• ই-পেপার

ডিআরসি কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০০

পাকিস্তানে ৮ জন নিরাপত্তাকর্মীকে অপহরণ, নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে ৮ জন নিরাপত্তাকর্মীকে অপহরণ, নিহত ৬
ছবি : রয়টার্স।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) যোদ্ধারা উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একটি চেকপয়েন্টে হামলা চালিয়ে ছয়জন আধাসামরিক সদস্যকে হত্যা এবং আরো আটজনকে অপহরণ করেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে। 

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকজন সদস্য সোমবার পেশোয়ার শহরের একটি চেকপয়েন্টে আগ্নেয়াস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং মর্টার শেল নিয়ে হামলা চালায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে এ কথা জানান।

পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনী ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির (এফসি) কথা উল্লেখ করে দ্বিতীয় একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘সশস্ত্র যোদ্ধাদের চালানো এক হামলায় এফসির ছয়জন সদস্য শহীদ এবং আরো চারজন আহত হয়েছেন।’ তিনি আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সম্মুখভাগের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। 

দ্বিতীয় সূত্রটি আরো  জানায়, ‘জঙ্গিরা এফসির আটজন সদস্যকে অপহরণ করে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে।’

মন্তব্যের অনুরোধে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। টিটিপি তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপহৃত ব্যক্তিদের একটি ছবি পোস্ট করে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

পাকিস্তান তার পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।

ইসলামাবাদ আফগানিস্তানকে যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে। তবে কাবুলের আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে।

গত মাসে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় একাধিক হামলায় সশস্ত্র যোদ্ধারা ২৬ জনকে হত্যা করে। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে  আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অনেক খারাপ হয়ে গেছে। এই কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন শুধু কথাবার্তায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সীমান্তে সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

চিলিতে ১০০ টন মাদক জব্দ

অনলাইন ডেস্ক
চিলিতে ১০০ টন মাদক জব্দ
ছবি : রয়টার্স

ইউরোপে পাঠানোর জন্য কাঠের চালানের মধ্যে লুকানো ১০০ টনেরও বেশি মাদক জব্দ করেছে। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাদক জব্দ অভিযানগুলোর একটি বলে তারা উল্লেখ করেছে। চিলির কর্তৃপক্ষ সোমবার এ কথা জানিয়েছে।

কাস্টমস বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রসিকিউশন অফিস, নৌ পুলিশ এবং কাস্টমসের যৌথ অভিযানে মোট এক হাজার ৮০ টন কাঠ জব্দ করা হয়েছে। এর ভেতরে বিভিন্ন ধরনের মাদক ছিল।

জব্দ করা মাদকের মধ্যে মূলত কোকেন ও কেটামিন ছিল। ইউরোপের বাজারে এসব মাদকের মূল্য আনুমানিক ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারত বলে জানানো হয়েছে।

ছয় মাস ধরে চলা তদন্তের পর কর্তৃপক্ষ বলেছে, বলিভিয়া থেকে আসা ৪৫টি কনটেইনারে এই মাদক মেশানো কাঠ পাওয়া গেছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, যদি এসব পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাত, তাহলে বিশেষ ল্যাবে উন্নত রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাঠ থেকে মাদক আলাদা করা হতো। আরো সন্দেহজনক কনটেইনার পরীক্ষা করা হলে জব্দ করা মাদকের পরিমাণ বাড়তে পারে।

ট্রাম্পের নির্দেশেই কাজ করবে নেতানিয়াহু: গিদেওন লেভি

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের নির্দেশেই কাজ করবে নেতানিয়াহু: গিদেওন লেভি
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, ইসরায়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই কারণে দেশটি একাই মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালাতে পারবে, এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর কলাম লেখক ও বিশ্লেষক গিদেওন লেভি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।

তিনি বলেন, এটা একেবারেই পরিষ্কার যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘না’ বলার অবস্থায় ইসরায়েল নেই। আর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও নিশ্চিতভাবেই ‘না’ বলার অবস্থায় নেই।

লেভির মতে, বাস্তব পরিস্থিতি হলো ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে যা করতে বলবেন, তাকে ঠিক সেভাবেই তা করতে হবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেভি বলেন, গাজা, লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন। তার মতে, যুদ্ধ ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে অনেক সময় জনপ্রিয়তা পায়, যা সরকারকে আরো কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনও এ ধরনের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হল কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার চেয়ে নতুন যুদ্ধ শুরু করলে জনসমর্থন পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। ইসরায়েলে দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রবণতা দেখা যায়।

লেভির দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে হামলার পক্ষে জনমত ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। তবে তিনি মনে করেন, এই সমর্থন এখন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ইসরায়েলে এখন এক ধরনের যুদ্ধ ক্লান্তি তৈরি হয়েছে। মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করছে যে, এসব সামরিক অভিযানের বাস্তব কোনো লাভ নেই।

গাজা, লেবানন এবং ইরান- কোনো ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়নি বলে অনেকে মনে করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি মানুষ এটা বুঝতে পারবে- বলেন তিনি।

কৃষ্ণ সাগরে ‘ব্ল্যাক সি ২০২৬’ নৌ-মহড়া শুরু বুলগেরিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
কৃষ্ণ সাগরে ‘ব্ল্যাক সি ২০২৬’ নৌ-মহড়া শুরু বুলগেরিয়ার
সংগৃহীত ছবি

কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে নিজেদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে বুলগেরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ব্ল্যাক সি ২০২৬’ নামে এই কৌশলগত মহড়ায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, সহায়ক জাহাজ এবং বিভিন্ন সামরিক ইউনিট অংশ নিচ্ছে।

৮ জুন শুরু হওয়া এই মহড়া ১২ জুন পর্যন্ত চলবে। মহড়াটি বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমুদ্র এলাকায় বিভিন্ন সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং নৌবাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বুলগেরিয়ার নৌবাহিনীর ফ্লোটিলা কমান্ডার ফ্লিট অ্যাডমিরাল রাডকো পেনেভ। তার তত্ত্বাবধানে নৌবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নির্ধারিত সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে কৌশলগত অভিযান পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর সদর দপ্তর ও ফ্লোটিলার বিভিন্ন ইউনিটের দক্ষতা উন্নত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুলগেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌঘাঁটি 'বুরগাস' ও 'ভার্না' থেকে বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া নৌবাহিনীর অন্যান্য ইউনিট, সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত বাহিনীও এই মহড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

মহড়ার সময় সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত পরিস্থিতি তৈরি করে নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুতি যাচাই করা হবে। পাশাপাশি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা, যোগাযোগব্যবস্থা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষার বিভিন্ন দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।