ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষের স্ত্রী ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের স্ত্রী সামছুন্নাহার মাদরাসাটির নিরাপত্তাকর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) এবং শ্যালিকা ছদরুন্নাহার আয়া পদে কর্মরত থাকলেও তাঁদের হয়ে অন্য একজন নারী কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে কাজী নুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৯ জন। এর মধ্যে অধ্যক্ষ মো. এনামুল হকের স্ত্রী ও শ্যালিকাও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত।
সম্প্রতি সরেজমিন মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরনো প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত অবস্থা বেশ নাজুক। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরনো তিনটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য স্থায়ী কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। পুকুরপাড়ে অস্থায়ীভাবে টিনের চালা ঘর তৈরি করা হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বসার জন্য রয়েছে একটি টিনের কক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাদরাসায় অবস্থানকালে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষক বারান্দা ও টিনের ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল খুবই কম। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান খোলার পরও নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তাকর্মী সামছুন্নাহার ও আয়া ছদরুন্নাহার কর্মস্থলে ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিবর্তে শাহানা আক্তার নামে এক নারী নিয়মিত কাজ করছেন এবং তাকে মাদরাসার তহবিল থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, ‘অধ্যক্ষের স্ত্রী মাঝেমধ্যে মাদরাসায় এলেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় না। তিনি সাধারণত অফিস কক্ষে বসে থাকেন। নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতে কখনো দেখিনি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক বলেন, ‘আমার শ্বশুর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তাঁর মেয়েদের এখানে চাকরি দিয়েছেন। এটি তাঁর বিষয়।’
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘কিভাবে নিয়োগ হয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানো নিয়মসংগত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





