• ই-পেপার

দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ প্রতিষ্ঠান

  • চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক
  • কার্যাদেশ কমে যাওয়া, জ্বালানিসংকট ও আর্থিক দুরবস্থায় বিপর্যস্ত শিল্প খাত পুনরায় চালুতে আর্থিক সহায়তা চান উদ্যোক্তারা

রেমিট্যান্সে সুবাতাস, জুনের ২৭ দিনে এলো ২৪৫ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রেমিট্যান্সে সুবাতাস, জুনের ২৭ দিনে এলো ২৪৫ কোটি ডলার
সংগৃহীত ছবি

চলতি মাসের প্রথম ২৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৯ কোটি ০৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। রবিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি জুন মাসের প্রথম ২৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৫২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এর আগে গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়।

গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এ ছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাস আয়ের রেকর্ড।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানাম করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (২৮ জুন ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা
ইউরো : ১৩৯ টাকা ৭২ পয়সা
পাউন্ড : ১৬২ টাকা ০৪ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৪৭ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৪ টাকা ৬৬ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৩ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৭৮ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ৩০ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ০৯ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৮ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৭ টাকা ২১ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলা বাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে সবশেষ সমন্বয়ে সোনা ও রুপার দাম যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা ও ১৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সোনা ও রুপা বিক্রি হচ্ছে সবশেষ নির্ধারিত দামে।

গতকাল শনিবার সকালে সোনা ও রুপার দাম বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এ ছাড়া ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকায়, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাটের বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
 

ব্যাংক আইনের নতুন ধারায় আপত্তি আইএমএফের

সংস্কারের পরিকল্পনা চেয়েছে সংস্থাটি আগের মালিকদের ফেরার সুযোগ বাতিল হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংক আইনের নতুন ধারায় আপত্তি আইএমএফের

দেশের ব্যাংক খাতে ব্যাপক সংস্কারের জন্য আবারও সময়সীমাভিত্তিক একটি কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশেষ করে ব্যাংক কোম্পানি আইনে নতুন সংযোজিত ধারা ১৮ (এ) নিয়ে কাঠামোগত আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সরকার ১ জুন আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করার পর চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে এসব শর্ত সামনে এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা ১৮ (এ) নিয়ে আইএমএফ গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইনের এ ধারার মাধ্যমে জোরপূর্বক একীভূত (মারজার) বা পুনর্গঠিত ব্যাংকের মালিকানা আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইএমএফের মতে এ বিধান আর্থিক খাতের সুশাসন ও জবাবদিহিতা দুর্বল করে এবং এটি কার্যত একটি আইনি ফাঁকফোকর তৈরি করেছে। এ অবস্থায় আইএমএফের শর্তপূরণ এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকার নীতিগতভাবে ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ধারা ১৮ (এ) পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। বিতর্কিত এ ধারা বাতিলের পাশাপাশি খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা, দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ কার্যকর করা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধের বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফ।

ব্যাংক খাতের বাইরে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও কঠোর শর্ত দিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফ সব খাতে অভিন্ন ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কার্যকর এবং ব্যাপকভাবে টার্নওভার কর আরোপের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার একক হারে ভ্যাট আরোপের ধারণার সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হলেও হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করতে চায়।

এ ছাড়া সরকার তাৎক্ষণিকভাবে টার্নওভার কর আরোপে অনাগ্রহী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে কোনো প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকলেও মোট লেনদেনের ওপর কর পরিশোধ করতে হয় এমন ব্যবস্থায় ব্যবসা খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর এ কর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করবে। সফরকালে তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রস্তুতি ও কাঠামোগত সংস্কারের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। এ মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ডিসেম্বরে নতুন ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। আইএমএফের প্রচলিত কোটাভিত্তিক নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪৬৪ কোটি এসডিআর, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬১৫ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন