• ই-পেপার

জাদুটোনা থেকে মুক্তির পরিক্ষিত আমল

যে ১০ জন নারী সাহাবি পৃথিবীতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন

আতাউর রহমান খসরু
যে ১০ জন নারী সাহাবি পৃথিবীতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন
সংগৃহীত ছবি

মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের আল্লাহ শেষ নবীর উত্তরসূরি এবং দ্বিন ও শরিয়তের বাহক ও প্রচারক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁরাও তাঁদের জীবনকে দ্বিন ইসলামের সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর ঈমান, ইখলাস, সততা ও পরহেজগারির প্রশংসা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করেছেন। তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।’ (সুরা : হুজরা, আয়াত : ৩)

দ্বিনের জন্য ত্যাগ, বিসর্জন ও জীবনদানে নারী সাহাবিরা পুরুষদের থেকে পিছিয়ে ছিলেন না, বরং তাঁরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। যেমন—ইসলামের জন্য প্রথম শাহাদাতবরণ করেন সুমাইয়া (রা.)। নারীদের এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিও দিয়েছে ইসলাম।
 
সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ নারী সাহাবি 
কমপক্ষে ২০ নারী সাহাবি দুনিয়ায় জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেছিলেন। যাঁদের ভেতর ১০ জনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো—

১. খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) : তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের মা। নারী-পুরুষ সবার ভেতর তিনিই সর্বপ্রথম ঈমান এনেছিলেন। যখন সবাই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে তিনি তাঁর জীবন, ভালোবাসা ও সম্পদ দ্বারা পাশে থেকেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, জিবরাইল (আ.) নবী (সা.)-এর কাছে হাজির হয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এই যে খাদিজা, একটি পাত্র হাতে নিয়ে আসছেন। এই পাত্রে তরকারি অথবা খাদ্যদ্রব্য অথবা পানীয় ছিল। যখন তিনি পৌঁছে যাবেন তখন তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন আর তাঁকে জান্নাতের এমন একটি ভবনের সুসংবাদ দেবেন, যার অভ্যন্তর ভাগ ফাঁকা-মোতি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে থাকবে না কোনো প্রকার শোরগোল; কোনো প্রকার দুঃখ-ক্লেশ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮২০)

২. ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (রা.) : তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অতি আদরের কন্যা এবং আলী (রা.)-এর স্ত্রী। হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর সম্মানিত মা। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, একবার ফাতিমা (রা.) নবীজি (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হন। নবীজি (সা.) তাঁর কানে কানে কিছু কথা বলেন। এতে তিনি প্রথমে কাঁদেন এবং পরে হাসেন। আয়েশা (রা.) কারণ জানতে চাইলে তিনি রহস্য প্রকাশ করতে অপারগতা পেশ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি সেদিনের হাসি ও কান্নার কারণ জানান। তিনি বলেন, ‘তিনি প্রথমবার আমাকে বলেছিলেন, জিবরাইল (আ.) প্রতিবছর একবার আমার সঙ্গে কোরআন পাঠ করতেন, এই বছর দুইবার পড়ে শুনিয়েছেন। আমার মনে হয় আমার বিদায়ের সময় উপস্থিত এবং অতঃপর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তা শুনে আমি কেঁদে দিলাম। এরপর বলেছিলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে জান্নাতবাসী নারীদের অথবা মুমিন নারীদের তুমি সরদার হবে? এ কথা শুনে আমি হেসেছিলাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬২৩)

৩. আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.) : তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন। তাঁর পিতা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। নবীজি (সা.) স্ত্রীদের ভেতর তাঁকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন এবং তাঁর ঘরেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকাল হয়। নবীজি (সা.)-এর ইন্তেকালের পর নববী জ্ঞানের প্রসারে তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই জিবরাইল (আ.) সবুজ রঙের এক টুকরা রেশমি কাপড়ে তাঁর প্রতিচ্ছবি নিয়ে আসেন এবং বলেন, ইনি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার স্ত্রী। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৮০)

এই হাদিসে যদিও আয়েশা (রা.)-কে সরাসরি জান্নাতি বলা হয়নি, কিন্তু জান্নাতি না হলে পরকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রী হওয়া সম্ভব নয়।

৪. হাফসা বিনতে উমর (রা.) : তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মানিত স্ত্রী, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কন্যা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার নারী। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে (এক) তালাক দেন। তখন তাঁর কাছে জিবরাইল (আ.) এসে বলেন, হে মুহাম্মদ! আপনি হাফসাকে তালাক দিয়েছেন, অথচ তিনি অধিক পরিমাণে রোজা ও নামাজ আদায়কারী। তিনি জান্নাতে আপনার স্ত্রী। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ফিরিয়ে নেন।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস : ৬৭৯০)

৫. সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত (রা.) : তিনি ছিলেন অগ্রগামী একজন নারী। ইসলাম গ্রহণের কারণে মক্কার মুশরিকরা তাঁকে, তাঁর ছেলে আম্মার (রা.) ও তাঁর স্বামী ইয়াসার (রা.)-এর ওপর অকথ্য নির্যাতন করে। আবু জাহাল তাঁর লজ্জাস্থানে বর্শা নিক্ষেপ করলে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তিনিই ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ। উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন, আমি আবু আম্মার, উম্মে আম্মার ও আম্মার (রা.)-এর উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘হে ইয়াসার পরিবার! ধৈর্য ধারণ করো। তোমাদের প্রতিশ্রুত স্থান জান্নাত।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস : ৫৬২০)

৬. উম্মে জুফারা (রা.) : এই নারী সাহাবি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় না। তিনি ছিলেন একজন দীর্ঘদেহী কৃঞ্চাঙ্গ নারী। তিনি মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আতা ইবনু আবু রাবাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতি নারী দেখাব না? আমি বললাম, অবশ্যই। তখন তিনি বললেন, এই কালো রঙের নারী, সে নবী (সা.)-এর কাছে এসেছিল। সে বলল, আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই এবং তখন আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়। সুতরাং আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। নবী (সা.) বললেন, তুমি যদি চাও ধৈর্যধারণ করতে পারো। তোমার জন্য আছে জান্নাত। আর তুমি যদি চাও, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন তোমাকে আরোগ্য করেন। স্ত্রী লোকটি বলল, আমি ধৈর্যধারণ করব। সে বলল, তখন আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়, কাজেই আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমার লজ্জাস্থান খুলে না যায়। নবী (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৫২)

৭. উম্মে সুলাইম রুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.) : তিনি ছিলেন আনাস (রা.)-এর মা, তাঁকে গুমাইসাও বলা হতো। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম। সেখানে কারো চলার শব্দ পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তারা বলল, গুমাইসা বিনতে মিলহান, আনাস বিন মালিকের মা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬০৯৮)

৮. উম্মে হারাম বিন মিলহান (রা.) : তিনি ছিলেন উম্মে সুলাইম (রা.)-এর বোন, আনাস (রা.)-এর খালা এবং উবাদা বিন সামিত (রা.)-এর স্ত্রী। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর শাহাদাতের জন্য দোয়া করেছিলেন এবং বাস্তবেও তিনি জিহাদ থেকে ফেরার সময় শহীদ হন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২৮২)
আর শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত।

৯. ফাতেমা বিনতে আসাদ (রা.) : তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মানিত চাচি ও আলী (রা.)-এর মা। তিনি ইন্তেকাল করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের কাপড় দিয়ে তাঁকে কাফন পরান, জানাজার নামাজের ইমামতি করেন এবং নিজ হাতে কবরে লাশ রাখেন। উমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন মায়ের পরে আমার মা। আমি আমার কাপড় দিয়ে তাঁকে কাফন পরিয়েছি, যেন তাঁকে জান্নাতের কাপড় পরিধান করানো হয়। জিবরাইল (আ.) আমার রবের পক্ষ থেকে আমাকে জানিয়েছেন, তিনি জান্নাতি। (আল মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, হাদিস : ৪৬৩১; আল মাফহুমুস সহিহ লিত-তাওয়াসসুল, পৃষ্ঠা : ৪৬)

১০. উম্মে রোমান বিনতে আমের (রা.) : তিনি ছিলেন আয়েশা (রা.)-এর সম্মানিত মা। তিনি ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী সাহাবিদের একজন ছিলেন। তাঁকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি একজন জান্নাতি হুর দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন উম্মে রোমানকে দেখে।’ (তাবাকাতুল কুবরা, হাদিস : ১০৭১৩)
আল্লাহ আমাদেরও জান্নাতের অধিবাসী করুন। আমিন।

ইসলামে দক্ষতা অর্জন যখন ইবাদত

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
ইসলামে দক্ষতা অর্জন যখন ইবাদত
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান বিশ্বে দক্ষতা (স্কিল) একটি বড় সম্পদ। শুধু ডিগ্রি নয়, বরং কর্মদক্ষতাও মানুষকে সামাজিক ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে। ইসলামের দৃষ্টিতে উপকারী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন শুধু দুনিয়াবি সফলতার উপায় নয়; বরং তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত থাকলে তা ইবাদতেও পরিণত হতে পারে। বুখারি শরিফের প্রথম হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমল (এর প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা কোনো মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে, যে জন্য সে হিজরত করেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১)

পবিত্র কোরআন মানুষকে ঈমান-তাকওয়ার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও উৎপাদনশীলতার শিক্ষা দেয়। মানুষ যে বিষয়ে সাধনা করে, চেষ্টা করে, মহান আল্লাহ তাকে সে বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করে দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর এই যে মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩৯)

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের একেকজনকে একেক জগতে দক্ষতা দেন। একেকজনের মধ্যে একেক গুণ দিয়ে দেন, যা পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় অতি জরুরি। তাই তো রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী তাঁদের গড়ে তুলতেন। যেমন—তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর প্রখর মেধা ও আমানতদারি দেখে তাঁকে ওহি লেখার দায়িত্ব দেন এবং বিদেশি ভাষা শেখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীকালে তিনি কোরআন সংকলনের মতো ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। এটি প্রমাণ করে, ভাষা ও প্রশাসনিক দক্ষতাও ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ।

(সিয়ারু আ’লামিন নুবালা : ২/৪২৮-৪২৯, তাহযীবুল আসমা ওয়াল-লুগাত : ১/২০০—২০১; আসহাবে রাসুলের জীবনকথা : ৪/৭৭)
এমনিভাবে মুআজ ইবনে জাবাল (রা.)ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করেন। ফলে মহান আল্লাহ তাঁকে বহু গুণে গুণান্বিত করেন। তিনি ছিলেন একাধারে একজন মুফতি, প্রাদেশিক গভর্নর, দূত, সাহসী সেনাপতি, বিজয়ী যোদ্ধা, জাকাত উসুলকারী, মজলিসে শুরার সদস্য ও কোরআন-হাদিসের শিক্ষক। তাঁর ব্যাপারেই রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে শরিয়তের হালাল-হারাম সম্বন্ধে অধিক বিজ্ঞ মুআজ ইবনে জাবাল।’ (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৭/২৭১—২৭২, আল-ইসতিআব : ৩/১৪০২—১৪০৩, আল-আ’লাম [জিরিকলী] : ৭/২৫৮)

মহানবী (সা.)-এর আরেক সাহাবি আবু মাহযুরাহ (রা.)। তিনি ছিলেন, মহানবী (সা.)-এর মনোনীত চার মুয়াজ্জিনের একজন। তাঁর অসাধারণ কণ্ঠ ও মেধা দেখে মহানবী (সা.) তাঁকে প্রথমে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং পরবর্তী সময়ে আজান শিক্ষা দেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি আজীবন মসজিদে হারামের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/১১৭, সাহাবায়ে কেরামের আলোকিত জীবন, পৃষ্ঠা : ৩৫০)

এতে বোঝা যায়, ইবাদতের ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি যাকে দিয়ে ইসলামের যে কাজটা সহজ ও সুন্দর হবে, তাকে সে প্রশিক্ষণ দিয়ে সে দায়িত্বে রাখা উত্তম।

দক্ষতা উন্নয়নের সবচেয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় এক অভাবী ব্যক্তির ঘটনায়। সাহায্য চাইতে এলে রাসুল (সা.) তাকে ভিক্ষা দিয়ে বিদায় করেননি; বরং তার ঘরের কিছু জিনিস বিক্রি করিয়ে একটি কুঠার কিনে নিজ হাতে তাতে হাতল লাগিয়ে দেন এবং কাঠ কেটে বিক্রি করে জীবিকা অর্জনের পরামর্শ দেন। অল্প কিছুদিন পর লোকটি স্বাবলম্বী হয়ে ফিরে আসে, তখন তার কাছে ১০ দিরহাম ছিল। সে তার নিজের উপার্জিত অর্থের বিনিময়ে কাপড় ও খাবার কিনেছিল। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৪১ অবলম্বনে)

এ ঘটনার মাধ্যমে নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন, সাময়িক সাহায্যের চেয়ে মানুষের স্কিল ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থা করে তাদের আত্মনির্ভর করে তোলা অধিক কল্যাণকর।

বর্তমান যুগের মুসলমানদের জন্য ইসলামের ফরজ জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভাষা শিক্ষা, ব্যবসা, কৃষি—সব খাতের জ্ঞান অর্জন করাই গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ একজন ব্যক্তির জন্য সব বিষয়ে পারদর্শী হওয়া সম্ভব নয়। তবে যার যে বিষয়ে সম্ভাবনা আছে, তাকে ইসলামের মৌলিক জ্ঞানের পাশাপাশি সে বিষয়ে এগিয়ে দেওয়া সবার দায়িত্ব। প্রত্যেক মুসলমানের ওপর যেমন ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা ফরজ, তেমনি দুনিয়ায় ইসলামের গৌরব সমুন্নত রাখতে জাগতিক জ্ঞানেও স্বনির্ভর হতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ইসলামকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সঠিক পদ্ধতিতে জ্ঞান অর্জন করাও ইবাদত হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২ ‍জুলাই ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২ ‍জুলাই ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৬ মহররম, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—
জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৬ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪২ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫১ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৫ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

যে ৭ গুনাহ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়

অনলাইন ডেস্ক
যে ৭ গুনাহ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়
প্রতীকী ছবি

ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী মুমিনের জন্য পরীক্ষার হলের মতো। পরকালে সফল হতে অবশ্যই এই পরীক্ষায় সফলকাম হতে হবে। এরপরই মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২)

এজন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে গুনাহ বা পাপ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.) এর আদর্শ এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে বান্দাদের নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধ করেছেন নবীজি। এরমধ্যে একটি হাদিসে তিনি ধ্বংসকারী সাতটি কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। এ কথা শুনে সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! (সা.) সেগুলো কি? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, (১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, (২) যাদু, (৩) আল্লাহ তা’আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা, (৪) সুদ খাওয়া, (৫) ইয়াতিমের (এতিম) সম্পদ গ্রাস করা, (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৭৮)