• ই-পেপার

পরিবেশমন্ত্রী

শব্দদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি মানুষকে বোঝাতে হবে

বাংলাদেশকে ১৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশকে ১৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ১৫০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। চলতি মাসের শেষে তিনটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ অনুমোদন দেবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদ। গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যম।

চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায় চাপের মুখে থাকা রাষ্ট্রীয় তহবিলের জন্য এই সহায়তা বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে।

এর মধ্যে র‌্যাপিড রেসপন্স অপশন (আরআরও) উইন্ডোর অধীন বিদ্যমান প্রকল্প ঋণ বরাদ্দ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। দেশের দুর্বল আর্থিক কাঠামো ও ব্যাংকিং খাতের সার্বিক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। জরুরি সার আমদানি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাখা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোচনায় জড়িত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ডিসি ও ঢাকা উভয় স্থানেই কয়েক দফা বৈঠকের পর এই সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ ত্রৈমাসিকে বর্ধিত জ্বালানি ও সার আমদানি বিল পরিশোধ করতে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ২৬১ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে।

 

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল সোমবার রাত ৯টা ২৯ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে।

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও আবহাওয়া অধিদপ্তর ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল ১৬ কিলোমিটার পূর্বে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল), যা অগভীর হিসেবে বিবেচিত।

আবহাওয়াবিদরা বলেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় একই মাত্রার গভীর ভূমিকম্পের তুলনায় এর কম্পন উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকায় বেশি অনুভূত হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ১৮ জুন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ ছাড়া ১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৪.৫ মাত্রার এবং ৭ জুন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

গুজব প্রতিরোধে অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
গুজব প্রতিরোধে অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি চলছে
জহির উদ্দিন স্বপন

দেশজুড়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ঠেকাতে সরকারের নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, তথ্য অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে একটি বিশেষায়িত ‘গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি’ ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য দ্রুত যাচাই করে সরকারের পক্ষ থেকে ‘তথ্যবিবরণী’ ও ‘প্রতিবাদলিপি’ গণমাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি আরো জানান, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো নিজ নিজ এলাকার অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে অপপ্রচার ও সাইবার হয়রানি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত নিবন্ধ ও ফিচার প্রকাশ করা হচ্ছে।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্টচেকিং উদ্যোগ ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এরই মধ্যে মূলধারার গণমাধ্যমের আদলে তৈরি ১৬টি ভুয়া ওয়েবসাইট এবং ৪০০টির বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে। অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে বাংলাফ্যাক্ট এ পর্যন্ত ৭৮৩টি ফ্যাক্টচেক, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ২২৯টি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি ভাইরাল দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভুয়া তথ্য প্রচারে জড়িত ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টির বেশি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টও শনাক্ত করা হয়েছে। গুজব মোকাবেলায় সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৬৪ জেলায় ১২৩টি প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচ হাজার ৯৭৭ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ৩৬৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন। মন্ত্রী আরো জানান, প্রশিক্ষণগুলোতে ফ্যাক্টচেকিং কৌশল, অপতথ্য মোকাবেলা এবং সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের কাজ সহজ করতে পিআইবি শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করবে।

 

 

 

সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী

বিদ্যুেকন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনা হচ্ছে সেচব্যবস্থায় ৩৪৫৭ সোলার স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যুেকন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনা হচ্ছে সেচব্যবস্থায় ৩৪৫৭ সোলার স্থাপন
ইকবাল হাসান মাহমুদ

বেসরকারি খাতে পরিচালিত বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরো জানান, কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশে তিন হাজার ৪৫৭টি সোলার ইরিগেশন বা সৌরচালিত সেচব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বিভিন্ন চুক্তির কার্যকারিতা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং বর্তমান জ্বালানি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বিবেচনায় সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর বিদ্যমান চুক্তিগুলোও মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কুইক রেন্টাল কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর সরকারি নীতির অংশ হিসেবে দেশের সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্র অবসরে পাঠানো হয়েছে। ফলে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে এবং খাতটিকে আরো টেকসই ও দক্ষ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘ মেয়াদে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌর, বায়ু ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকারি দলের এমপি মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিএডিসি, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) প্রকল্পের মাধ্যমে তিন হাজার ৪৫৭টি সোলার সেচব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যয় ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার সৌরচালিত সেচপাম্প স্থাপনে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিরোধী দলের এমপি মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে দেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুদের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস মজুদ ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন করা হয়েছে। ১০ জুন পর্যন্ত দেশে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার ৫৬২ টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল তিন লাখ ৯৭ হাজার ১৯৯ টন, অকটেন ৪৪ হাজার ৮৩ টন, পেট্রল ১৯ হাজার ১৬৪ টন, ফার্নেস অয়েল ৭৬ হাজার ৭১২ টন, জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৩২৯ টন, কেরোসিন ১৩ হাজার ৯১৬ টন।