• ই-পেপার

রাবিতে সিট দখল নিয়ে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন, অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের

বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জাককানইবিতে গবেষণা সপ্তাহ উদ্বোধন

জাককানইবি প্রতিনিধি
বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জাককানইবিতে গবেষণা সপ্তাহ উদ্বোধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে ‘গবেষণা সপ্তাহ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর যৌথ আয়োজনে নতুন কলা ভবনের ষষ্ঠ তলার সম্মেলনকক্ষে কেক কেটে গবেষণা সপ্তাহের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। একই সঙ্গে দুটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, গবেষণা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নের অন্যতম প্রধান সূচক। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে গবেষণায় মনোযোগী হতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে বিশ্বমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সৃজনশীলতা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। গবেষণায় অগ্রগতি হলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন এবং আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেন।

গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘Pathways to Higher Studies Abroad: Strategies Securing Scholarships and Research Opportunities’ শীর্ষক প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রায়হান হাবিব। এ ছাড়া ‘গুণগত তথ্য বিশ্লেষণ সফটওয়্যার’ বিষয়ক প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্য নতুন কলা ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

এদিকে একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি আয়োজিত ‘Inspiring Innovation in Curriculum Design and Bangladesh Accreditation Council (BAC) Compliance’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেন।

প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ও ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহীদ রেজা। এছাড়া আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি সাহা এবং ড. মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা সংস্কারে সরকার ৫ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত জিও-এনজিও কোলাবরেশন ডায়ালগ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা সংস্কারে সরকারের মূল লক্ষ্য লার্নিং আউটকাম বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে— কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি। এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে সরকার কার্যকর অংশীদারির ভিত্তিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। সরকারের একার নয়, সরকারব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চায়। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত, সম্প্রসারণযোগ্য এবং টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী মডেল সরকার কাজে লাগাতে চায়।

ববি হাজ্জাজ আরো বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, নন-ফরমাল শিক্ষা, শহরমুখী অভিবাসী শিশু, চা-বাগান এলাকার শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ব্র‍্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে চায় সরকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে চায় সরকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে সরকার কার্যকর অংশীদারির ভিত্তিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। সরকারের একার নয়, বরং সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘জিও-এনজিও কোলাবোরেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো লার্নিং আউটকাম বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ক্ষেত্রগুলোকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, নিয়োগ ও বদলি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী মডেল কাজে লাগাতে চায় সরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, নন-ফরমাল শিক্ষা, শহরমুখী অভিবাসী শিশু, চা-বাগান এলাকার শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খেলাধুলা

বাসস
চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খেলাধুলা
সংগৃহীত ছবি

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিতসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

রবিবার (২৮ জুন) অধিদপ্তরের সেকশন-২ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে জানানো হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৬ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলো খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় চাহিদা নিরূপণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

এ ছাড়া দেশের প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই উল্লেখ করে বিদ্যালয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্যসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানোর আগে সেখানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নেই, তাদের ক্ষেত্রে আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের লক্ষ্যে সমঝোতা বা চুক্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দির, মসজিদ, খালি জায়গা, পতিত জমি কিংবা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার মাঠ থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় যৌথভাবে খেলাধুলার আয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের আরো বলেছে, যেসব বিদ্যালয়ে মাঠের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, সেখানে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দাবা, ক্যারামসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, প্রতিদিন পাঠদান শেষে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি প্রতিবেদন দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক খেলাধুলার সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী হবে।