• ই-পেপার

ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর সেনবাগে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আপন দুই ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরো এক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কানকিরহাট-ছাতারপাইয়া-সোনাইমুড়ী সড়কের সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় এলাকার মুন্সির দোকান নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া গ্রামের মুসলিম স্বর্ণকার বাড়ির সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. আলমের ছেলে আসিফ ও আরিফ। আহত শাওন একই বাড়ির সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. শাহজাহানের ছেলে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে দুই সহোদর তাদের একই বাড়ির অন্য একজন নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে কানকিরহাট থেকে ছাতারপাইয়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে মুন্সির দোকান এলাকায় পৌঁছালে চালক আসিফ নিয়ন্ত্রণ হারান এবং মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ছাতারপাইয়া বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে (ক্লিনিকে) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ ও আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন অপর আহত শাওনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে দুই সহোদরের মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আপন দুই ভাই নিহত হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

চরভদ্রাসনে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
চরভদ্রাসনে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় মিন্টু পাট্টাদার (৪০) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে উপজেলার প্রধান সড়কের গাজীরটেক ইউনিয়নের বাবলাতলা মাদরাসার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মিন্টু পাট্টাদার উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের পাট্টাদার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চরভদ্রাসন বাজারের একটি ডিমের দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাজার থেকে কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন মিন্টু। পথে গাজীরটেক মোড় এলাকায় একটি বালুবাহী নম্বরবিহীন ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে তিনি একাই ছিলেন। খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। এ ঘটনায় ড্রাম ট্রাকের ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে।

নিহতের ভাই সেন্টু পাট্টাদার বলেন, আমার ভাই কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল। নম্বর ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন ঘাতক চালকের বেপরোয়া গাড়ির চাপায় আমার ভাই মারা গেছে। আমার ভাইয়ের ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে এতিম হয়ে গেল। আমরা এই অন্যায়ের কঠোর বিচার চাই।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, নম্বরবিহীন একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ট্রাকচালক আবির আহমেদকে (২১) ইতোমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

কালের কণ্ঠের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আলতাফ হোসেন মিন্টুর মায়ের ইন্তেকাল

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কালের কণ্ঠের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আলতাফ হোসেন মিন্টুর মায়ের ইন্তেকাল
প্রতীকী ছবি

কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি আলতাফ হোসেন মিন্টুর মা শামসুন্নাহার বেগম (৭৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের আংনা এলাকায় নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার রাতে শামসুন্নাহার বেগম ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাঁকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁর শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যায়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি বাসায় ফিরে আসেন। শনিবার রাত ৮টার দিকে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

পারিবারিকভাবে জানানো হয়েছে, রবিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ভাংনা জামে মসজিদে প্রথম জানাজা এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ইসলামাবাদ ইমামবাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ইমামবাড়ি কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

এদিকে শামসুন্নাহার বেগমের মৃত্যুতে কেরানীগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ক্রিকেটার নাঈমকে নির্যাতন : এবার খুলশী থানার ওসি প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ক্রিকেটার নাঈমকে নির্যাতন : এবার খুলশী থানার ওসি প্রত্যাহার

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বিষয়টি জানা যায়। একই আদেশে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলশী থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকলিয়া থানার ওসি করা হয়েছে সিএমপির বিশেষ শাখার পরিদর্শক জাহিদুল কবিরকে।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এক ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে পুলিশের উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম, সদস্য রাসেল চৌধুরীকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে সিএমপির লাইনে সংযুক্ত করা হয়। ডিবি পরিচয় দিয়ে নাঈমকে আঘাত করা সোহেলকে সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। সোহেল ওসি আরিফের সোর্স হিসেবে কাজ করত বলে কথিত আছে।

শফিকুল (এসআই) তিনজনকে নগরের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নাঈমের ভাই কামরুল হাসান বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় এসআই শফিকুল, পুলিশ সদস্য রাসেল ও সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। অপরদিকে শফিকুল ও রাসেলের বিরুদ্ধে পুলিশে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে।

নাঈমের বাবা, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, শুক্রবার রাতে আমার ছেলেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত থানায় যাই। ডিউটি অফিসার আমাকে প্রথমে থানায় ঢুকতেই দেননি; দূরে গিয়ে বসতে বলেন। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে থানায় প্রবেশের সুযোগ পাই। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় পাওয়ার পরও আমার ছেলেকে ন্যাক্কারজনকভাবে মারধর করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফুর রহমান আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন। পরে ঢাকা থেকে বিসিবি চেয়ারম্যান তামিম ইকবাল এবং পরিচালক ইসরাফিল খসরু সাহেবের ফোন পাওয়ার পর পুলিশ নমনীয় হয় এবং ভুল স্বীকার করে।

এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফিরছিলেন নাঈম। পতেঙ্গা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠে লালখান বাজার এলাকায় নেমে আরেকটি ফ্লাইওভারে ওঠার কথা ছিল তার। দুই ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি এলাকায় পুলিশ তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও নির্যাতন করার অভিযোগ উঠলো। এসময় নাঈমকে পাইপ দিয়ে পেটানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিসিবি এক বিবৃতিতে বলেছে, জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বোর্ড। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বিসিবি আরো জানায়, খেলোয়াড়দের কল্যাণ, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নাঈম হাসানের ঘটনায় পরবর্তী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।