• ই-পেপার

দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলা, নিহত অন্তত পাঁচ

চিলিতে ১০০ টন মাদক জব্দ

অনলাইন ডেস্ক
চিলিতে ১০০ টন মাদক জব্দ
ছবি : রয়টার্স

ইউরোপে পাঠানোর জন্য কাঠের চালানের মধ্যে লুকানো ১০০ টনেরও বেশি মাদক জব্দ করেছে। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাদক জব্দ অভিযানগুলোর একটি বলে তারা উল্লেখ করেছে। চিলির কর্তৃপক্ষ সোমবার এ কথা জানিয়েছে।

কাস্টমস বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রসিকিউশন অফিস, নৌ পুলিশ এবং কাস্টমসের যৌথ অভিযানে মোট এক হাজার ৮০ টন কাঠ জব্দ করা হয়েছে। এর ভেতরে বিভিন্ন ধরনের মাদক ছিল।

জব্দ করা মাদকের মধ্যে মূলত কোকেন ও কেটামিন ছিল। ইউরোপের বাজারে এসব মাদকের মূল্য আনুমানিক ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারত বলে জানানো হয়েছে।

ছয় মাস ধরে চলা তদন্তের পর কর্তৃপক্ষ বলেছে, বলিভিয়া থেকে আসা ৪৫টি কনটেইনারে এই মাদক মেশানো কাঠ পাওয়া গেছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, যদি এসব পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাত, তাহলে বিশেষ ল্যাবে উন্নত রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাঠ থেকে মাদক আলাদা করা হতো। আরো সন্দেহজনক কনটেইনার পরীক্ষা করা হলে জব্দ করা মাদকের পরিমাণ বাড়তে পারে।

ট্রাম্পের নির্দেশেই কাজ করবে নেতানিয়াহু: গিদেওন লেভি

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের নির্দেশেই কাজ করবে নেতানিয়াহু: গিদেওন লেভি
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, ইসরায়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই কারণে দেশটি একাই মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালাতে পারবে, এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর কলাম লেখক ও বিশ্লেষক গিদেওন লেভি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।

তিনি বলেন, এটা একেবারেই পরিষ্কার যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘না’ বলার অবস্থায় ইসরায়েল নেই। আর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও নিশ্চিতভাবেই ‘না’ বলার অবস্থায় নেই।

লেভির মতে, বাস্তব পরিস্থিতি হলো ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে যা করতে বলবেন, তাকে ঠিক সেভাবেই তা করতে হবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেভি বলেন, গাজা, লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন। তার মতে, যুদ্ধ ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে অনেক সময় জনপ্রিয়তা পায়, যা সরকারকে আরো কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনও এ ধরনের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হল কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার চেয়ে নতুন যুদ্ধ শুরু করলে জনসমর্থন পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। ইসরায়েলে দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রবণতা দেখা যায়।

লেভির দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে হামলার পক্ষে জনমত ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। তবে তিনি মনে করেন, এই সমর্থন এখন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ইসরায়েলে এখন এক ধরনের যুদ্ধ ক্লান্তি তৈরি হয়েছে। মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করছে যে, এসব সামরিক অভিযানের বাস্তব কোনো লাভ নেই।

গাজা, লেবানন এবং ইরান- কোনো ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়নি বলে অনেকে মনে করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি মানুষ এটা বুঝতে পারবে- বলেন তিনি।

কৃষ্ণ সাগরে ‘ব্ল্যাক সি ২০২৬’ নৌ-মহড়া শুরু বুলগেরিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
কৃষ্ণ সাগরে ‘ব্ল্যাক সি ২০২৬’ নৌ-মহড়া শুরু বুলগেরিয়ার
সংগৃহীত ছবি

কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে নিজেদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে বুলগেরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ব্ল্যাক সি ২০২৬’ নামে এই কৌশলগত মহড়ায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, সহায়ক জাহাজ এবং বিভিন্ন সামরিক ইউনিট অংশ নিচ্ছে।

৮ জুন শুরু হওয়া এই মহড়া ১২ জুন পর্যন্ত চলবে। মহড়াটি বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমুদ্র এলাকায় বিভিন্ন সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং নৌবাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বুলগেরিয়ার নৌবাহিনীর ফ্লোটিলা কমান্ডার ফ্লিট অ্যাডমিরাল রাডকো পেনেভ। তার তত্ত্বাবধানে নৌবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নির্ধারিত সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে কৌশলগত অভিযান পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর সদর দপ্তর ও ফ্লোটিলার বিভিন্ন ইউনিটের দক্ষতা উন্নত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুলগেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌঘাঁটি 'বুরগাস' ও 'ভার্না' থেকে বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া নৌবাহিনীর অন্যান্য ইউনিট, সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত বাহিনীও এই মহড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

মহড়ার সময় সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত পরিস্থিতি তৈরি করে নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুতি যাচাই করা হবে। পাশাপাশি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা, যোগাযোগব্যবস্থা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষার বিভিন্ন দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।


 

পাকিস্তান ও লেবাননের সেনাপ্রধানের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান ও লেবাননের সেনাপ্রধানের বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান ও লেবাননের সামরিক বাহিনীর প্রধানরা মঙ্গলবার পাকিস্তানে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা যখন ধীরগতিতে চলছে, তখন এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।

পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে, যাতে মাসব্যাপী চলা সংঘাত শেষ করা যায়। ইরান বলছে, কোনো চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, কারণ সেখানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ চলছে।

লেবাননের সেনাপ্রধান রদোলফ হায়কাল শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে দেখা করতে দেশটিতে যান। লেবাননভিত্তিক একটি সূত্র জানায়, এই সফরটি বৃহত্তর শান্তি আলোচনার অংশ।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা জানিয়েছে, দুই সেনা প্রধান পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সামরিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। মুনির লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকের আগে হায়কালকে রাওয়ালপিন্ডিতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

লেবাননে সংঘাত সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। এই সফরের সময়ও সেখানে সংঘর্ষ চলতে থাকে। যদিও ইরান ও ইসরায়েল সোমবার জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে লড়াই থামিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি আলোচনাগুলো এখন ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে।

লেবানন এই যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে যখন হিজবুল্লাহ ২ মার্চ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়, যাতে প্রায় তিন হাজার ৬০০ জন নিহত হয়। যদিও একটি যুদ্ধবিরতি থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, কিন্তু এরপরই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলের ১৭ তারিখের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের ভেতরে একটি ‘ইয়েলো লাইন’ নির্ধারণ করে। যেখানে তাদের স্থল বাহিনী হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই করছে এবং দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।