• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জ

পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারিদের গোলাগুলি, ৫ পুলিশসহ আহত ৭

অচল পায়ে সচল স্বপ্ন জিসানের

এস.এম.দেলোয়ার হোসাইন, মাদারীপুর
অচল পায়ে সচল স্বপ্ন জিসানের
সংগৃহীত ছবি

জন্ম থেকেই দুটি পা অচল, হাতের ওপর ভর করে চলেছে জীবন। নেই বাবা-মা, থাকেন দাদা-দাদির সংসারে। যেন সকল সংকট তাকে আষ্টেপিষ্টে ধরেছে। তবু স্বপ্নপূরণে অদম্য জিসান মোল্লা (২৫)। ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে না নিয়ে জীবিকার তাগিদে সংগ্রামের পথে রয়েছেন, যা সকলের কাছে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে বাজারে অস্থায়ীভাবে কাঁচামাল বিক্রি করেই তিনি সংসার চালাচ্ছেন।

জিসান মোল্লার বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের বালাকান্দি এলাকায়। শিবচর পৌর বাজারের লালন মঞ্চের সামনে তার অস্থায়ী দোকান। সেখানে কাঁচামাল বেচাকেনা করেন।

রবিবার সকালে তার দোকানে গিয়ে দেখা যায়, জিসানের দোকানে আছে কাঁচা মরিচ, করলা, কচুর লতি। দোকানে কাঁচামালের পরিমাণ খুবই কম। মূলধন না থাকায় অধিকাংশ কাঁচামাল বাকিতে কিনতে হয়। দিন শেষে যা বিক্রি হয়, তা দিয়েই ধার শোধ করেন। আর যা থাকে, তা দিয়েই চলে তার জীবন সংসার।

কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপে জিসান মোল্লা জানান, তিনি জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। অনেক কষ্ট করে জীবন চালাই। পায়ে সমস্যায় হাঁটাচলায় অনেক কষ্ট হয়। ছয় বছর বয়সে পারিবারিক কলহের জেরে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মা তাকে রেখে চলে যান। কিছুদিন পর বাবাও মারা যান। তারপর দাদা-দাদিই আমাকে লালন-পালন করেছেন। শরীরের অবস্থার কারণে ভারী কোনো কাজ করতে পারি না। তবে কিন্তু ভিক্ষা করতে চাই না। 

তিনি আরো জানান, প্রথমে সাতশত টাকা পুঁজি নিয়ে বাড়ির পাশে বাঁশের মাচালে কিছু সামগ্রী বিক্রি করলেও মূলধন না থাকায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর চিন্তা করলাম কি করা যায়। তখন শিবচর বাজারে গিয়ে বাকিতে ২৩ ধরনের কিছু কাঁচামাল ক্রয় করে বিক্রি করা শুরু করি। দোকানে বেশি কাঁচামাল না থাকায় বিক্রিও কম। আবার অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযানে দোকানও সরিয়ে নিতে হয়।

জীবনের প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, আমার চলাচল করতেও খুব কষ্ট হয়। বাড়ি থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত ইটের রাস্তা থাকায় হাতের ওপর ভর করে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই হাত-পা কেটে যায়। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটিতে ভরা রাস্তা ও যানবাহনের সংকটের কারণে নিয়মিত বাজারে আসাও সম্ভব হয় না। যদি সরকার বা সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে একটি হুইলচেয়ার, চালের কার্ড বা কোনো মানবিক সহায়তা পেতাম, তাহলে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে আরো ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারতাম।

প্রতিবেশি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই জিসানকে কষ্ট করতে দেখছি। বাবা-মা হারিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছে। তিনি ভিক্ষা না করে পরিশ্রম করে জীবন চালাচ্ছেন। সরকার কিংবা সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি তাঁকে একটি দোকানঘর ও কিছু মূলধনের ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে তিনি আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও জিসান যেভাবে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় রয়েছেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় তাকে আরো সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।’

বন্ড ও ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিজিএমইএর পাঁচ দাবি

অনলাইন ডেস্ক
বন্ড ও ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিজিএমইএর পাঁচ দাবি

জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। তবে বন্ড ও ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বাজেটে পূরণ হয়নি এমন পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেছে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনটি। 

শনিবার (১৩ জুন) গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় বিজিএমইএভ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও সংস্কারমুখী। তবে তৈরি পোশাক খাতের বিদ্যমান সংকট বিবেচনায় বাজেটে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সেখানে আরো বলা হয়, বৈশ্বিক মন্দা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পোশাক খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। চলতি অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ইউনিটপ্রতি গড় মূল্য ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পোশাক রপ্তানির ওপর উৎসে করের হার বর্তমান ১ থেকে কমিয়ে দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখা।

নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ১০ থেকে ৫ শতাংশে নামানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বর্তমান তারল্য সংকট বিবেচনায় তা সম্পূর্ণ মওকুফ করার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সাবকন্ট্রাক্ট মূল্যের ওপর আরোপিত ১ শতাংশ দ্বৈত উৎসে কর প্রত্যাহার এবং ভ্যাট অব্যাহতি প্রক্রিয়া আরো সহজ করা। পোশাক খাতের জন্য নির্ধারিত ১২ শতাংশ এবং গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য ১০ শতাংশ করপোরেট করহার যেন অন্য কোনো আয়ের কারণে বৃদ্ধি না পায়, তা নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক রপ্তনির সম্ভাবনা বিবেচনায় পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ), পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা।

মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ, কসাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ, কসাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ছবি: কালের কণ্ঠ

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব শিলমন্দি এলাকায় টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে আরিফ বেপারী নামে এক কসাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে নিহতের মরদেহ তার বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, স্থানীয় আরেক কসাই নুর হোসেনের সঙ্গে টাকা লেনদেন নিয়ে আরিফের ভাই আকাশের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এ বিষয়ে সম্প্রতি থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়।

তাদের দাবি, শনিবার (১৩ জুন) সকালে মুন্সিরহাট বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর জেরে রবিবার ভোরে আকাশকে না পেয়ে তার ভাই আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত আরিফের শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে কোমর ও নিতম্বে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আরিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বেইলি সেতু ভেঙে ট্রাক খালে, অতঃপর...

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
বেইলি সেতু ভেঙে ট্রাক খালে, অতঃপর...

গোপালগঞ্জ শহরের পাচুড়িয়ায় বেইলি সেতু ভেঙে ট্রাক খালের মধ্যে পড়ে গেছে। এ সময় একটি ইজিবাইক ও বাইসাইকেলও পড়ে যায়। এতে ট্রাকচালক ও হেলপার এবং ইজিবাইক চালক আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে বালুভর্তি একটি ট্রাক শহরের দিক থেকে ঘোনাপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। শহরের পাচুড়িয়া এলাকায় বেইলি সেতুটি পার হওয়ার সময় সেতুটি ভেঙে গিয়ে ট্রাকটি খালের পানিতে পড়ে যায়। এ সময় একটি ইজিবাইক ও একটি বাইসাইকেলও পড়ে যায়। 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খালের মধ্যে পড়ে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি। সেতুটি ভাঙার ফলে বিকল্প রাস্তা লেকপাড় সড়ক  দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।