আমার বিসিএস ক্যাডার পছন্দক্রমে প্রথমেই ছিল প্রশাসন। ভাইভা বোর্ডে ছিলাম ১০ মিনিটের মতো।
চেয়ারম্যান : আপনি কোথায় পড়াশোনা করেছেন?
স্যার, খুলনা মেডিক্যাল কলেজে।
আপনিও ডাক্তার! আগের জন কি আপনার ব্যাচমেট?
জি স্যার।
আপনি কোথায় চাকরি করছেন?
একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্যাথলজির লেকচারার হিসেবে আছি।
৪৪ ও ৪৮তম বিসিএসে আপনার ফল কী ছিল?
স্যার, আমি ৪৪তম আর ৪৮তম দুটি বিসিএসেই স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। ৪৮তম বিসিএসে আপনার বোর্ডেই ভাইভা দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
প্রথম পছন্দ কী?
স্যার, বিসিএস প্রশাসন।
(একটু হেসে) আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ক্যাডারে আসতে চাচ্ছেন নাকি?
স্যার, আপনারাই আমার অনুপ্রেরণা। আমি যখন থেকে বিসিএস দেব ঠিক করেছি, তখন থেকেই আমার অ্যাডমিন ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন। ৪৫তম বিসিএসে আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।
একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা হিসেবে আপনার কী কী গুণ থাকা উচিত?
ধন্যবাদ, স্যার। একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা হিসেবে আমি মূলত পাঁচটি প্রধান গুণকে প্রাধান্য দেব—
১. কার্যকর নেতৃত্ব : মাঠ পর্যায়ে একটি বড় টিমকে কার্যকর করতে এবং উৎসাহ জোগাতে সামনে থেকে দিকনির্দেশনা।
২. সততা ও নৈতিকতা : যেকোনো প্রলোভন বা চাপের মুখে নিজের নৈতিকতায় অবিচল থেকে সরকারি আমানত রক্ষা।
৩. জনসেবার মানসিকতা : নিজেকে জনগণের শাসক নয়, বরং সেবক মনে করা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল থাকার চেষ্টা।
৪. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা : জটিল বা জরুরি পরিস্থিতিতে আইন ও যুক্তির ভিত্তিতে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস।
৫. পেশাদারি ও নিরপেক্ষতা : ব্যক্তিগত আবেগ বা পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন।
আপনি বললেন লিডারশিপের কথা। আপনি কি আপনার মেডিক্যাল লাইফে কোনো লিডারশিপে জড়িত ছিলেন? কোনো ক্লাবের সদস্য ছিলেন?
স্যার, আমি সন্ধানীর সক্রিয় সদস্য ছিলাম।
ব্লাড ডোনেট করেছেন?
জি স্যার, আমি ১০ বারের মতো ব্লাড ডোনেট করেছি।
গাজা (ফিলিস্তিন) শান্তিচুক্তিতে কয়টি দফা আছে?
স্যার, ২০টি।
কী কী গ্রিনহাউস গ্যাস আছে?
গ্রিনহাউস গ্যাস হলো বায়ুমণ্ডলের সেসব গ্যাস, যা পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ আটকে রেখে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে। এর মধ্যে প্রধান হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, ওজোন এবং বিভিন্ন ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি)।
এক্সটার্নাল-১ : ধরুন, একজন কর্মকর্তা হিসেবে আপনি জানতে পারলেন অফিসের একজন ঘুষ খায় এবং একজন দেরি করে আসে। আপনি কী ব্যবস্থা নেবেন?
একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাকে নীতিগতভাবে কঠোর কিন্তু পদ্ধতিগতভাবে কৌশলী হতে হবে। আমি দুটি সমস্যাকে ভিন্নভাবে সমাধান করব—
এক. ঘুষ বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে—দুর্নীতির বিষয়ে আমি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করব। যেহেতু এটি একটি গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ, তাই আমি সরাসরি অ্যাকশনে যাব। প্রথমে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ (যেমন—দালিলিক প্রমাণ বা ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য) সংগ্রহ করব। প্রমাণ পাওয়ার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানাব। দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। তাই এখানে আপস করব না।
দুই. দেরিতে আসা মূলত শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা। এ ক্ষেত্রে আমার প্রথম পদক্ষেপ হবে কাউন্সেলিং। আমি তাকে ডেকে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলব, দেরিতে আসার কারণ জানার চেষ্টা করব। যদি কোনো যৌক্তিক পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে, তবে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছাড় দিয়ে মূলধারায় ফেরার সুযোগ দেব। তবে সতর্ক করার পরও যদি অভ্যাসের পরিবর্তন না হয়, তবে অফিসের হাজিরা খাতায় ‘লাল কালি’ দেওয়া বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার মতো দাপ্তরিক পদক্ষেপ নেব।
এক্সটার্নাল-২ : Why Communication skill is important in cadre service?
In cadre service, communication skill is indispensable as it acts as the vital bridge between government policies and the general public. A cadre officer must possess the ability to simplify complex legal or administrative orders for citizens, ensuring transparency and building public trust. Furthermore, during crises or emergencies, precise and authoritative communication is essential for maintaining law and order and coordinating between various departments.
In which article of constitution duty of a civil service officer is written?
21.
Can you describe?
(আমি ২১ নম্বর অনুচ্ছেদটি ইংরেজিতে বললাম। এরপর স্যার আমাকে কাগজ নিয়ে চলে যেতে বললেন। ৪৮তম বিসিএসেও এই স্যারের বোর্ডে ভাইভা দিয়েছিলাম। স্যার খুব হাসিখুশি ও বন্ধুসুলভ। তিনি সাধারণত কম সময়েই ভাইভা শেষ করেন।)




