• ই-পেপার

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ২ সেনা কর্মকর্তা নিহত

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে হতাহত বেড়ে ৩০

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে হতাহত বেড়ে ৩০
ছবি : গ্লোবাল কাশ্মীর

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হতাহত বেড়ে ৩০ হয়েছে। এতে ২০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি অঞ্চলটিতে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছিল ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি) নামে একটি সামাজিক সংগঠন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান সরকার আন্দোলন পরিচালনাকারী সংগঠন জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

জোটটিকে নিষিদ্ধের ঘটনায় রাওলাকোটে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বল প্রয়োগ করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালালে এক ব্যবসায়ী প্রাণ হারান। 

ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গত রবিবার রাওয়ালকোট শহরে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

রাওয়ালকোট প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সরদার ওয়াহিদ খান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যবসায়ীর মরদেহ রাওয়ালকোটের একটি হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাসপাতালের বাইরে জেএএসির সমর্থকরা জড়ো হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মারণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। অভিযান চলাকালে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

প্রশাসনের দাবি, গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৭০ জন আহত হয়েছে। 

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও জেএএসি সমর্থকরা সরকারি হতাহতের বিরোধিতা করে জানান, পুলিশের গুলিতে হতাহত দাঁড়ায় ৩০ জনে। আহত ২০০-এর বেশি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান প্রশাসন পুরো অঞ্চলে অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে, ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা বন্ধ করে দিয়েছে এবং বড় ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলি বারবার উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া দুই ক্রু সদস্যই সুস্থ আছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি ইরান-নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালিতে বিধ্বস্ত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ড্রোন পানিতে তাদের খুঁজে পেয়ে দুজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে। 

প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং তারা এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। তবে এখনো জানা যায়নি হেলিকপ্টারটি কিভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এটি ইরানি হামলায় ভূপাতিত হয়েছে কি না, নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং পরে বিস্তারিত প্রতিবেদন জানানো হবে।

তিনি নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাইলটরা ভালো আছেন, কেউ আহত হননি।’

ইরান ও ইসরায়েল সোমবার জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর তারা একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ করেছে এবং ৮ এপ্রিল ঘোষণা হওয়া একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে ফিরে গেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ইসরায়েলি হামলায় তাদের দুজন বিমান প্রতিরক্ষা সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের জানাজা মঙ্গলবার দুপুরে তেহরানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা বন্ধের পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম আগের দিনের বেশিরভাগ বাড়তি মূল্য হারায়। এর আগে দুই দেশের পাল্টা হামলার কারণে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। তবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তারা আবার সংঘর্ষ শুরু করবে।

এদিকে মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের শহর টাইরের বাসিন্দাদের জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায়। এই নির্দেশে শহরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগে এই ধরনের সতর্কতার বাইরে ছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ওই এলাকায় হিজবুল্লাহ সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে, তবে এর কোনো প্রমাণ তারা প্রকাশ করেনি।

ল্যান্ডস্পেসের ঝুকুয়ে-২ই ওয়াই৬ রকেটে মহাকাশে ২ উপগ্রহ পাঠাল চীন

অনলাইন ডেস্ক
ল্যান্ডস্পেসের ঝুকুয়ে-২ই ওয়াই৬ রকেটে মহাকাশে ২ উপগ্রহ পাঠাল চীন
সংগৃহীত ছবি

চীনের বেইজিংভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ কম্পানি ল্যান্ডস্পেস সফলভাবে তাদের ঝুকুয়ে-২ই ওয়াই৬ উৎক্ষেপণযান ব্যবহার করে দুটি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের দোংফেং মহাকাশ উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক এলাকা থেকে এই রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

কম্পানিটি জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের পর রকেটটি সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে দুটি উপগ্রহ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। পুরো অভিযানটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং এটি সফল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উৎক্ষেপিত দুটি উপগ্রহের নাম স্পেসসেইল ডিটিসি ০১ এবং চায়না মোবাইল ০২। এই দুই উপগ্রহকে বিশেষভাবে বিভিন্ন যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে।

সরকারি ও উন্মুক্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন একটি সফল উৎক্ষেপণের পর স্পেসসেইল জানায়, তাদের স্পেসসেইল কনস্টেলেশনে ইতোমধ্যে ২০০টি উপগ্রহ যুক্ত হয়েছে। নতুন এই দুটি উপগ্রহ সেই ধারাবাহিক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্ষপথে যুক্ত হলো।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, চায়না মোবাইল ০২ উপগ্রহের মাধ্যমে সরাসরি মোবাইল ফোনে ব্রডব্যান্ড সেবা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি মহাকাশভিত্তিক এবং ভূমিভিত্তিক নেটওয়ার্ক একসঙ্গে কাজ করার প্রযুক্তিও এই উপগ্রহের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

এই উৎক্ষেপণ ছিল ঝুকুয়ে-২ সিরিজ রকেটের অষ্টম সফল ফ্লাইট।

ল্যান্ডস্পেসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝুকুয়ে-২ই ওয়াই৬ রকেটের ব্যাস ৩ দশমিক ৩৫ মিটার। এর সর্বোচ্চ ফেয়ারিং ব্যাস ৪ দশমিক ২ মিটার। রকেটটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে ৬ টন পর্যন্ত এবং ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতার সূর্য-সমলয় কক্ষপথে ৪ টন পর্যন্ত পে-লোড বহন করতে সক্ষম।

কম্পানিটি আরো জানায়, রকেটটির দ্বিতীয় ধাপের ইঞ্জিন ফ্রেমে আধুনিক ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি একীভূত কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ফাঁপা শঙ্কু আকৃতি এবং ওয়াই-আকৃতির প্রধান বিম নকশা রয়েছে, যা ইঞ্জিনের চাপ ও ধাক্কা কার্যকরভাবে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

এই উন্নত নকশার ফলে রকেটের কাঠামোগত দৃঢ়তা বেড়েছে, একই সঙ্গে এর ওজন ও উৎপাদন খরচ কমেছে। উৎপাদন ও সংযোজন প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে দ্রুত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ল্যান্ডস্পেসের ঝুকুয়ে-২ সিরিজ বর্তমানে তরল অক্সিজেন ও মিথেন জ্বালানিচালিত মাঝারি ক্ষমতার আধুনিক উৎক্ষেপণযানগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কম্পানিটি জানিয়েছে, এই রকেট একাধিক উপগ্রহ একসঙ্গে উৎক্ষেপণের জন্য উপযোগী একটি নমনীয় ব্যবস্থা সমর্থন করে। পাশাপাশি এটি সমতল প্যানেলযুক্ত উপগ্রহ নিয়ে বড় আকারের কনস্টেলেশন নেটওয়ার্ক গঠনের কাজেও ব্যবহার করা যাবে।

ভবিষ্যতে ঝুকুয়ে-৩ পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণযানের সঙ্গে সমন্বয় করে আরো উন্নত ও সমন্বিত মহাকাশ উৎক্ষেপণ সেবা তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে ল্যান্ডস্পেসের।

ফিলিপাইনের ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৩৭, বাস্তুচ্যুত ৩২০০০

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনের ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৩৭, বাস্তুচ্যুত ৩২০০০
ছবি : রয়টার্স

গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭ জন নিহত এবং ৩২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। 

দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে সরকারি নথিতে মাত্র চারজনকে নিখোঁজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর স্বীকার বলেছে, সম্ভাব্য জীবিত বা নিহতদের সন্ধানে বেশ কয়েকটি ধসে পড়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে তল্লাশি চালাতে হবে। 

ফিলিপাইনের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দ্বীপ মিন্দানাও। এর উপকূল কেন্দ্র করে হওয়া এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫০০ জন আহত এবং ৩২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। যারা নিজেদের বাড়ি ছেড়েছিলেন তাদের অনেকেই সুনামির ভয়ে ভীত ছিলেন।

ফিলিপাইনে জোয়ারের স্তর থেকে ১.৪ মিটার (৪.৬ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ পরিমাপ করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও পালাউ, এমনকি সুদূর দক্ষিণ জাপানের উপকূলেও ছোট ছোট ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। ভূমিধস ও ভবন ধসে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভূমিকম্পটি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন রেখে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে সাত লাখের বেশি জনসংখ্যার একটি  উপকূলীয় শহর জেনারেল সান্তোস। শহরটি দেশটির টুনা রাজধানী হিসেবে পরিচিত। সেখানে ভবন ধসে এবং ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রোর মতে, সারাঙ্গানি প্রদেশে অন্তত ১৮ জন মারা গেছেন। তাদের বেশির ভাগই বাড়িঘরের নিচে ভূমিধসে চাপা পড়ে মারা যান।

দুর্যোগ মোকাবেলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সাউথ কোতাবাতো ও দাভাও অক্সিডেন্টাল এবং বালুত দ্বীপে।

সরকারের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রদেশে প্রায় দুই হাজার ৫০০টি বাড়ি এবং ১১৭টি সরকারি ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেনারেল সান্তোসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ থাকায় মানবিক মিশনের ফ্লাইটগুলো ছাড়া ৬৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

ক্লাস পুনরায় শুরু করার আগে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত প্রদেশগুলোর প্রায় ছয় হাজার সরকারি স্কুল ভবন মূল্যায়ন করতে হবে। দুই মাসের গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর দেশব্যাপী ক্লাস শুরুর প্রথম দিনেই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং আহতদের মধ্যে অনেকেই ছিল তরুণ শিক্ষার্থী। তারা সকালের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের জন্য জড়ো হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, পরবর্তী কম্পনের কারণে ফাটল ধরা ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে। আলেহান্দ্রো বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে স্কুল খোলার জন্য জোর করতে পারি না, কারণ আমাদের ভবনগুলোর অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে হবে।’ ১৯৭৬ সালের পর এটিই ছিল ফিলিপাইনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

সোমবার ফিলিপাইনে হওয়া ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সমুদ্রের প্রায় ৩৩ কিলোমিটার গভীরে। এটি সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি সংস্থা।

সংস্থার পরিচালক তেরেসিতো বাকোলকল বলেন, এটি ১৯৭৬ সালের ১৭ আগস্টের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। ওই সময় একই এলাকায় ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ৮ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। ১৯৭৬ সালের সেই ভূমিকম্পে ৮ থেকে ১০ মিটার উঁচু সুনামির ঢেউ অনেক শহর ও গ্রাম ধ্বংস করে দেয়।

ভূমিকম্প সংস্থাটি জানিয়েছে, আগস্টে ১৯৭৬ সালের সেই ঘটনার বার্ষিকী উপলক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা চিহ্ন বসানোর পরিকল্পনা ছিল, যাতে মানুষ সচেতন থাকে। এ ছাড়া ১৯৯০ সালে আরেকটি ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বর্তমান ভূমিকম্পের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান ও নিউজিল্যান্ড ফিলিপাইনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, তাই দেশটি প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকিতে থাকে। এ ছাড়া প্রতি বছর বহু টাইফুন ও ঝড় আঘাত হানে, ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ।