• ই-পেপার

জমি লিখে নিয়ে বাবাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

  • থানায় লিখিত অভিযোগ

রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলার আসামি মো. মাসুদ মন্ডলকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজবাড়ী থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আসামি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রামদিয়া গ্রামের নওশের মন্ডলের ছেলে। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিনের বেলগাছি রঘুনাথপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর থানায় শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার পর থেকেই আসামি মাসুদ মন্ডল পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী সদর থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান ও এসআই সোহেবুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঢাকার হাতিরঝিল থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

রাজবাড়ী থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আসামিকে গ্রেপ্তারের পর যথাযথ পুলিশ প্রহরার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। শিশু সুরক্ষায় ও অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।’

রাঙামাটি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় রসুন-ইউরিয়া সার জব্দ

রাঙামাটি সংবাদদাতা
রাঙামাটি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় রসুন-ইউরিয়া সার জব্দ
সংগৃহীত ছবি

রাঙামাটির সীমান্তবর্তী হরিণা এলাকা দিয়ে নদীপথে ভারতে পাচারের সময় চায়না রসুন ও ইউরিয়া সার জব্দ করেছে ছোট হরিণা ১২ বিজিবি টহল দল। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ছোট হরিণা এলাকা দিয়ে নদী পথে সীমান্ত দিয়ে ইঞ্জিন চালিত বোটে পাচারের সময় জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, নদীপথে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধভাবে কিছু যাবে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টহল জোরদার করা হয়। এসময় ইঞ্জিন চালিত বোটে ১৮ বস্তা চায়না রসুন ও ৯ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন সময় একটি চক্র বাংলাদেশি পণ্য পাচারের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির তৎপরতায় বারবার ব্যর্থ হয় তারা। 

বিজিবি ছোট হরিণা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালানা বন্ধে বিজিবি কঠোর নজরদারি করছে। কোনো অবৈধ পণ্য বাংলাদেশ থেকে যাতে সীমান্ত পাড়ি দিতে না পারে সেজন্য বিজিবি সজাগ রয়েছে। গত মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি মতো চায়না রসুন জব্দ করা হয়েছে।

কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একইস্থানে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত উপজেলার কুটি দক্ষিণ বাজার ও এর আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুটি ইউনিয়ন বিএনপি ও-এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে একই স্থানে ও একই সময়ে পৃথক দুটি কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি পক্ষ কসবা আখাউড়ার সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মুশফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ র‍্যালির আয়োজন করে।

অপরদিকে, বিএনপির আরেকটি পক্ষ কুটি ইউনিয়ন বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম শাহীনকে সংবর্ধনা দেওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ওই সভায় কসবা উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফখর উদ্দিন খান প্রধান অতিথি এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। একইসঙ্গে কুটি দক্ষিণ বাজার ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছামিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একই স্থান ও সময়ে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কুটি দক্ষিণ বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। 

হিলিতে ৯০ বছরের বৃদ্ধ মতিউরের ঠাঁই হলো রাস্তার পাশে, দেখার কেউ নেই

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
হিলিতে ৯০ বছরের বৃদ্ধ মতিউরের ঠাঁই হলো রাস্তার পাশে, দেখার কেউ নেই
দিনাজপুরের হিলির এক রাস্তাার পাশে পড়ে থাকা বৃদ্ধ মতিউর।

চোখে দেখতে পারেন না, হাঁটাচলাও করতে পারেন না, বয়স প্রায় ১০০ ছুঁইছুঁই। এমন এক বৃদ্ধার দেখা মিলেছে দিনাজপুরের হিলির এক রাস্তাার পাশে। শুধু নাম বলতে পারেন মতিউর, আর ঠিকানা রংপুরে, এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারেন না তিনি। স্থানীয়রা বলেন, ‘বুধবার দুপুর ২টার সময় হিলি চরমাথা মসজিদের পাশের এক দোকানে কাছে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে রেখে চলে যায়। এরপর কয়েকজন তাকে প্রথমে মসজিদের ভেতরে রাখলে সেখান থেকে তিনি বর্তমানে মসজিদ গেটের সামনে বসে অবস্থান করছেন। কিছু জিজ্ঞাসা করলে বলছেন রংপুর থেকে এসেছি। যাব পাঁচবিবি বড় মসজিদ।

এমন এক বৃদ্ধাকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়াটা তার পরিবারের মোটেও উচিত হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কোথায় যাবেন কিভাবে থাকবেন এসব নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এলাকাবাসী বলছেন, যেহেতু ৯০ বছরের এই বৃদ্ধা একাই চলাফেরা করতে পারছেন না সেহেতু তাকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একটা ব্যবস্থা করা হোক। এদিকে ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান থানার ওসি। পরে নাম-ঠিকানা পেলে তার পরিবারের কাছে হস্তাান্তর করা হবে।

কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন,  হাতে লাঠি আর একটি বস্তা নিয়ে বসে আছেন রাস্তার পাশে ৯০ বছরের একজন বৃদ্ধ। নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলে শুধু বলেন, নাম মতিউর আর রংপুর বাড়ি। এর থেকে আর কিছুই বলতে পারেন না তিনি। কথাও অস্পষ্ট, হাঁটাচলাও করতে পারছেন না। সন্তান-সন্ততি আছে কি না তাও জানা যাচ্ছে না। খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছেন রাস্তার ওপর। দেখার কেউ নেই। রাস্তার পথচারীরা দয়া করে কিছু দিলে খাচ্ছেন, না দিলে না খেয়ে থাকছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, আজকে দুপুরে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে একটি দোকানের পাশে রেখে চলে যায়। তখন তারা তাকে মসজিদের ভেতরে রাখেন কিন্তু তিনি বর্তমানে সেই মসজিদের গেটে রাস্তার পাশে বসে আছেন। তার পরিবারের কেউ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। শুধু বলছেন রংপুর থেকে আসছি আর যাব জয়পুরহাটের পাঁচবিবি বড় মসজিদে। দেখতে মনে হবে বাবা-দাদার মতো। চুল-দাড়ি পেকে সাদা হয়ে গেছে। চোখে ছাপ পড়ে গেছে, কিছু দেখতে পারেন না। সম্বল বলতে হাতে একটি লাঠি আর একটি সাদা কাপড়ের বস্তা। স্থানীয়দের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে তার থাকার একটা ব্যবস্থার করা হোক।

বৃদ্ধ মতিউর রহমান বলেন, ‘অটোরিকশায় চড়ে এখানে এসেছেন, কিন্তু কোনো ছেলেমেয়ে নেই। আরো কিছু জানতে চাইলে বলতে পারছেন না তিনি।

হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, রাস্তায় বসে থাকা সেই বৃদ্ধকে চিকিৎসা প্রদানের জন্য হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, ‘এমন বয়সে এই বৃদ্ধকে রাস্তায় থাকতে দেখে সবারই মনে প্রশ্ন রয়েই যায়, কে এর সন্তান আর কেনইবা রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে। যত বড়ই খারাপ হোক না কেন এই বয়সে তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়া কোনোমতেই বিবেচ্য হয়নি।  

তিনি আরো বলেন, ‘ওই বৃদ্ধকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করা হয়েছে। এখানে আপাতত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তার। যদি পরিবারকে পাওয়া যায় তাহলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’