• ই-পেপার

হরমুজ প্রণালিতে টোল বসানোর পরিকল্পনা ইরান ও ওমানের

পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র এখন বেশি, বলছে গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র এখন বেশি, বলছে গবেষণা
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তির প্রতিযোগিতা দিন দিন আরো তীব্র হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান ও ইসরায়েলকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (সিপ্রি)-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল জুড়ে ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার আরো বাড়িয়েছে। বর্তমানে ভারতের কাছে পরমাণু বোমার সংখ্যা পাকিস্তানের চেয়ে ২০টি বেশি।

সিপ্রি-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারতের কাছে মোট ১৯০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র (ওয়ারহেড) রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১৭০টি। শুধু তাই নয়, ভারত ইতিমধ্যেই ১২টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র সরাসরি মোতায়েন করে রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই পরমাণু কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এখন আর শুধু পাকিস্তান নয়, বরং পুরো চীনজুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরি করা। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতার বিষয়টিকেও মাথায় রাখছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, পাকিস্তানও বসে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক দশকে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রাগারও আরো বড় হবে।

প্রতিবেদনে গত ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর, মে মাসে পাকিস্তান সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ভারত। সিপ্রি মনে করে, দুই দেশের এই সংঘাত পারমাণবিক ঝুঁকির আশঙ্কাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্বে বর্তমানে নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই দেশগুলোর কাছে মোট ১২,১৮৭টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। বিশ্বের মোট ব্যবহারযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৮৩ শতাংশই রয়েছে রাশিয়া ও আমেরিকার কাছে।

সূত্র : মিন্ট

যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প বাতিল করল জার্মানি-ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক
যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প বাতিল করল জার্মানি-ফ্রান্স

ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নির্মাণ কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও অচলাবস্থার কারণে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় দুই দেশের শীর্ষ নেতারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত সপ্তাহে মন্টিনিগ্রোতে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন-পশ্চিম বলকান সম্মেলনের ফাঁকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। জার্মান কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রকল্পে জড়িত অস্ত্র ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনের কোনো সম্ভাবনা দেখা যায়নি।

আরো পড়ুন
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫, বাস্তুচ্যুত হাজারো পরিবার

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫, বাস্তুচ্যুত হাজারো পরিবার

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রিডরিখ মার্জ ম্যাক্রোঁকে যৌথ যুদ্ধবিমান নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে আর না এগোনোর পরামর্শ দেন।

ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, দুই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং জার্মানি ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী ইউরোপীয় মহাকাশ প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

প্রকল্পটির সমাপ্তি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন পশ্চিমা সামরিক কর্মকর্তারা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে সতর্ক করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরদারের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে।

আরো পড়ুন
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৩

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৩

 

২০১৭ সালে সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি শুরু করেছিলেন ম্যাক্রোঁ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রকল্প বাতিল হলেও ফ্রান্স-জার্মানির প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উভয় দেশ এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের এই প্রকল্পের অংশীদার ছিল স্পেনও। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটির ব্যর্থতা ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

আরো পড়ুন
ট্রাম্পের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

ট্রাম্পের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

 

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল একটি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করা, যা ড্রোন ও অত্যাধুনিক ‘কমব্যাট ক্লাউড’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তবে প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ, মেধাস্বত্ব এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে এয়ারবাস ও দাসোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল।

একটি ইউরোপীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের মূল যুদ্ধবিমান অংশ বাতিল হলেও ‘ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম (এফসিএএস)’ নামের আওতায় কিছু প্রযুক্তি উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে নিরাপদ যোগাযোগভিত্তিক ‘কমব্যাট ক্লাউড’ ব্যবস্থাও রয়েছে।

জার্মানির প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়ন আইজি মেটাল প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির উপ-চেয়ারম্যান ইয়ুর্গেন কার্নার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট ছিল যে দাসো ও এয়ারবাস সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত জার্মানির বিমান শিল্প ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ছিল।

আরো পড়ুন
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪

 

এদিকে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলেন, প্রকল্পটির ব্যর্থতা ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য একটি বড় ধাক্কা।

আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইএসএস-এর সামরিক বিমান বিশেষজ্ঞ ডগলাস ব্যারি বলেন, এটি ওয়াশিংটন কিংবা মস্কো—কোনো পক্ষের কাছেই ইতিবাচক বার্তা নয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ফ্রান্সিস টুসা বলেছেন, প্রকল্পটি গত তিন বছর ধরেই কার্যত জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থার ওপর টিকে ছিল।

অন্যদিকে চ্যান্সেলর মার্জ প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন, জার্মান বিমানবাহিনীর জন্য মানবচালিত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান আদৌ প্রয়োজন কি না। তিনি আরো বলেছেন, জার্মানির এমন কোনো পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন নেই, যা বিমানবাহী রণতরীতে অবতরণ করতে পারে।

সূত্র : রয়টার্স

ট্রাম্পের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি এক লাখ ডলার করার যে নীতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিয়েছিল, তা অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিপুল অঙ্কের ফি মূলত একটি ‘কর’, যা মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট নিজের ক্ষমতাবলে চাপিয়ে দিতে পারেন না।

ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক লিও টি. সোরোকিন গত সোমবার (৮ জুন) এই রায় দেন। রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিটি সম্পূর্ণ বাতিল করে তিনি বলেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের একচ্ছত্র অধিকার কেবল কংগ্রেসের। প্রশাসন আইনি মারপ্যাঁচে একে ‘নিয়ন্ত্রক ফি’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও এর পক্ষে কোনো যৌক্তিক বা আইনি ভিত্তি প্রমাণ করতে পারেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিচারক সোরোকিন তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও আর্থিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলো দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই নীতিটি চূড়ান্ত করার আগে কোনো ধরনের জনমত যাচাই বা অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ করা হয়নি, যা একেবারেই নিয়মবহির্ভূত।

ট্রাম্প প্রশাসনের অবশ্য দাবি ছিল ভিন্ন। তাদের মতে, কম বেতনে বিদেশি কর্মী নেওয়ার ফলে মার্কিন নাগরিকরা কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। ১ লাখ ডলারের এই ফি কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি কর্মী না খুঁজে উচ্চ বেতনে মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগ দিতে উৎসাহিত হবে।

এই নীতি চালুর পর গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যের একটি জোট এর বিরুদ্ধে যৌথভাবে আদালতে মামলা করে। তাদের যুক্তি ছিল, এই নিয়ম কার্যকর হলে ছোট ব্যবসা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকদের তীব্র সংকট তৈরি হবে।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রতিদিন হাজার হাজার এইচ-১বি ভিসাধারী চিকিৎসক, শিক্ষক ও দক্ষ পেশাজীবী নিউইয়র্কবাসীকে সেবা দিচ্ছেন। আদালতের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করল।’

তবে আইনি এই লড়াই এখনই থামছে না। কারণ এর আগে ওয়াশিংটনের অন্য এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। সেই আদালত বলেছিলেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে। ফলে দুই আদালতের ভিন্নধর্মী অবস্থানের কারণে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতে (সুপ্রিম কোর্ট) গড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল।

ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউস এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র টেইলর রজার্স দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার্থে যেকোনো শ্রেণির বিদেশির প্রবেশ সীমিত করার আইনি ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে এবং তারা আপিলে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

৪৭ বছর পর লাক্ষাদ্বীপে মদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত

অনলাইন ডেস্ক
৪৭ বছর পর লাক্ষাদ্বীপে মদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত
লাক্ষাদ্বীপ। ছবি : রয়টার্স

ভারতের অন্যতম দ্বীপপুঞ্জ লাক্ষাদ্বীপে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর মদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (৫ জুন) একটি সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ‘লাক্ষাদ্বীপ মদ্যপান-নিষেধাজ্ঞা আইন’ বাতিল করা হয়েছে।

লাক্ষাদ্বীপের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ শতাংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী। ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির কারণে ১৯৭৯ সাল থেকে এখানে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। গুজরাট ও বিহারের মতো ভারতের যে কয়েকটি অঞ্চলে মদ নিষিদ্ধ, লাক্ষাদ্বীপ ছিল তার অন্যতম। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের মাধ্যমে কঠোর নিয়ন্ত্রণে এখানে মদ কেনাবেচা করা যাবে।

এই নিয়ম পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো লাক্ষাদ্বীপকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, মদের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রতিবেশী দেশ মালদ্বীপের তুলনায় পর্যটকদের কাছে লাক্ষাদ্বীপ কিছুটা পিছিয়ে পড়ছিল। কারণ মালদ্বীপের মতো মুসলিম দেশগুলোতেও নির্দিষ্ট পর্যটন এলাকায় মদ পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাক্ষাদ্বীপ সফরের পর থেকে এই দ্বীপে পর্যটকদের আনাগোনা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ২০২০ সালে যেখানে মাত্র ৩,৮৭৫ জন পর্যটক এসেছিলেন, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮,৩২৮ জনে। পর্যটকদের এই বিপুল আগ্রহকে কাজে লাগাতেই কেন্দ্র সরকার মদের নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও লাক্ষাদ্বীপে মদের বাজার সবার জন্য অবাধ করা হচ্ছে না। প্রশাসন বেশ কিছু নিয়ম ও ট্যাক্স চালু করেছে। তারা ২১ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তির কাছে মদ বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। এ ছাড়া লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক চাইলে যেকোনো দ্বীপে মদ কেনাবেচার ওপর যেকোনো সময় সীমা নির্ধারণ বা পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবেন।

২০২০ সালে লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক প্রফুল খোদা প্যাটেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২১ ও ২০২৩ সালেও এই সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো বরাবরই এর বিরোধিতা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, মদের সহজলভ্যতা বাড়লে দ্বীপে অপরাধ, আসক্তি ও সামাজিক শান্তি নষ্ট হতে পারে।

লাক্ষাদ্বীপের ৩৬টি দ্বীপের মধ্যে মাত্র ১০টিতে মানুষের বসবাস রয়েছে। এখানকার সিংহভাগ মানুষ মুসলিম এবং তারা মূলত তফসিলি উপজাতিভুক্ত। তবে কেন্দ্র সরকার মনে করছে, জম্মু-কাশ্মীর কিংবা মালদ্বীপের মতো মুসলিম প্রধান অঞ্চলের মতোই, লাক্ষাদ্বীপেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে