• ই-পেপার

খাবেন বুঝেশুনে

  • ঈদুল আজহার সময় ঘরে ঘরে রান্না হয় কোরবানির মাংসের বিভিন্ন পদ। গুরুপাক খাবার খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন। ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও লিভার রোগীদের জন্য বিষাদের কারণ হয়ে উঠতে পারে অতিভোজ। ঈদের খাবার পরিকল্পনা নিয়ে লিখেছেন পুষ্টিবিদ সামসুন নাহার স্মৃতি

চোখ

জন্মগত গ্লকোমা

গ্লকোমা শুধু বয়স্ক ডায়াবেটিক রোগীদের রোগ নয়, সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকেরও হতে পারে। এমন ঘটনা বিরল, ১০ হাজার শিশুর মধ্যে একজনের এমনটি হয়ে থাকে। চিকিৎসা না হলে শিশুর চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। জন্মগত গ্লকোমা নিয়ে লিখেছেন ডা. মো. আরমান হোসেন রনি

জন্মগত গ্লকোমা
শিশুর চোখ পরীক্ষা করছেন চিকিৎসক। ছবি : সংগৃহীত

শিশুদের মধ্যে গ্লকোমা বিরল এক রোগ। ১০ হাজারে একজন শিশুর ক্ষেত্রে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় বা জন্মের কিছু সময় পার হলে এই রোগ দেখা দিতে পারে। নবজাতকের চোখের সমস্যা শনাক্ত করা দুরূহ, তাই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন। দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এমনকি চিরতরে অন্ধও হয়ে যেতে পারে শিশু। তাই অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

 

কেন হয় জন্মগত গ্লকোমা

চোখের অভ্যন্তরীণ তরল সঠিকভাবে নিষ্কাশিত না হলে দেখা দেয় জন্মগত গ্লকোমা। এমনটা হওয়ার প্রধান কারণ হলো চোখের কোণের অস্বাভাবিক গঠন। চোখের কোণের আকৃতি স্বাভাবিক হলে চোখের ভেতরের তরল সহজেই বের হতে পারে। কিন্তু জন্মগত গ্লকোমা আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এই কোণ ঠিকভাবে গঠিত হয় না, ফলে তরল সঠিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না এবং চোখের চাপ বৃদ্ধি পায়।

বংশগত কারণে হয় এ রোগ। পিতা-মাতা যদি বংশগতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে সন্তানও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া কিছু জিনগত মিউটেশন জন্মগত গ্লকোমার সঙ্গে সম্পর্কিত।

 

উপসর্গ

শিশুর বয়স অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে জন্মগত গ্লকোমার লক্ষণ। সাধারণ কিছু উপসর্গের মধ্যে আছে—

♦ চোখের আকৃতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
পাওয়া : শিশু জন্মের পর বা কয়েক মাসের মধ্যে চোখ বড় হয়ে কোটর থেকে বেরিয়ে পড়লে সেটি গ্লকোমার লক্ষণ।

♦ পানি ঝরা : কিছু সময় পর পর চোখে পানি ঝরে।

♦ আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা : কড়া আলোর দিকে তাকাতে অস্বস্তি বোধ করে শিশু, জ্বালা দেখা দিতে পারে।

♦ চোখ বেঁকে যাওয়া : চোখের আকৃতি বদলে যেতে পারে বা কোটরের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে চোখ।

 

নির্ণয়

গ্লকোমার উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে গ্লকোমার উপস্থিতি নির্ণয় করবেন চিকিৎসক। বয়স অনুসারে নির্ণয় পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, যেমন—

♦ চোখের চাপ পরিমাপ করা।

♦ কর্নিয়ার পরিধি পরিমাপ

♦ গোনিওস্কোপি

♦ আলট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য ইমেজিং টেস্ট

জন্মগত গ্লকোমার প্রকোপ দ্রুত বাড়ে, তাই চিকিৎসায় অল্প বিলম্ব হলেও স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা রয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসার সাফল্যের হার বাড়ে।

 

চিকিৎসা

জন্মগত গ্লকোমার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং দৃষ্টিশক্তি সংরক্ষণ। এর মধ্যে রয়েছে—

♦ শল্যচিকিৎসা : গোনিওটোমি করে চোখের কোণে ফুটো করে চোখের তরল নিষ্কাশন করা, ট্রাবেকুলেকটোমি করে চোখের ভেতরের অতিরিক্ত চাপ কমাতে তরল বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা, গ্লকোমা ড্রেনেজ ইমপ্লান্টের মাধ্যমে চোখে একটি ছোট ডিভাইস স্থাপন করে ভেতরের তরল বের করার ব্যবস্থা তৈরি ইত্যাদি।

♦ ওষুধ : শিশুর বয়স অনুযায়ী চোখে টপিক্যাল ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ওষুধ প্রয়োগ না করে সার্জারি করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

চিকিৎসা শেষে শিশুর চোখ নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

জটিলতা

জন্মগত গ্লকোমার চিকিৎসা সময়মতো না করলে যেসব জটিলতা তৈরি করতে পারে—

♦ স্থায়ী চোখের ক্ষতি ও অন্ধত্ব।

♦ চোখের আকৃতি বদলে যাওয়া বা ডিফর্মেশন।

♦ অন্যান্য চক্ষু সমস্যা, যেমন—চোখ বেঁকে যাওয়া বা কর্নিয়ার ক্ষতি।

যেহেতু জন্মগত গ্লকোমা বংশগতভাবে ছড়ায়, তাই গর্ভধারণের আগে পরিবারের ইতিহাস জানা গুরুত্বপূর্ণ। জিনেটিক কাউন্সেলিং করলে জন্মগত গ্লকোমার পাশাপাশি অন্যান্য বংশগত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও জন্মের পর শিশুর চোখের স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। মনে রাখা জরুরি, জন্মগত গ্লকোমা একটি গুরুতর রোগ হলেও এটি চিকিৎসাযোগ্য। দ্রুত নির্ণয় ও সার্জারি চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুকে অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করা যায়। অভিভাবক ও পরিবারের সচেতনতাই পারে শিশুকে এর থেকে রক্ষা করতে।

 

লেখক : কনসালট্যান্ট (চক্ষু)

দীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল

সোবাহানবাগ, ঢাকা

 

 

দন্ত চিকিৎসা

ঈদে দাঁতের বাড়তি যত্ন নিন

ডা. প্রদ্যুৎ কুমার সাহা রানা
ঈদে দাঁতের বাড়তি যত্ন নিন

ঈদ আনন্দ উদযাপনের ফাঁকে অনেকেই দাঁতের স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, ঈদের আমেজ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় দাঁতের শিরশিরানি, মাড়ি ফোলা বা তীব্র ব্যথা। ঈদুল আজহায় রান্না হয় মাংসের হরেক রকম পদ, যা দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই এ সময় দাঁতের সুস্থতায় সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 

সঠিক উপায়ে দাঁত পরিষ্কার

ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবেই মাংস বেশি খাওয়া হয়। মাংসের আঁশ খুব সহজেই দাঁতের ফাঁকে আটকে যায়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে এতে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে, সৃষ্টি করে মাড়ির প্রদাহ (Gingivitis) এবং দুর্গন্ধ।

টুথপিক ব্যবহার করবেন না : দাঁতের ফাঁকে মাংস আটকে গেলে অনেকেই কাঠ বা প্লাস্টিকের টুথপিক দিয়ে তা খোঁচানোর চেষ্টা করেন। এতে মাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা হয়ে যায়। টুথপিকের পরিবর্তে ‘ডেন্টাল ফ্লস’ (Dental Floss) দিয়ে আলতোভাবে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন। এটি দাঁত ও মাড়ির কোনো ক্ষতি না করেই আটকে থাকা খাবার বের করে আনে।

 

ব্রাশ করতে ভুলবেন না

মাংস ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর রাতে ব্রাশ না করা অত্যন্ত ক্ষতিকর। রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে নাশতার পর অবশ্যই অন্তত দুই মিনিট ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ভালো করে ব্রাশ করতে হবে।

 

হাড়ে কামড় দেবেন না

শক্ত হাড় কামড় দিয়ে হাড়ের মজ্জা (Bone Marrow) খাওয়ার চেষ্টা করেন অনেকেই। এটি দাঁতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত শক্ত হাড়ে কামড় দেওয়ার কারণে দাঁত ফ্র্যাকচার বা ভেঙে যেতে পারে, এমনকি দাঁতের ফিলিং কিংবা ক্যাপ থাকলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই হাড় চিবানো থেকে বিরত থাকুন।

 

কুলকুচি করা জরুরি

তেল-চর্বিযুক্ত ভারী খাবার খাওয়ার পর প্রতিবারই ভালো করে কুলকুচি করা উচিত। সম্ভব হলে হালকা কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করুন। এটি মাড়ির রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে এবং ব্যাকটেরিয়া জমতে দেয় না। রাতে ব্রাশ করার পর ভালো মানের অ্যালকোহলমুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।

 

মিষ্টি খাবেন সাবধানে

ঈদে মাংসের পাশাপাশি সেমাই, পুডিং বা কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া হয়। মিষ্টি ও অ্যাসিডিক খাবার দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং ক্যাভিটি বা ক্যারিজ তৈরি করে। তাই এগুলো খাওয়ার পরপরই জলদি কুলকুচি করা উচিত।

 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

♦ মাড়ি ফুলে গেছে বা ব্রাশ করার সময় রক্ত পড়ছে

♦ দাঁতে তীব্র ব্যথা বা ঠাণ্ডা-গরম কিছু খেলে প্রচণ্ড শিরশির করছে

♦ কোনো শক্ত হাড়ে কামড় লেগে দাঁত নড়ে গেছে বা ভেঙে গেছে

এসব ক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসা না করে দ্রুত একজন নিবন্ধিত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন। উৎসবের আনন্দ বজায় থাকুক, তবে তা যেন স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে। একটু সচেতনতা আর নিয়মিত যত্নই পারে ঈদের পরও আপনার মুখের হাসি সুন্দর ও রোগমুক্ত রাখতে।

 

লেখক : বিডিএস (ডিইউ) পিজিটি (কনজারভেটিভ)

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

কনসালট্যান্ট

ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

 

গবেষণা

ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপি

ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপি

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। রোগীর দেহের স্টেম সেল সংগ্রহ করে সেসব কোষের মধ্যে থাকা একটি বিশেষ জিন সরিয়ে স্টেম সেলগুলো আবারও রোগীর দেহে প্রবেশ করালে কয়েক ধরনের মারাত্মক ব্লাড ক্যান্সারের প্রকোপ কমানো যায়। প্রথাগত ইমিউনোথেরাপি বা জিনথেরাপি যেসব ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব রোগীর ক্ষেত্রেও এ চিকিৎসা কার্যকর। ১২ মে এ গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়।

মোট ১৫টি ক্যান্সার হাসপাতালে চালানো এ গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন জন এফ ডিপার্সিও। তিনি বলেন, বেশির ভাগ ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রথাগত সিএআর-টি ইমিউনোথেরাপি যথেষ্ট। কিন্তু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সারের প্রকোপ কমানো যায় না, উল্টো নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া ও মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোম রোগীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

পরীক্ষামূলক স্টেম সেল থেরাপি নেওয়ার পর বেশির ভাগ রোগীর ক্যান্সারের প্রকোপ কমে গেছে, তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিদ্যমান। যে ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপি প্রয়োগের কথা বলছেন গবেষকরা, সেসব ক্যান্সারে দ্রুতই মৃত্যু ঘটে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলেও রোগীর জীবন বাঁচানোকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।

ভবিষ্যতে মারাত্মক ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির পাশাপাশি স্টেম সেল থেরাপি দেওয়ারও সুপারিশ করেছেন গবেষকরা। তবে আগে এ থেরাপির দীর্ঘমেয়াদি কোনো জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না, সেটি জানা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুলও, সব রোগীর জন্য এই চিকিৎসা সহজলভ্য করাও সহজ হবে না।

 

♦ ডাক্তার আছেন ডেস্ক

 

বধিরতার ৭ কারণ

বধিরতার ৭ কারণ