• ই-পেপার

বাঘারপাড়ায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল র‍্যালি

ঝিনাইদহে জামায়াতের ৩০০ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহে জামায়াতের ৩০০ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে জামাতের ৩০০ নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানকারীদের মধ্যে নারী ও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। 

শুক্রবার (৫জুন) বিকালে উপজেলার বাগাডাংঙ্গা মহিউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে যোগদানকারীরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনির হাতে ফুল দিয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত হন। 

এসম উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ভুটানসহ ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীরা। 

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি বলেন, ‘বিএনপির জনমুখী রাজনীতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে বিভিন্ন মতের মানুষ দলে যোগ দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক ভিত আরো মজবুত হবে।’ 

উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপি সব সময় রাজপথে রয়েছে। সে কারনেই বিভিন্ন দল ও মতের মানুষ বিএনপির সঙ্গে সম্পৃত্ত হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’ 

যোগদান কারীদের একজন বলেন, ‘দীর্ঘদিন অন্য দলের সঙ্গে ছিলাম। বিএনপির কার্যক্রম ও নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখে আমরা একযোগে দলে যোগ দিলাম।  এখন থেকে দলের সব কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে থাকব।’ 

অনুষ্ঠানের শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। 

নাটোরে ছাত্রশিবিরের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে ছাত্রশিবিরের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
নাটোরের লালপুরে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি।

নাটোরে লালপুর-বাগাতিপাড়া অঞ্চলের সাথীদের নিয়ে ছাত্রশিবিরের এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে উপজেলার গোপালপুরে এই অনুষ্ঠান হয়।

‎অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালপুর উপজেলা পশ্চিম শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাহি এবং সঞ্চালনা করেন পূর্ব শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান  মিশকাত। 

‎‎উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাকসু ভিপি ও লালপুর-বাগাতিপাড়ার কৃতি সন্তান ইব্রাহিম হোসেন রনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদ হাসান। 

‎‎এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা ছাত্রশিবিরের বায়তুল মাল সম্পাদক আব্দুল্লাহ ওমর শিমুলসহ লালপুর বাগাতিপাড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। 

‎‎ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি, সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক খোঁজখবর নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রমে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নদী আছে, পানি নেই

দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে বড়াল

প্রবীর সাহা, পাবনা
নদী আছে, পানি নেই
পানিশূন্য পাবনার বড়াল নদী। ছবি : কালের কণ্ঠ।

এক সময়ের টইটুম্বর বড়ালের যৌবন ফিরিয়ে আনার দাবি এ অঞ্চলের ৫০ লাখ মানুষের। বড়ালকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনঃখনন করে জলধারা ফিরিয়ে আনার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের অপেক্ষায় এ অঞ্চলের মানুষ।

যৌবনশূন্য বড়াল এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। দুই ধার প্রভাবশালীদের দখলে। বড়াল চরে সবুজ ফসল শোভা পাচ্ছে। গড়ে উঠেছে দোকানঘর ও বসতবাড়ি। কাল পরিক্রমায় বড়াল নদী টইটুম্বর যৌবন হারিয়ে ফেলেছে। এককালের খরস্রোতা বড়াল নদীর তলদেশ পলিমাটিতে ভরাট হয়ে জল সীমানা সরু হয়ে খালের আকার ধারণ করেছে। বড়াল চর প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে দোকানপাট ও বসতবাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি নানা প্রকার ফসল ফলাচ্ছেন। বড়াল পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন শুষ্ক মৌসুমে বড়াল প্রায় পানিশূন্য থাকায় গোসলের পানি পেতে দুর্ভোগের শিকার হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা বড়ালের ইতিহাস রূপকথা বলে মনে করবে।

শীতকাল শুরুর পরে ও শুকনো মৌসুমের শুরু না হতেই চলনবিলের নদ-নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বিশাল জলরাশির চলনবিল এবং এর আশপাশের নদ নদী এখন শুকনো। এটাই এখন বিল আর তার ধমনী নদ-নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা। অথচ নিকট অতীতেও সারা বছর না হলেও ছয় মাস পানি বুকে ধারণ করত বিল ও তার নিকটবর্তী নদ-নদীগুলো।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত এক কালের প্রমত্তা বড়াল নদী এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চাটমোহর পৌরসভার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেসরকারি ক্লিনিক ও বাসাবাড়ির বর্জ্যের ঠিকানা এখন শুকিয়ে যাওয়া এ নদী। নদীর দুই পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে পাকা স্থাপনা। দখল, দূষণ আর কচুরিপানার কারণে বড়াল এখন মশা উৎপাদনের সূতিকাগারে পরিণত হয়েছে। অস্তিত্ব হারাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রধান এ নদী।

রাজশাহীর চারঘাট পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ২২০ কিলোমিটার বড়াল নদী গিয়ে মিশেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনা নদীতে। কিন্তু আশির দশকে চারঘাটে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর উৎসমুখে স্লুইসগেট নির্মাণ করে বড়ালের পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে অস্তিত্ব হারাতে থাকে প্রমত্তা বড়াল। এরপর বাগাতিপাড়ার আটঘরি ও চাটমোহরের দহপাড়ায় আরো দুটি  স্লুইসগেট নির্মাণ করে পাউবো। এ ছাড়া চাটমোহর উপজেলা পরিষদ বড়ালের চাটমোহর অংশে তিনটি ক্রসবাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ শুরু করে।

২০০৮ সালে চাটমোহর থেকে শুরু হয় বড়াল রক্ষা আন্দোলন। গঠিত হয় কমিটি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে সরকার বড়াল চালুর উদ্যোগ নেয়। অপসারণ করা হয় চাটমোহরের তিনটি ক্রসবাঁধ ও দহপাড়া  স্লুইসগেট। কিন্তু বড়াল খনন কিংবা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বড়ালে তলদেশে এখন বিভিন্ন ফসলের যেমন আবাদ হচ্ছে। তেমনি ময়লা-আবর্জনাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলাও হচ্ছে বড়ালে। কচুরিপানায় পরিপূর্ণ বড়াল এখন মশা উৎপাদনের সূতিকাগার। বড়ালে ফেলা বর্জ্যরে দুর্গন্ধে টেকা দায়। কচুরিপানা পরিষ্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। বড়াল নদী দখলের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে। বর্জ্য ফেলা হচ্ছে অপ্রতিরোধ্যভাবে। পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।

পরিবেশবাদী সচেতন মহলের ভাষ্য, বড়ালের বেহাল দশার পেছনে রয়েছে সরকারি নদী শাসনের ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও মৃত প্রায় বড়ালের বুকে ভূমিদস্যুদের জায়গা দখলের মহৎসব। স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালীদের দখলদারির কারণে দু’পাড় ক্রমান্বয়ে ছেয়ে গেছে। এমনকি নদের পাড়ে দিনকে দিন তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা যা এক সময়ের খরস্রোতা বাড়লের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা।

বাপা পাবনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট তোসলিম হাসান সুমন বলেন, ‘বড়াল নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে যত দ্রুত সম্ভব জলপ্রবাহ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ও ভারসাম্য রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা স্থানীয় এনজিও টিএসপি’র পরিচালক সরকার মোহাম্মদ আলি বলেন, ‘সিএস রেকর্ড অনুযায়ী বড়াল নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত খনন করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’

বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব এস.এম. মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহীর চারঘাটে বড়াল নদীর ওপর স্লুইসগেট ভেঙে বড় করে পরিবেশবান্ধব ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে, এছাড়া তার ৪৬ কিলোমিটার ভাটিতে নাটোরের আটঘরিতে একটি  স্লুইসগেট ভেঙে সেটিও বড় ব্রিজ করতে হবে ও আটঘরি থেকে বনপাড়া পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার দখল মুক্ত করতে হবে। আইডব্লিউ এমের সুপারিশ অনুযায়ী রাজশাহীর চারঘাট থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ছোট ছোট ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে ফেলতে হবে এবং নদী দ্রুত পুনঃখনন করলে ৫০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হবে।’

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড়াল নদী পুনঃখনন নিয়ে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছে, ফিজিবিলিটি স্টাডির আলোকে দ্রুত বড়াল নদী পুনঃখনন করা হবে।’

কলমাকান্দায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
কলমাকান্দায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে হুমায়ুন আহমেদ (২৯) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের রংছাতী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হুমায়ুন আহমেদ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে সীমান্তঘেঁষা চন্দ্রডিঙ্গা পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে আসেন হুমায়ুন আহমেদ। ঘোরাঘুরি শেষে দুপুরে একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ফেরার পথে রংছাতী এলাকায় পৌঁছালে তিনি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটির ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।