বেসরকারি খাতে পরিচালিত বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরো জানান, কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশে তিন হাজার ৪৫৭টি সোলার ইরিগেশন বা সৌরচালিত সেচব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বিভিন্ন চুক্তির কার্যকারিতা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং বর্তমান জ্বালানি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বিবেচনায় সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর বিদ্যমান চুক্তিগুলোও মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কুইক রেন্টাল কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর সরকারি নীতির অংশ হিসেবে দেশের সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্র অবসরে পাঠানো হয়েছে। ফলে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে এবং খাতটিকে আরো টেকসই ও দক্ষ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘ মেয়াদে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌর, বায়ু ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকারি দলের এমপি মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিএডিসি, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) প্রকল্পের মাধ্যমে তিন হাজার ৪৫৭টি সোলার সেচব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যয় ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার সৌরচালিত সেচপাম্প স্থাপনে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিরোধী দলের এমপি মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে দেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুদের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস মজুদ ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন করা হয়েছে। ১০ জুন পর্যন্ত দেশে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার ৫৬২ টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল তিন লাখ ৯৭ হাজার ১৯৯ টন, অকটেন ৪৪ হাজার ৮৩ টন, পেট্রল ১৯ হাজার ১৬৪ টন, ফার্নেস অয়েল ৭৬ হাজার ৭১২ টন, জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৩২৯ টন, কেরোসিন ১৩ হাজার ৯১৬ টন।