• ই-পেপার

চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত অন্তত ৩০

রাস্তার পাশে গর্তের পানিতে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

গফরগাঁও(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
রাস্তার পাশে গর্তের পানিতে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রাস্তার পাশের গর্তের পানিতে পড়ে সুমন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (০৮জুন) দুপুরে উপজেলার পাগলা থানাধীন কান্দিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশু সুমন (০৮) কান্দিপাড়া গ্রামের নয়ন মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় নিউ মডেল একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন রাস্তায় মাটি ফেলার জন্য তৈরি গর্তে পানি জমেছিল। সোমবার দুপুর একটার দিকে কান্দিপাড়া গ্রামের নয়ন মিয়ার শিশুপুত্র সুমন অপর শিশু আরিয়ানসহ অন্য শিশুদের নিয়ে গর্তে জমে থাকা পানিতে খেলতে নামে। এ সময় সাতার না জানায় তারা পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। স্থানীয় লোকজন দুই শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত ডাক্তার এন এম ইশা সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং অপর শিশু আরিয়ান কিছুটা সুস্থ হলে তার স্বজনরা বাড়ি নিয়ে যায়।

পাবনা মানসিক হাসপাতালে ২ রোগীর হাতাহাতি, একজনের মৃত্যু

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা মানসিক হাসপাতালে ২ রোগীর হাতাহাতি, একজনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

পাবনা মানসিক হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর দুই রোগীর হাতাহাতির ঘটনায় ইনজামুল হক (২৬) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত ৩ জুন মধ্যরাতে হাসপাতালের আবাসিক ভবনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটলেও তা সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়ার পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের বড় ভাই ইজাজুল হক বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা করেছেন।

‎ভুক্তভোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২ জুন সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া খোঁজাখালির আব্দুল মালেকের ছেলে নাজমুল (২৮) ও ঝিনাইদহের রাজনগর গ্রামের মৃত গোলাম নবীর ছেলে ইনজামুল হককে (২৬) ঝুঁকিপূর্ণ ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত ২টার দিকে নাজমুল ও ইনজামুল মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে লাথি ও ঘুষিতে মাথায় আঘাত পেয়ে ইনজামুলের মৃত্য হয়। গুরুতর আহত হন নাজমুলও। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

‎মামলার নথিতে বলা হয়েছে, পাবনা মানসিক হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাথরুমের করিডরে অভিযুক্ত নাজমুল পা দিয়ে লাথী দিয়ে ইনজামুলকে হত্যা করেছে। এর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেডকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরো পড়ুন
শেরপুরে ১২ দিনে ৬ মাদরাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা

শেরপুরে ১২ দিনে ৬ মাদরাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা

 

‎মামলার বাদী ইজাজুল হক বলেন, যে ছেলেটা আমার ভাইয়ের সঙ্গে মারামারি করেছে, সেও তো মানসিক রোগী। এমন দুজন রোগীকে তারা কেন একসঙ্গে রাখল। যখন তারা মারামারি করছিল তারা কেন থামাতে পারল না। আমি সেবাকর্মীদের কাছে জানতে চাইলে বলেছে, তারা ভয়ে মারামারি থামাতে যায়নি। এভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। এখানে যার যার খেয়াল খুশিতে ডিউটি পালন করে।

‎নাজমুলের বাবা আব্দুল মালেক বলেন, ওরা আমার ছেলেকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। তারা ঢাকার মানসিক হাসপাতালে রেফার করার সব কাগজপত্র ও ওষুধের স্লিপ রেডি করে আমার ছেলেকে রিলিজ (ছাড়পত্র) দিয়ে দেয়। আমি গাড়িতে ওঠার সময় হঠাৎ তারা বড় ডাক্তারের কাছ থেকে আরো কিছু ওষুধ লিখিয়ে দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে কাগজপত্রগুলো ফেরত নেয়। এরপর আমার ছেলেকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আবার ভেতরে নিয়ে আটকে রাখে।‎

‎পাবনা মানসিক হাসপাতালের নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট রেখা আক্তার জানান, হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জনবল সংকট রয়েছে। এরপরও তো পুরুষ রোগীদের চিকিৎসা দিতে নার্সদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেবা দিতে গেলেই মারধরের শিকার হতে হয়।‎

‎পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ বলেন, গভীর রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত্যুর ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। আমরা মর্মাহত হয়েছি।

‎অতি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য হাসপাতালে পৃথক কোনো আইসোলেশনের ব্যবস্থা নেই। সীমিত জনবল নিয়ে এই ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। দ্রুত জনবল দিতে সরকারের প্রতি আবেদন জানান তিনি।

‎‎পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত ৩ জুন পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তের কাজ চলছে।

ফরিদপুরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ট্রেনের ধাক্কায় খোদেজা খাতুন (৭০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা-ফরিদপুর রেললাইনের নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের হরুপদিয়া লালব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত খোদেজা খাতুন উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ধর্মদী গ্রামের আইয়ুব শেখের স্ত্রী।

ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট মো. শাহজালাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভাঙ্গা থেকে রাজবাড়ীগামী ‘রাজবাড়ী এক্সপ্রেস’ লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় সেতুর ওপর থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই বৃদ্ধা। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, তিনি ব্রিজটি পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। কানে কম শোনার কারণে তিনি ট্রেনের শব্দ বুঝতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।’

বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর

ডামুড্যা (শরীয়তপুর), প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর
ছবি: কালের কণ্ঠ

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। রবিবার (৭ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।

ডামুড্যা থানা ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ডামুড্যা উপজেলা সদরে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুজিত কর্মকার ২০১৩ সালে সেখানে নিয়োগ পান। দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই পক্ষটি তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তোলেন। ওই বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছর ১৮ সেপ্টেম্বরের পর আর তিনি বিদ্যালয়ে যাননি। বিভিন্নভাবে ছুটি কাটিয়ে যাচ্ছিলেন।

আরো পড়ুন
বিদেশে ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার

বিদেশে ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার

 

রবিবার সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে নামেন। নামার পর বেশকয়েক জন অভিভাবক ও স্থানীয়রা তাকে মারধর করতে থাকেন। আবার কয়েকজন তরুণ তাকে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন। তখন আরো কয়েকজন তরুণ তাকে অটোরিকশার ভেতরে মারধর করছেন। ওই শিক্ষককে মারধরের এমন দৃশ্য স্থানীয় কয়েকজন মানুষ ভিডিও ধারণ করে রাখেন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি বলেন, সুজিত কর্মকার নামের এক ব্যক্তিকে আমরা ভর্তি করেছি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়েছে। মুখোমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে গেছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বলেন, আমি বিদ্যালয়ের কাজ থাকার কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যাই। কাজ শেষ করে বিদ্যালয় ঢোকার পথে আমার উপর স্থানীয়রা হামলা করে। কেন বা কি কারণে করে আমি জানিনা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার বলেছেন এই বিষয়ে মামলা হবে। তবে আমাকে আগে চিকিৎসা নিতে বলেছেন। 

আরো পড়ুন
২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

 

ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক তাকে বাধা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি এমন শুনেছি। আমার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কোনো বিরোধ নেই। কেন তিনি এসবের জন্য আমাকে দায়ী করছেন তা বুঝতে পারছি না।

ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, সকালে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। আমি ওসি কে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।