• ই-পেপার

সুপারসনিক পরীক্ষায় সফল নাসার এক্স-৫৯

কৃষ্ণ সাগরে ‘ব্ল্যাক সি ২০২৬’ নৌ-মহড়া শুরু বুলগেরিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
কৃষ্ণ সাগরে ‘ব্ল্যাক সি ২০২৬’ নৌ-মহড়া শুরু বুলগেরিয়ার
সংগৃহীত ছবি

কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে নিজেদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে বুলগেরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ব্ল্যাক সি ২০২৬’ নামে এই কৌশলগত মহড়ায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, সহায়ক জাহাজ এবং বিভিন্ন সামরিক ইউনিট অংশ নিচ্ছে।

৮ জুন শুরু হওয়া এই মহড়া ১২ জুন পর্যন্ত চলবে। মহড়াটি বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমুদ্র এলাকায় বিভিন্ন সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং নৌবাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বুলগেরিয়ার নৌবাহিনীর ফ্লোটিলা কমান্ডার ফ্লিট অ্যাডমিরাল রাডকো পেনেভ। তার তত্ত্বাবধানে নৌবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নির্ধারিত সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে কৌশলগত অভিযান পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর সদর দপ্তর ও ফ্লোটিলার বিভিন্ন ইউনিটের দক্ষতা উন্নত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুলগেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌঘাঁটি 'বুরগাস' ও 'ভার্না' থেকে বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া নৌবাহিনীর অন্যান্য ইউনিট, সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত বাহিনীও এই মহড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

মহড়ার সময় সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত পরিস্থিতি তৈরি করে নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুতি যাচাই করা হবে। পাশাপাশি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা, যোগাযোগব্যবস্থা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষার বিভিন্ন দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।


 

পাকিস্তান ও লেবাননের সেনাপ্রধানের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান ও লেবাননের সেনাপ্রধানের বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান ও লেবাননের সামরিক বাহিনীর প্রধানরা মঙ্গলবার পাকিস্তানে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা যখন ধীরগতিতে চলছে, তখন এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।

পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে, যাতে মাসব্যাপী চলা সংঘাত শেষ করা যায়। ইরান বলছে, কোনো চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, কারণ সেখানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ চলছে।

লেবাননের সেনাপ্রধান রদোলফ হায়কাল শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে দেখা করতে দেশটিতে যান। লেবাননভিত্তিক একটি সূত্র জানায়, এই সফরটি বৃহত্তর শান্তি আলোচনার অংশ।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা জানিয়েছে, দুই সেনা প্রধান পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সামরিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। মুনির লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকের আগে হায়কালকে রাওয়ালপিন্ডিতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

লেবাননে সংঘাত সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। এই সফরের সময়ও সেখানে সংঘর্ষ চলতে থাকে। যদিও ইরান ও ইসরায়েল সোমবার জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে লড়াই থামিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি আলোচনাগুলো এখন ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে।

লেবানন এই যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে যখন হিজবুল্লাহ ২ মার্চ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়, যাতে প্রায় তিন হাজার ৬০০ জন নিহত হয়। যদিও একটি যুদ্ধবিরতি থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, কিন্তু এরপরই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলের ১৭ তারিখের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের ভেতরে একটি ‘ইয়েলো লাইন’ নির্ধারণ করে। যেখানে তাদের স্থল বাহিনী হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই করছে এবং দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলা, নিহত অন্তত পাঁচ

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলা, নিহত অন্তত পাঁচ
সংগৃহীত ছবি

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত বন্ধের ঘোষণা এলেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা থামেনি। বরং সেখানে ইসরায়েলি হামলার মাত্রা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর টাইর এবং আশপাশের এলাকায় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সোমবার সকাল থেকে টাইর শহরের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হামলার খবর পাওয়া গেছে। শহরের সরকারি আবাসন এলাকার কয়েকটি অংশ হামলার শিকার হয়েছে। পাশাপাশি শহরের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি স্থানেও বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই আকাশে যুদ্ধবিমানের তৎপরতা দেখা গেছে। হামলার কারণে অনেক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি এমনিতেই কয়েক মাস ধরে অস্থির। সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মাত্র একদিন আগে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের একটি কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি এলাকায়ও হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় রেড ক্রসের কয়েকজন প্যারামেডিক আহত হন। এছাড়া অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় রেড ক্রসের কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ হওয়ার পর উভয় পক্ষই জানিয়েছিল, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাবে না। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি করেছিল।

তবে সেই আশার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত কমলেও দক্ষিণ লেবাননের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

ইসরায়েলের দাবি, দেশটির উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জনবসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দক্ষিণ লেবাননে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে। তাদের মতে, সীমান্তের কাছে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি এখনো নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি।

এদিকে চলমান হামলার কারণে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথা ভাবছে।

ডিআরসি কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০০

অনলাইন ডেস্ক
ডিআরসি কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০০
ছবি : রয়টার্স

পূর্ব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এক মাসেরও কম সময়ে অন্তত ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে এটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে, তবে বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, কিছু মানুষের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস এবং কিছু এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৫০ জন আক্রান্তের মধ্যে ১০১ জন মারা গেছেন এবং ১৯ জন সুস্থ হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে। এ ছাড়া উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও রোগী পাওয়া গেছে। রোগটি সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে, কারণ প্রাদুর্ভাবটি দেরিতে শনাক্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হচ্ছে। এ ছাড়া এই ভাইরাসের জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

এবারের প্রাদুর্ভাবটি বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের কারণে হয়েছে, যা আগের বেশিরভাগ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘জাইরে’ ধরনের ভাইরাস থেকে আলাদা।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার একটি কারণ হলো এখন পরীক্ষার (ডায়াগনস্টিক) ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আগে সংগ্রহ করা ও জমে থাকা অনেক নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, যেগুলো আগে পরীক্ষা করা যায়নি।

স্বাস্থ্যকর্মীরাও বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। সামরিক স্বাস্থ্যকর্মীরা, যারা খুব কম বেতন ও বিশ্রাম পান, তাদের ওপর ক্ষুব্ধ কিছু বাসিন্দা একাধিকবার হামলা করেছে। পাশাপাশি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণে অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না।

পূর্ব কঙ্গোতে বহু বছর ধরেই অনেকগুলো বিদ্রোহী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত চলছে। এসব গোষ্ঠীর কিছু বিদেশি শক্তি বা চরমপন্থী দায়েশ (আইএস) গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই সংঘাতগুলো স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত এলাকায় যেতে বাধা দিচ্ছে, নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং অনেক সংক্রমণ নজরের বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরো বলেছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় নেতা ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা খুবই জরুরি।