• ই-পেপার

কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে সিআইডির তল্লাশি

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের দুই সামরিক কর্মকর্তা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের দুই সামরিক কর্মকর্তা নিহত

ইসরায়েলের চালানো এক হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের উচ্চপদস্থ দুই সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন বাহমান হোসেইনি এবং আলিরেজা আবিরি। তেহরানের আকাশসীমা রক্ষার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি হামলায় তারা প্রাণ হারান। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। গত সোমবার ইসরায়েলের চালানো হামলায় তারা শহীদ হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুই কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গত রবিবার ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালালে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিমান হামলা চালায়।

সোমবার উভয়পক্ষের হামলা অব্যাহত ছিল। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাময়িকভাবে একে অপরের ওপর সামরিক হামলা স্থগিত করেছে ইরান ও ইসরায়েল। তবে লেবাননের ওপর নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে উভয়পক্ষ।

ফিলিপাইনের ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৩৭, বাস্তুচ্যুত ৩২০০০

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনের ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৩৭, বাস্তুচ্যুত ৩২০০০
ছবি : রয়টার্স

গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭ জন নিহত এবং ৩২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। 

দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে সরকারি নথিতে মাত্র চারজনকে নিখোঁজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর স্বীকার বলেছে, সম্ভাব্য জীবিত বা নিহতদের সন্ধানে বেশ কয়েকটি ধসে পড়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে তল্লাশি চালাতে হবে। 

ফিলিপাইনের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দ্বীপ মিন্দানাও। এর উপকূল কেন্দ্র করে হওয়া এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫০০ জন আহত এবং ৩২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। যারা নিজেদের বাড়ি ছেড়েছিলেন তাদের অনেকেই সুনামির ভয়ে ভীত ছিলেন।

ফিলিপাইনে জোয়ারের স্তর থেকে ১.৪ মিটার (৪.৬ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ পরিমাপ করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও পালাউ, এমনকি সুদূর দক্ষিণ জাপানের উপকূলেও ছোট ছোট ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। ভূমিধস ও ভবন ধসে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভূমিকম্পটি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন রেখে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে সাত লাখের বেশি জনসংখ্যার একটি  উপকূলীয় শহর জেনারেল সান্তোস। শহরটি দেশটির টুনা রাজধানী হিসেবে পরিচিত। সেখানে ভবন ধসে এবং ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রোর মতে, সারাঙ্গানি প্রদেশে অন্তত ১৮ জন মারা গেছেন। তাদের বেশির ভাগই বাড়িঘরের নিচে ভূমিধসে চাপা পড়ে মারা যান।

দুর্যোগ মোকাবেলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সাউথ কোতাবাতো ও দাভাও অক্সিডেন্টাল এবং বালুত দ্বীপে।

সরকারের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রদেশে প্রায় দুই হাজার ৫০০টি বাড়ি এবং ১১৭টি সরকারি ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেনারেল সান্তোসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ থাকায় মানবিক মিশনের ফ্লাইটগুলো ছাড়া ৬৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

ক্লাস পুনরায় শুরু করার আগে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত প্রদেশগুলোর প্রায় ছয় হাজার সরকারি স্কুল ভবন মূল্যায়ন করতে হবে। দুই মাসের গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর দেশব্যাপী ক্লাস শুরুর প্রথম দিনেই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং আহতদের মধ্যে অনেকেই ছিল তরুণ শিক্ষার্থী। তারা সকালের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের জন্য জড়ো হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, পরবর্তী কম্পনের কারণে ফাটল ধরা ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে। আলেহান্দ্রো বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে স্কুল খোলার জন্য জোর করতে পারি না, কারণ আমাদের ভবনগুলোর অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে হবে।’ ১৯৭৬ সালের পর এটিই ছিল ফিলিপাইনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

সোমবার ফিলিপাইনে হওয়া ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সমুদ্রের প্রায় ৩৩ কিলোমিটার গভীরে। এটি সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি সংস্থা।

সংস্থার পরিচালক তেরেসিতো বাকোলকল বলেন, এটি ১৯৭৬ সালের ১৭ আগস্টের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। ওই সময় একই এলাকায় ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ৮ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। ১৯৭৬ সালের সেই ভূমিকম্পে ৮ থেকে ১০ মিটার উঁচু সুনামির ঢেউ অনেক শহর ও গ্রাম ধ্বংস করে দেয়।

ভূমিকম্প সংস্থাটি জানিয়েছে, আগস্টে ১৯৭৬ সালের সেই ঘটনার বার্ষিকী উপলক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা চিহ্ন বসানোর পরিকল্পনা ছিল, যাতে মানুষ সচেতন থাকে। এ ছাড়া ১৯৯০ সালে আরেকটি ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বর্তমান ভূমিকম্পের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান ও নিউজিল্যান্ড ফিলিপাইনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, তাই দেশটি প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকিতে থাকে। এ ছাড়া প্রতি বছর বহু টাইফুন ও ঝড় আঘাত হানে, ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ।

বিশ্বকাপ টিকিট বরাদ্দ বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ টিকিট বরাদ্দ বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের
ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য তাদের যে টিকিট বরাদ্দ ছিল, তা যুক্তরাষ্ট্র বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তকে তারা রাজনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক বিরোধের অংশ হিসেবে দেখছে।

ইরানের ফুটবল সংস্থার দাবি, টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানি সমর্থকদের মাঠে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, দুই দেশের চলমান তীব্র কূটনৈতিক বিরোধ এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ফেডারেশন আরো জানায়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর একাধিক প্রশাসনিক বাধা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের কিছু সহায়ক স্টাফদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পর থেকে।

ইরানের ফুটবল ফেডারেশন জানায়, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের জন্য মোট টিকিটের আট শতাংশ বরাদ্দ থাকে। এই টিকিটগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করে পরে সরকারি প্রক্রিয়ায় সমর্থকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, বরাদ্দ পাওয়ার পর ইরান ইতিমধ্যে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এই তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনেক সমর্থক ইতিমধ্যেই ভ্রমণ ও অন্যান্য প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই সেই বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন। বিবৃতিতে বলা হয়, অপ্রত্যাশিতভাবে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনকে দেওয়া টিকিটের বরাদ্দ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের সমর্থকদের জন্য একটি টিকিটও বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানি সমর্থকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরো একবার সামনে চলে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

যত দিন বেঁচে থাকব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি : দেব

অনলাইন ডেস্ক
যত দিন বেঁচে থাকব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি : দেব

ভারতের লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল (টিএমসি) সাংসদদের সঙ্গে নেই, দিদির পাশে ছিলেন সারা জীবন থাকবেন বলে জানিয়েছেন টিএমসি সাংসদ দেব (দীপক অধিকারী)। মঙ্গলবার (৯ জুন) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক শেষে বাইরে বেরিয়ে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

দেব স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘নতুন তৃণমূলের’ সঙ্গে নেই। খবর এই সময় অনলাইন

দেব আরো বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভালোবাসা সারা জীবন থাকবে। যত দিন বেঁচে থাকব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি। তৃণমূলের সাংসদ হয়ে এসেছি। আমারও দায়িত্ব মানুষের স্বপ্নপূরণ করা। তবে নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না।’

গত সোমবার বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক করেছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদের। সেই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। 

সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের পরেই বিদ্রোহী লোকসভা তৃনমূল সদস্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় মোদি সরকারকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

তৃণমূলের একটি সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে তৃণমূলের যে সাংসদেরা বৈঠক করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দেবও ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, পরে সন্ধ্যায় তৃণমূলের সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে শুভেন্দুর উপস্থিতিতে বিদ্রোহীদের যে বৈঠক হয়েছে, সেখানেও দেব ছিলেন। শুধু ছিলেনই না, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু নাকি তাঁর গালও টিপে দিয়েছেন! 

যদিও দেব বা শুভেন্দু কারো তরফেই এই দাবির আনুষ্ঠানিক সমর্থন মেলেনি।