্মী, শ্যালিকা আয়া; কাজে না এসেও নিচ্ছেন বেতন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
অধ্যক্ষের স্ত্রী নিরাপত্তাকর্মী, শ্যালিকা আয়া; কাজে না এসেও নিচ্ছেন বেতন
দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদরাসা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষের স্ত্রী ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের স্ত্রী সামছুন্নাহার মাদরাসাটির নিরাপত্তাকর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) এবং শ্যালিকা ছদরুন্নাহার আয়া পদে কর্মরত থাকলেও তাঁদের হয়ে অন্য একজন নারী কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে কাজী নুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৯ জন। এর মধ্যে অধ্যক্ষ মো. এনামুল হকের স্ত্রী ও শ্যালিকাও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত।

সম্প্রতি সরেজমিন মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরনো প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত অবস্থা বেশ নাজুক। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরনো তিনটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য স্থায়ী কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। পুকুরপাড়ে অস্থায়ীভাবে টিনের চালা ঘর তৈরি করা হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বসার জন্য রয়েছে একটি টিনের কক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাদরাসায় অবস্থানকালে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষক বারান্দা ও টিনের ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল খুবই কম। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান খোলার পরও নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তাকর্মী সামছুন্নাহার ও আয়া ছদরুন্নাহার কর্মস্থলে ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিবর্তে শাহানা আক্তার নামে এক নারী নিয়মিত কাজ করছেন এবং তাকে মাদরাসার তহবিল থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, ‘অধ্যক্ষের স্ত্রী মাঝেমধ্যে মাদরাসায় এলেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় না। তিনি সাধারণত অফিস কক্ষে বসে থাকেন। নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতে কখনো দেখিনি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক বলেন, ‘আমার শ্বশুর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তাঁর মেয়েদের এখানে চাকরি দিয়েছেন। এটি তাঁর বিষয়।’

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘কিভাবে নিয়োগ হয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানো নিয়মসংগত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দুই আইনজীবীর এপিপি নিয়োগ বাতিল

কুমিল্লা প্রতিনিধি
দুই আইনজীবীর এপিপি নিয়োগ বাতিল
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদ থেকে দুই আইনজীবীর নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে জারি করা এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন সই করা আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগসংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হলো। তবে ঠিক কি কারণে দুই আইনজীবীর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর পদটি বাতিল করা হয়েছে তা পরিষ্কারভাবে কিছুই বলা হয়নি।

এর আগে গত ১৬ জুন বিকেলে বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসানকে কুমিল্লার আদালতে তোলার পর তার বিষয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমে কথা বলেছিলেন এপিপি পদ বাতিল হওয়া দুই আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম।

অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, আমরা জিসানের মামলায় ওকালতনামা নিইনি। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করায় কথা বলেছি। তবে নিয়োগ বাতিল হওয়ার মতো আমরা কোনো কাজ করিনি। মূলত জিসানের মামলার বিষয়ে কথা বলায় আমাদের প্রত্যাহার করা হয়।

কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর কাইমুল হক রিংকু বলেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে। তারা উভয়ে সরকারি আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হয়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে আসামির পক্ষে কেউ যেতে পারেন না।

কুমিল্লা নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, আইন মন্ত্রণালয় চাইলে যেকোনো সময় যে কারো নিয়োগ বাতিল করতে পারে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে দুজন এপিপির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, সে দুইজন আইনজীবী আসামির পক্ষে ওকালতনামা নেননি। তারা আসামি জিসানের পক্ষে আদালতের সামনে থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় দাউদকান্দি মডেল থানায়। ওইদিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। 

এদিকে দাউদকান্দি থানায় ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৬ জুন বিকেলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা কারাগারে হাজির করেন। পরে বিচারক তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছেন। 
 

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত শ্যোন অ্যারেস্ট

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত শ্যোন অ্যারেস্ট
সংগৃহীত ছবি

দেড় বছর পর হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করলেও কারামুক্ত হতে পারেননি সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে অপর একটি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট করা হয়। পরে আদালত থেকে তাকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

কাজী কেরামত আলীর আইনজীবীরা জানান, ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া মামলাতেও তাকে আসামি দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তারা আরো জানান, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এবং গত ৪ জুন হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন কাজী কেরামত আলী। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ৯ জুন তার কারামুক্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই দিনই পুলিশ তাকে অপর একটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করে। এরপর বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর ১ নম্বর আমলি আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে পুনরায় কাজী কেরামত আলীকে কারাগারে পাঠানো হয়।


 

দিনাজপুরে বিদ্যালয়ের পুকুরে গোসলে নেমে শিক্ষার্থী নিখোঁজ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরে বিদ্যালয়ের পুকুরে গোসলে নেমে শিক্ষার্থী নিখোঁজ
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সহপাঠীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পুকুরে গোসল করতে নেমে বিপ্লব চন্দ্র আবির (১৫) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়ী গোলাম মোস্তফা (জিএম) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ বিপ্লব চন্দ্র আবির ওই বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার মেকানিক্যাল ট্রেডের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের গোকুল গ্রামের রিকশাভ্যানচালক বিজন মন্ডল ও শংকরী রানীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি হলে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পুকুরে গোসল করতে নামে। তাদের সঙ্গে আবিরও ছিল। একপর্যায়ে তাকে হাঁপিয়ে যেতে দেখে বন্ধুরা পুকুরপাড়ে উঠিয়ে দেয়। পরে অন্যদের সঙ্গে সে আবারও পানিতে নামে। গোসল শেষে সবাই পাড়ে উঠলেও আবিরকে দেখা যায়নি। পরে পুকুরপাড়ে তার পোশাক, জুতা ও সাইকেল পড়ে থাকতে দেখে সহপাঠীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তাদের ধারণা, দ্বিতীয়বার পানিতে নামার পর সে তলিয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমির সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের এক অফিস সহকারীর মৃত্যুর কারণে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ছুটির পর ভোকেশনাল শাখার কয়েকজন শিক্ষার্থী পুকুরে গোসল করতে নামে। আবির নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করা হয়।

খবর পেয়ে দুপুর ২টা থেকে ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পুকুরে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে বিদ্যালয়ের পুকুরপাড়ে শত শত মানুষ ভিড় করেছেন।