• ই-পেপার

‘এসআরও সংশোধন না হলে ২০৩০ সালের সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়’

বেনাপোল স্থলবন্দর

চলছে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
চলছে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ
বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে রবিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা। এ উপলক্ষে সকালে বন্দরে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: কালের কণ্ঠ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন হ্যান্ডলিং (পণ্য ওঠানো-নামানো) শ্রমিকরা। প্রয়োজনীয় ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহ, মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে রবিবার (১৪) সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। 

কর্মবিরতির ফলে বন্দরে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ রয়েছে। 

শ্রমিক নেতারা জানান, বন্দর এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য ক্রেন ও ফর্কলিফটের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এসব যন্ত্রপাতির সংখ্যা অনেক কম। ফলে শ্রমিকদের গভীর রাত পর্যন্ত, কখনো কখনো সকাল পর্যন্ত কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সমাধানের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শ্রমিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি সচল থাকা কয়েকটি ক্রেন ও ফর্কলিফটও বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরো সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সাত দিন আগে নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কোনো ক্রেন বা ফর্কলিফট  বন্দরে না আসায় পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ (রবিবার) সকাল থেকে সব ধরনের পণ্য ওঠানো-নামানো কাজ বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা।

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত বেনাপোল বন্দরে প্রতিদিন বিপুলপরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে আমদানি করা পণ্যের খালাস ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, বর্তমানে তারা অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ বছর আগে প্রতিটন পণ্যে  শ্রমিকদের মজুরি ছিল ১৮ টাকা, যা এখনো অপরিবর্তিত। অথচ এর মধ্যে বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। শ্রমিকরা বর্তমানে প্রতিটনে ২৮ থেকে ৩৫ টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান।

শ্রমিকরা আরো অভিযোগ করেন, বর্তমানে যেসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই পুরনো ও জরাজীর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। তারা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে না এবং তাদের কল্যাণ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও কোনো উদ্যোগ নেয় না। এমনকি বেনাপোলে প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী কোনো কার্যালয়ও নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিকদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ সাম্প্রতিক একটি দুর্ঘটনা। প্রায় দুই মাস আগে একটি ক্রেনের তার ছিড়ে পড়ায় এক শ্রমিক নিহত এবং একজন আহত হন। ওই দুর্ঘনার পর শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ওই সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ নিহত শ্রমিকের পরিবার এবং আহত শ্রমিকের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেয়। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে দাবি শ্রমিক নেতাদের।

বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক (৯২৫) ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, নতুন ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহ, ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনায় হতাহত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং শ্রমিক কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে তারা এ কর্মবিরতি পালন করছেন।

আজ রবিবার কর্মসূচি চলাকালে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন ৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি, ইউনিয়ন ৮৯১-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, আমরা সবাই একটি পরিবার। অতীতের মতো দায়িত্বহীনতা আর চলবে না। হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে, অনথ্যায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

রবিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ সরকারি জেনারেল হাসপাতালে  আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। এই অর্থ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যয় করা হবে। ইতিমধ্যে দেশের ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে, যাতে রোগীদের সামান্য শ্বাসকষ্টের জন্য রাজধানীমুখী হতে না হয়।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একজন মন্ত্রী আসবে জেনেও আপনারা হাসপাতাল পরিষ্কার রাখেননি। তিন মাস সময় দিয়েছি। এখন আর অজুহাত নয়। আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ ও শৃঙ্খলায় দৃশ্যমান পরিবর্তন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

ডেঙ্গু মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু হাসপাতাল প্রস্তুত রাখলেই হবে না, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি ডাক্তারাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রোগীদের অযথা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার না করে স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাই একটি পরিবার। জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় যার যা প্রয়োজন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

কান ধরে উঠবসের পর মায়ের মরদেহ পেল ছেলে, নেপথ্যে কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
কান ধরে উঠবসের পর মায়ের মরদেহ পেল ছেলে, নেপথ্যে কী?
সংগৃহীত ছবি

অক্সিজেন না দেওয়ায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ এবং মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে জটিলতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মৃত নারীর ছেলেকে মায়ের মরদেহ ফেরত পেতে চিকিৎসকদের সামনে কান ধরে উঠবস করতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে কান ধরে উঠবসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের দাবি, ভর্তির মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় তিনি মারা যান। এসময় অক্সিজেনের অভাব ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাকিব হাসান ও ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এদিকে, চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ঘটনার বিচার দাবি করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। একইসঙ্গে মরদেহ মর্গে নিয়ে রাখা হয়।

অন্যদিকে,মরদেহ দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মৃতের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মা শনিবার ভোরে মারা গেছেন। প্রায় ১০ ঘণ্টা হয়ে গেছে, আমরা মায়ের মুখ দেখতে পারিনি। মায়ের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা বারবার ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু মরদেহ ফেরত পাইনি।’

স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার জেরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব করেন এবং নানা শর্ত জুড়ে দেন।একপর্যায়ে মৃতের ছোট ছেলে রিফাত হোসেনকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসকদের কাছে কানধরে উঠবস করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। চিকিৎসকের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অমানবিক।ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহটি মর্গে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

শেবাচিম হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
শেবাচিম হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন তথ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র। জুলাই মাসে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা করব। ওই সভায় হাসপাতালটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করব। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সেবা গ্রহিতাদের নিয়ে একটি সভা করব। যেখানে তাদের কাছ থেকে হাসপাতাল এর চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে মতামত নেব।’ 

হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা নিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালটিকে এমনভাবে পরিচালনা করা হবে, যাতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সকল সেবা হাসপাতালটিতে পায়। তাদের যাতে চিকিৎসা সেবা পেতে ঢাকা অথবা অন্য কোথাও যেতে না হয়।’