• ই-পেপার

৫ মাসে মালয়েশিয়ায় ৩০ হাজার বিদেশি আটক

  • কড়া অবস্থানে ইমিগ্রেশন বিভাগ, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে মালিকদের বিরুদ্ধেও

জাপানের পর নেপালও ভারতের আম আমদানিতে দিল নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
জাপানের পর নেপালও ভারতের আম আমদানিতে দিল নিষেধাজ্ঞা

ভারতীয় আমের সুনাম রয়েছে বিশ্বব্যাপী। সেই আম নিয়ে এলো খারাপ সংবাদ। অতিরিক্ত মাত্রার রাসায়নিক কীটনাশক শনাক্ত হওয়া জাপানের পর নেপালও ভারতীয় আমের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সীমান্ত কোয়ারেন্টিনে রাখা আমদানীকৃত আমের চালান পরীক্ষায় ক্ষতিকর এই পদার্থের উপস্থিতি পায় কোয়ারেন্টিন পরিদর্শকরা। খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে নেপালের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমদানি নিষেধাজ্ঞাটি এপ্রিল-মে মাস থেকে কার্যকর রয়েছে বলে জানা গেছে। 

জাপানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর নেপালের এই পদক্ষেপ ভারতের আম রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপটিকে নেপালি কর্তৃপক্ষ দেশীয় জাতের ফলের সুযোগ স্থানীয়ভাবে বাড়ার উপকার হিসেবে তুলে ধরছে। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য রাইজিং নেপাল’কে ভূমি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনীশ কুমার পাল বলেছেন, সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্বাস্থ্যকর ফলের জন্য আরো বেশি সুযোগ তৈরি করেছে।

এই প্রসঙ্গে নেপাল সরকার জানিয়েছে, ভোক্তার স্বাস্থ্যই তাদের অগ্রাধিকার এবং খাদ্যের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। গ্রীষ্মকালে নেপালে আমের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সেখানকার মানুষের কাছে আম একটি প্রিয় ফল হিসেবে বিবেচিত। 

কিন্তু ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেপালি ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও নেপাল একটি আম উৎপাদনকারী দেশ এবং আমদানির চেয়ে বেশি রপ্তানি করে। তবু স্থানীয় চাহিদা মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া নেপালি আমের মৌসুম মাত্র দুই মাস স্থায়ী হয়।

তাই দেশের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে আম আমদানি করে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে আম সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তাই ফল ব্যবসায়ীরা ভারতীয় ফলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে আরো কঠোর কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার দাবি জানায়।

অন্যদিকে জাপানের নিষেধাজ্ঞাটি কীটনাশকের কারণে নয়। মূলত ভারতীয় রপ্তানি কেন্দ্রগুলোতে পোকা দমন ব্যবস্থা, বাষ্পীয় তাপ চিকিৎসা এবং কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়ার পরিচালনগত ত্রুটি খুঁজে পাওয়ার শুধু ২০২৬ মৌসুমে আম আমদানি স্থগিত করেছে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

অনলাইন ডেস্ক
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

চলমান সংঘাতে ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলায় চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত সোমবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেলআবিবে। এতে ইসরায়েলের রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটির একটি হ্যাঙ্গার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, গত সোমবার স্যাটেলাই কর্তৃক তোলা একটি ছবিতে হ্যাঙ্গারটি যেখানে অবস্থিত ছিল। সেই স্থানে একটি কালো দাগ দেখা যাচ্ছে। যা ৫ জুনের ছবির সাথে তুলনা করলে, দেখা যায় তাতে কোন দাগ ছিল না। 

একটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্র থেকে দেখা গেছে, উত্তর ইসরায়েলের রামাট ডেভিড বিমান ঘাঁটির একটি হ্যাঙ্গার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় হ্যাঙ্গারটিতে আঘাত হানা হয়ে থাকতে পারে। 

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঘাতের সময় কাঠামোটির ভেতরে কী ছিল? কতটা ক্ষতির হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আন্দোলনকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, তদন্তের আওতায় ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আন্দোলনকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, তদন্তের আওতায় ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী
ছবি : রয়টার্স

গাজা নৌবহরের অংশ থাকা আন্দোলনকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ইতালীয় প্রসিকিউটররা ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে তদন্তের আওতায় এনেছেন। সোমবার একটি বিচার বিভাগীয় সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি ইতালীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী প্রতিবেদনগুলো নিশ্চিত করেছে, আন্দোলনকর্মীদের মধ্যে থাকা ইতালীয় নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও অপহরণের সন্দেহে বেন-গভিরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে যদি অভিযোগ দায়েরের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়, তবে প্রসিকিউটররা বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারেন।

ইতালীয় তদন্তের জবাবে বেন-গভির এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি কোনো তদন্ত থেকে পিছিয়ে আসব না এবং আমাদের যোদ্ধাদের পাশে গর্বের সাথে দাঁড়াব।’

ইতালির ভৌগোলিক আকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘বুটের দেশটি এখন ফ্লিপ-ফ্লপের দেশে পরিণত হয়েছে।’ তার এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।

মঙ্গলবার এক্স-এ তাজানি লিখেছেন, ‘ইতালি সম্পর্কে বেন-গভির যা বলেছেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করার মতো কোনো ভাষা আমার কাছে নেই। অগ্রহণযোগ্য কথা, যা আমরা প্রেরকের কাছেই ফেরত পাঠাচ্ছি। এগুলো একজন মন্ত্রীর জন্য শোভন নয়।’

ফ্লোটিলার কর্মীরা অপমানিত

আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েল একটি সাহায্যবাহী নৌবহর আটক করার পর, মে মাসের শেষের দিকে মন্ত্রী বেন-গভির একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। যেখানে দেখা যায় আটক গাজার কর্মীরা হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। এর পর থেকে ইসরায়েল ও বেন-গভির ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি পুলিশের হাতে আটক হওয়া ৪৩০ জন কর্মীর মধ্যে ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকও ছিলেন। এক্স-এ বেন-গভিরের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়ার পর কর্মকর্তারা একজন কর্মীকে মাটিতে শুইয়ে দেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার কর্মীদের সঙ্গে এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে এবং ব্যাখ্যার জন্য ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। এরপর ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করতে বলেছে, অন্যদিকে ফ্রান্স বেন-গভিরকে তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নৌবহরের আয়োজকরা বলছেন, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
 

৩৪ তলায় কিনেছিলেন ফ্ল্যাট, পরে ক্রেতা জানলেন ভবনই ৩২ তলা

অনলাইন ডেস্ক
৩৪ তলায় কিনেছিলেন ফ্ল্যাট, পরে ক্রেতা জানলেন ভবনই ৩২ তলা
সংগৃহীত ছবি

চীনের শানসি প্রদেশে এক অভিনব আবাসন জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। চার বছর আগে এক ব্যক্তি একটি বহুতল ভবনের ৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। তবে পরে জানতে পারেন, ভবনটি আসলে ৩২ তলার। এই প্রতারণার শিকার হয়ে ওই ক্রেতা এখন নিজের জমানো টাকা ফেরত পাচ্ছেন না, মেলেনি কোনো আইনি ক্ষতিপূরণও। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

হতাশ ওই ক্রেতার নাম শেন। তিনি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের শিয়ান শহরের বাসিন্দা। ২০১৩ সালে শিয়ান শহরের উপকণ্ঠে একটি গ্রামীণ এলাকায় নির্মাণাধীন ওই ভবনে ৯০ বর্গমিটারের একটি ফ্ল্যাট বুকিং দেন তিনি। প্রতি বর্গমিটারের দাম ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৬৪৬ ইউয়ান (প্রায় ৪০০ মার্কিন ডলার)।

স্থানীয় বাজারদরের চেয়ে এই ফ্ল্যাটের দাম ছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। কম দামের কারণ হিসেবে জানা গেছে, ফ্ল্যাটটি ছিল ‘সীমিত সম্পত্তির অধিকার’ (লিমিটেড প্রোপার্টি রাইটস) নীতিমালার আওতাধীন। চীনে গ্রামীণ সমবায় জমিতে গড়ে ওঠা অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই নামে ডাকা হয়। এই ধরনের ফ্ল্যাট কেনাবেচা আইনিভাবে বৈধ নয় এবং কোনো আইনি সুরক্ষা পাওয়া যায় না। তবে দাম সস্তা হওয়ায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এই ফ্ল্যাটগুলো কেনেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে শেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম পরিশোধ করেন। ডেভেলপার কম্পানি তাকে আশ্বাস দিয়েছিল, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্র ও শংসাপত্র পরে ঠিক করে নেওয়া হবে। যদিও দেশটির আইন অনুযায়ী অবৈধ প্রকল্পের বৈধতা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

২০১৫ সালের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। পরে ২০১৭ সালে ডেভেলপার কোম্পানি শেনকে জানায় ভবনটির কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি টাকা পরিশোধ করতে বলে। কিন্তু শেন ফ্ল্যাটের চাবি না পাওয়া পর্যন্ত বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এর কয়েক মাস পরই আসল সত্যটি সামনে আসে। ডেভেলপার কোম্পানি শেনকে জানায়, ভবনটিতে ৩৪ তলা বলে কিছু নেই, সেটি আসলে ৩২ তলা। কোম্পানি তাকে ৩২ তলায় একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সে সময় বাকি টাকা জোগাড় করতে পারেননি শেন। এর দুই মাস পর তাকে জানানো হয়, ৩২ তলার ফ্ল্যাটটিও অন্য কারও কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো উপায় না দেখে শেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সালিশের আবেদন করেন। সালিশি আদালত ডেভেলপার কোম্পানিকে শেনের বাকি ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান এবং সেই সঙ্গে ২৭ হাজার ইউয়ান সুদ ও ৪৭ ইউয়ান জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশের পরও এখন পর্যন্ত শেন তার পাওনা টাকা ফেরত পাননি। পরে তিনি স্থানীয় দেওয়ানি আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত ওই ডেভেলপারের ওপর ‘ভোগ-ব্যয় নিষেধাজ্ঞা’ (কনসাম্পশন রেস্ট্রিকশন অর্ডার) জারি করে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, ওই ডেভেলপারের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা বা অন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তি নিবন্ধিত নেই। ফলে শেনের টাকা আদায়ের বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

এই ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এই ধরনের সস্তা ও অবৈধ ফ্ল্যাট কেনার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। তবে অনেক সাধারণ ক্রেতা বলছেন, প্রতি মাসে ফ্ল্যাট ভাড়ার টাকা দেওয়ার চেয়ে এমন ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকে না।