স্বামী মরার পর থেকে আমার ছেলেডা ঢাকায় থাকত। কারো সঙ্গে কোনো জামেলা করত না। বাড়িতে এসে দুই-তিন দিন থেকে আবার ঢাকা চলে যেত। ওকে কুপিয়ে মারল। আমার ছেলেডারে বাঁচাতে কত চেষ্টা করা হলো, ছয় ব্যাগ রক্তও দেওয়া হলো। তবু বাঁচল না। তার দুই মেয়ে এখন এতিম হয়ে গেল। আমি ছেলে হত্যার সঠিক বিচার চাই। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। আমি মরার আগে তাদের বিচার দেখে যেতে চাই।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের হাসিলা বেগম (৮৪)।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকালে নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন। এসময় তার ছোট ছেলে বনি আলম উপস্থিত ছিলেন।
এসময় লিখিত বক্তব্যে হাসিলা বেগম বলেন, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ দুপুরে তার ছেলে আক্তারুজ্জামান বাড়ির উত্তর পাশে পাকা সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার ছেলের ওপর হামলা চালিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে আমার ছোট ছেলে ও ছেলে বৌ দৌড়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় হাসিলা বেগমের ছোট ছেলে বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি পক্ষ জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে তাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এতে তারা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
হাসিলা বেগমের ছেলে মামলার বাদি বনী আলম বলেন, আমি জুট মিলে কাজ করি। বাড়িতে বেশি থাকা হয় না। আমার বড় ভাইরে যারা কুপিয়ে হত্যা করল আমি তাদের বিচার চাই। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর তার দুই সন্তান এতিম হয়ে গেছে। আমি বাদি হয়ে ভাই হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আশা করি তদন্তকারী কর্মকর্তা সঠিক প্রতিবেদন দেবেন।




