• ই-পেপার

মোবাইল ব্যাংকিং যাচাইকরণ না হলে বন্ধ থাকবে উপবৃত্তি

টেক্সটাইল খাতের উন্নয়নে এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
টেক্সটাইল খাতের উন্নয়নে এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘টেক্সটাইল খাতের উন্নয়নে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।’ 

আজ শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস-এ ‘চতুর্থ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘টেক্সটাইল খাত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। কিন্তু এই খাতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। টেক্সটাইল খাতের উন্নয়নে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা টেক্সটাইল খাতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে চাই। এ জন্য এ ক্ষেত্রে গবেষণা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি গতানুগতিকতার বাইরে এসে উদ্ভাবনী ধারণা সংযোজন করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও টেক্সটাইল বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাবের সুবিধা থাকতে হবে যেন তারা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে কিভাবে প্রতিযোগিতা করতে হবে তা শিখতে সক্ষম হয়।’

এ সময় মন্ত্রী ‘গ্রিন টেক্সটাইল’ ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কনফারেন্সে জার্মানির হোখশুলে নিডাররাইন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক বাস্টিয়ান কুয়াটেলবাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন জমার সময় বাড়ল

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন জমার সময় বাড়ল
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স (ফাইনাল) প্রোগ্রামে ভর্তির অনলাইন প্রাথমিক আবেদন জমার সময় বাড়ানো হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ১৯ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভর্তীচ্ছু প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে প্রাথমিক আবেদন ফি বাবদ এক হাজার টাকা জমা দিতে হবে। প্রার্থীরা সোনালী সেবা অথবা নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আগামী ২৩ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ফি পরিশোধ করতে পারবেন। ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের শেষ সময় ১৯ জুলাই। আর সোনালী সেবার মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৩ জুলাই। আবেদন ফি জমা দেওয়ার সময় পে-স্লিপে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সংশ্লিষ্ট খাতের সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ০২১৮১১০০০০২৭০১ উল্লেখ করে টাকার পরিমাণ লিখতে হবে।

এদিকে ভর্তির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার তারিখ এবং কেন্দ্র পরে পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য সব শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

মাভাবিপ্রবিতে সালাউদ্দিন টুকু

জনগণ বিএনপির কাছে অনেক কিছু আশা করে

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জনগণ বিএনপির কাছে অনেক কিছু আশা করে
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপি জনবান্ধব দল বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে মানুষ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদ বলতে পারেনি। কারণ বিএনপি জনগণের সেন্টিমেন্টের বাইরে যায়নি। জনগণ বিএনপির কাছে অনেক কিছু আশা করে। আমরাও সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। 

‎শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের ১২ তলার সেমিনারকক্ষে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও আদর্শ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি।  

‎সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমরা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করব। সারা জীবন জিয়াউর রহমান খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। দুর্ভিক্ষ থেকে রাতারাতি দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যান তিনি। 

‎অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান। এ ছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম।

জিয়াউর রহমানের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ৭৫-এর বাকশাল ও মুজিব হত্যার সঙ্গে যারা জিয়াউর রহমানকে জড়াতে চায়, তারা ইতিহাস জানে না। তাদের মনে রাখতে হবে সাকার জামিলের পুস্তকের কথা। জিয়াউর রহমান শুধু বিএনপির নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা।

‎মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করি। তার সঙ্গে খাল খনন শিখেছি। জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশপ্রেমিক, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। 

‎আলোচনাসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ডিন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। 
 

র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় রাবিতে প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা

রাবি প্রতিনিধি
র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় রাবিতে প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে প্রক্টর ও বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের রবীন্দ্র ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) দুই নেতাও হেনস্তা ও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মারধরের শিকার সাংবাদিকরা হলেন রাবি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক।

অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল, সামি (২০২৪-২৫), ওমি (২০২২-২৩), আহমেদ রিয়াদ (২০২২-২৩), জিহাদ (২০১৯-২০), সামির (২০২৩-২৪) ও আতিকসহ (২০১৯-২০) ৮-১০ জন শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মার্কেটিং বিভাগের তিনজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের মেসেঞ্জারে জানান, বিভাগের সিনিয়ররা তাদের মিট-আপের নামে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখছেন এবং র‌্যাগ দিচ্ছেন। তারা জানান, বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র ভবনের পাশের সাইকেল গ্যারেজ এলাকায় তাদের বসার কথা রয়েছে এবং সেখানে প্রক্টরকে নিয়ে যেতে বলেন।

খবর পেয়ে সাংবাদিকরা এবং একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের পাঁচটি সারিতে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন তাদের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা। এ সময় সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন।

পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভিডিওতে র‌্যাগিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপরই সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী। তারা ভিডিও ডিলিট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন এবং বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও গালাগাল করেন। জুনিয়র শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করার জন্য তাদের ডাকা হয়েছিল। তবে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে সিনিয়রদের দাবি ছিল, তারা খেলা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

ভিডিও ডিলিট করতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ও কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী বারবার সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে সেখানে আরো কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত হলে তাদেরও আটকে রাখা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মামলা করার ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে আসেন রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির এবং বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর। তবে তাদের হস্তক্ষেপেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি; বরং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আরো উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী এবং শিক্ষক ড. নুরুজ্জামান। তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি প্রক্টর অফিসে বসে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তখনও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা কাউকে সেখান থেকে যেতে দিতে চাইছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে প্রক্টর অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় হঠাৎ করেই সাংবাদিক আবু বকর অনিককে উদ্দেশ্য করে ‘আমাদের স্যারের সামনে হাঁটছিস?’ বলেই মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল তার মুখে থাপ্পড় ও পেটে লাথি মারেন। এরপর সামি, ওমি, আহমেদ রিয়াদ, জিহাদ, আতিক ও সামিরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

একপর্যায়ে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল হয়ে সাংবাদিকদের মারধর করতে থাকেন। একই সময়ে সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশনের মুখে একাধিক থাপ্পড় মারা হয়, সাংবাদিক জুবায়ের জিসানকে মাথা ও পিঠে ঘুষি-লাথি মারা হয় এবং রাকসুর দুই নেতাকেও গালাগাল ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর দুজনকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

চলে আসার সময়ও মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা উচ্চৈঃস্বরে বলতে থাকেন, ‘Marketing is a brand. This is marketing. একদম মেরে সোজা করে ফেলব।’ 

সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশনকে উদ্দেশ করে ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান জিহাদ বলেন, ‘ওরে ভালো মুখে বলেছিলাম ভিডিওটা ডিলিট করতে। ও শুনল না। পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগে ওর অবস্থা খারাপ করে ছাড়ব।’

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের খবর পেয়ে আমি প্রক্টর স্যারকে কল করে জানাই। কিছুক্ষণ পর একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে যান এবং আমিও সেখানে যাই। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করি। সেখানে সারিবদ্ধভাবে জুনিয়রদের দাঁড় করিয়ে র‌্যাগ দেওয়া হচ্ছিল। আমাকে ভিডিও ডিলিট করতে চাপ দেওয়া হয়, গালাগালি করা হয় এবং পরে মারধর করা হয়। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল বলেন, ‘এটা আপনি ভুল তথ্য পেয়েছেন। একটা জটলা হয়েছিল, কথা-কাটাকাটি হয়েছে জাস্ট। সেখানে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।’

তবে একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ বলেন, ‘মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমিসহ কয়েকজন তাদের আটকানোর চেষ্টা করেছি। ঘটনার পর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা আমাকে ধন্যবাদও জানিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা আমার ওপর অভিযোগ দিচ্ছে।’

রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘মারধরের সময় আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি। তখন আমাদের গায়েও আঘাত লাগে। আমরা কেন আটকাতে গিয়েছি, এতে তারা ক্ষুব্ধ হয় এবং আমাদের পদ নিয়েও গালাগাল করে।’

মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। বিভাগের পক্ষ থেকে আগামী রবিবার এ ঘটনায় জড়িতদের ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলব। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে বসার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘মারধরের অধিকার তাদেরকে কেউ দেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কাউকে মারতে পারে না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ করেছে। অবশ্যই তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি নিজে সেখানে ছিলাম। সাংবাদিকদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর এবং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। এরপরও এমন ঘটনা আমাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, দোষীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা উচিত।’

র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের যেভাবে আমরা পেয়েছি, তাতে র‌্যাগিংয়ের সব ধরনের লক্ষণ ছিল।’

সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সামনেই সাংবাদিক ও রাকসুর নেতাদের মারধর করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত জঘন্য অন্যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।’