চট্টগ্রামের পটিয়ায় সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে সিরাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী ববি আক্তারকে (৪৪) আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত বক্সু মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছিলেন তিনি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলামের দুটি সংসার রয়েছে। প্রথম স্ত্রী চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন এবং তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী ববি আক্তার গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন, তাদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির মালিকানা ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার বাবার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সিরাজুল ইসলামের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাগ্নে মো. বদিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, আমার মামার সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার স্বজনরা তাকে মারধর করেছে। আমরা এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




