লস অ্যাঞ্জেলেসে রাউন্ড অব ৩২-এর প্রথম ম্যাচে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা ম্যাচটির প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ছবি : রয়টার্স
নক আউটের আনন্দে কঙ্গো
- রোনালদোদের ড্র
দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ
দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা ম্যাচটির প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল

আজকের খেলা

ব্রাজিল-জাপান (রাত ১১টা)
জার্মানি-প্যারাগুয়ে (রাত ২-৩০ মিনিট)
নেদারল্যান্ডস-মরক্কো (কাল সকাল ৭টা)
‘সাদা পতাকা’ নিয়ে উদ্বেগ
ভুল বার্তা গেলে হুমকিতে পড়তে পারে বিনিয়োগ ও শ্রমবাজার

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই দেশে বিভিন্ন দেশের পতাকা টানানোর সংস্কৃতি নতুন নয়। তবে এবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরবি হরফে কালেমাখচিত বিশেষ নকশার সাদা পতাকা টানানোকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের প্রতীক ভুলভাবে ‘উগ্রবাদী’ গোষ্ঠীর প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হলে দেশের ভাবমূর্তি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রবাসী শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কয়েক সপ্তাহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বগুড়া, যশোর, দিনাজপুর, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমাখচিত সাদা
পতাকা টানানোর ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাও হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কয়েকটি স্থানে পতাকা সরিয়ে দিলেও পরে আবার সেগুলো টানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এটি ইসলামের কালেমাবাহী নিশান, কোনো দেশি বা বিদেশি উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীক নয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতীকের অর্থ শুধু স্থানীয় ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিকভাবে কোনো প্রতীক যদি উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীকের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে বিদেশি গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, খেলার সঙ্গে সম্পর্কহীন এ ধরনের পতাকা প্রদর্শন অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবরের মতে, বাস্তবে বাংলাদেশে এমন কোনো উগ্রবাদী উত্থান না থাকলেও কিছু মানুষের অতিউৎসাহী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এতে দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অংশীদারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এমন সময়ে ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য শোডাউন বা বিতর্ক দেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে ব্যবসায়ী নেতারাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নয়, একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক পরিবেশ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও মূল্যায়ন করেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব এ ধরনের বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখে। ফলে ভুল বার্তা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে কর্মরত এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর দেশগুলোতে বাংলাদেশের বিষয়ে ভুল ধারণা তৈরি হলে ভবিষ্যতে শ্রমবাজারেও অযাচিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সাদা পতাকা টানানোর বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে। এটি নিছক ফুটবল উন্মাদনার অংশ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জামায়াত আমির
জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন; বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। এই কৃতিত্ব বাংলাদেশের যুবসমাজের।’
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘এই আন্দোলনের প্রধান নায়ক তারেক রহমান।’ তারেক রহমান এই বাজেট দিয়েছেন। কাজেই এত বড় বাজেট নিয়ে আপনারা যে চিন্তিত, আমি মনে করি, আপনাদের এত চিন্তার কোনো কারণ নেই। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে।”
জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি আমার একটা বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। হ্যাঁ, আমি বক্তব্য রেখেছি, কিন্তু সময়টা আপনি সঠিকভাবে বলেননি। এই সময়টা ছিল ২৪ সালের এপ্রিল মাস। আর পরিবর্তনটা হয়েছে ২৪ সালের আগস্টে। আগস্টের ৫ তারিখের পর আমার এই বক্তব্য। ওই সময় যাঁদের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে, আমার মনে হয়, আমরা সবাই অন্তর থেকে তাঁদের সম্মান করি, ভালোবাসি। তাঁদের এই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, ‘ড. ইউনূস আমেরিকায় গিয়ে একজনকে মাস্টারমাইন্ড বলেছিলেন। আমি তাঁর ওই কথার প্রতিবাদ করে বলেছি, এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। আমাদের যুবসমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। আর মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।’
