• ই-পেপার

বিশ্বমঞ্চে ব্যর্থতা ঘুচিয়ে নতুন গল্প লিখতে পারবে মিসর!

ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ : ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা আপনার জানা উচিত

ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ : ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা আপনার জানা উচিত
সংগৃহীত ছবি

ফিফা বিশ্বকাপের আর বাকি ২ দিন। আসন্ন এই টুর্নামেন্ট সম্পর্কে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো কালের কণ্ঠ পাঠকদের জন্য।

এক, প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ৩২টি দলের চেয়ে বেশি। নতুন এই ফরম্যাটে চারটি করে দলের ১২টি গ্রুপ থাকবে, ফলে মোট ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে ১০৪ হবে। এর ফলে টুর্নামেন্টটিও দীর্ঘতর হবে এবং ৩৯ দিন ধরে চলবে।

দুই, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। এতে তিনটি দেশ যৌথভাবে টুর্নামেন্টটি আয়োজনে এটি প্রথম। 

তিন, বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী এযাবৎকালের ক্ষুদ্রতম দেশ হলো কুরাকাও। যার জনসংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার। অনেক শহরের চেয়েও ছোট হওয়া সত্ত্বেও তারা ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে বিশ্ব ফুটবলের সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

চার, বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ দলগুলোর মধ্যে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে দুটি দেশ—ডিআর কঙ্গো ও হাইতি। উভয় দলই সর্বশেষ ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল এবং ২০২৬ সালে তাদের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটছে।

পাঁচ, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে চারটি দেশ অভিষেক করবে—কেপ ভার্দে, কুরাকাও, জর্দান ও উজবেকিস্তান। ফুটবলে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর এটি তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই অভিষেককারী দলগুলো প্রায়ই নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে আসে এবং চাপমুক্ত হয়ে খেলে।

ইয়াস-তাবিথের ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ কাটল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইয়াস-তাবিথের ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ কাটল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাঙালির রাত জেগে উন্মাদনা, পাড়ায় পাড়ায় প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানো আর চায়ের কাপে ঝড় তোলা। অথচ বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ের কাছাকাছি সময়েও দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর কপালে দেখা দিয়েছিল চিন্তার ভাঁজ। প্রশ্ন উঠেছিল, এবার কি তবে টেলিভিশনে দেখা যাবে না ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ?

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর এসেছে। বিশ্বকাপ দেখতে পাবে বাংলাদেশ, বিষয়টি এখন পুরোপুরি নিশ্চিত। আর এই ‘ব্ল্যাকআউট’ বা খেলা দেখতে না পাওয়ার শঙ্কা দূর করার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। খাদের কিনারা থেকে আলোর মুখ দেখেছে বাংলাদেশের কোটি ফুটবল ভক্ত।

ঘটনার সূত্রপাত গত কয়েক সপ্তাহ আগে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড প্রাথমিকভাবে ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশের মিডিয়া স্বত্ব পেয়েছিল। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে কেনা এই স্বত্ব তারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ মুহূর্তে এসে চুক্তিটি সমর্পণ করে। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে দেশটিতে কোনো ব্রডকাস্টার বা সম্প্রচারকারী মাধ্যম ছিল না। বিশাল অঙ্কের আকাশচুম্বী দাম, সীমিত বাণিজ্যিক সুযোগ এবং ম্যাচের প্রতিকূল সময়ের কারণে স্থানীয় কোনো ব্রডকাস্টারই এই স্বত্ব কিনতে সাহস বা আগ্রহ দেখাচ্ছিল না।

কিন্তু কোটি মানুষের এই আবেগ ও প্রত্যাশাকে মাঠেই ভেস্তে যেতে দিতে রাজি হননি প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। মন্ত্রণালয় থেকে এই সংকট সমাধানের পুরো উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের জরুরি তোড়জোড়ের মাঝেই পাশে এসে দাঁড়ান তাবিথ আউয়াল। এই চুক্তি সফল করার পেছনে ফিফার সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র তৈরিতে তাবিথ আউয়াল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করেন।

ফিফার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, বিষয়টি বাফুফে সংক্রান্ত নয়; বরং বাফুফে সভাপতি হিসেবে ফিফাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। বিটিভিসহ (বাংলাদেশ টেলিভিশন) স্থানীয় অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে যেন একটি ফলপ্রসূ যোগাযোগ বা সমন্বয় তৈরি করা যায়, সেই লক্ষ্যেই তারা আমার দ্বারস্থ হয়।

বাফুফে সভাপতি আরো বলেন, বাংলাদেশে যদি বিশ্বকাপ ফুটবল সঠিকভাবে সম্প্রচার করা না হতো, তা দেশের কোটি ফুটবল ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের জন্য চরম হতাশাজনক হতো। একই সঙ্গে এটাও সত্যি, যদি সবচেয়ে যৌক্তিক বাণিজ্যিক শর্ত মেনে এই সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা না যায়, তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য একটি যৌথ ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হবে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে মন্ত্রণালয় ও বাফুফে যৌথভাবে কোমর বেঁধে মাঠে নামে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা একসঙ্গে বিভিন্ন স্পোর্টস চ্যানেল, জাতীয় মিডিয়া হাউস, টেলিকম সংস্থা এবং বেশ কয়েকটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ও টেলিকম টাই-ইনের মতো নতুন আয়ের উৎসগুলো চিহ্নিত করে, যা আগের কোনো বিশ্বকাপ চক্রে কখনো অন্বেষণ করা হয়নি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভিকে কোনো ধরনের লোকসানের মুখে না ফেলেই তারা এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। অতীতের ‘অস্বচ্ছ’ ও চড়া দামের বাজারকে পাশ কাটিয়ে কিভাবে দেশের টাকা বাঁচানো গেছে, তার বিশদ বিবরণ দেন তিনি।

ইয়াসের খান বলেন, ‘আমরা যখন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে একটি অদ্ভুত গোলকধাঁধা তৈরি হয়েছিল। ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কেনা একটি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল। এটি ছিল করদাতাদের টাকার ওপর একটি বড় ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা। কিন্তু আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় জনগণের টাকার অপচয় বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করবে না। ফলস্বরূপ, সেই অযৌক্তিক ক্রয়ের প্রস্তাবটি পাস হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে—যেখানে অন্যায়, দুর্নীতি এবং কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার কোনো স্থান নেই।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের জটিলতা ভেঙে সরাসরি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কথা বলার কারণেই এসেছে এই অভূতপূর্ব সাফল্য।’

তিনি বলেন, ‘তার নির্দেশনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই ফিফা বিষয়ে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় আমরা বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে সম্পৃক্ত করি। দিনের পর দিন ম্যারাথন বৈঠক, জটিল আলোচনা এবং কঠোর দর-কষাকষির মাধ্যমে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। কর্তৃত্ববাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সততা এবং জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার এটি একটি বড় বিজয়।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিগত সরকারের আমলে হওয়া চুক্তির উদাহরণ টেনে আনেন। তার মতে, আগে যেখানে বিটিভি কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কোনো মুনাফা তুলতে পারেনি, এবার সেখানে এক টাকাও লোকসান গুনতে হবে না রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইয়াসের বলেন, ‘বিটিভি আরো বেশি ব্যবসা করতে পারত বলতে কী বোঝাচ্ছেন? তারা বিটিভিকে ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দিচ্ছিল—তার মানে এই নয় যে তারা এটি ২০০ কোটি টাকায় কিনেছিল। বিষয়টি আপনাদের বুঝিয়ে বলি—এটি আসলে খুব ভালো একটি প্রশ্ন, যদিও আমি এটির উত্তর আপনার প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্নভাবে দেব। গতবার বিটিভি ৯৬ কোটি টাকায় স্বত্ব কিনেছিল—বিটিভি কত টাকা লাভ করেছিল? জিরো (শূন্য)। বিগ জিরো। ডাবল জিরো। ট্রিপল জিরো। এবার কি বিটিভিকে শেষ পর্যন্ত কোনো টাকা দিতে হবে? বিটিভির কি কোনো খরচ হবে? না। তাহলে পার্থক্যটা নিজেই বুঝতে পারছেন।’

সহজ একটি উদাহরণ দিয়ে দুর্নীতির চক্রটি ব্যাখ্যা করেন ইয়াসের, ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাবটি বিটিভির উপার্জনের জন্য ছিল না। তারা বলছিল বিটিভি ২০০ কোটি টাকায় কিনবে—কিন্তু আসল ব্যবসাটা করবে অন্য কেউ। তারা লাভ নিয়ে চলে যেত, আর বিটিভির ঝুলিতে থাকত শূন্য। তা হতে পারে না। বিষয়টি এভাবে ভাবুন, এই ফোনের একটি নির্দিষ্ট মূল্য আছে—ধরুন ১ হাজার টাকা। আপনি এটি যার কাছেই বিক্রি করুন না কেন, এর চেয়ে বেশি পাবেন না। আপনি যদি এটি আমার কাছে ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন এবং আমি অন্য কারও কাছে যাই, তারা কি ১ হাজার টাকার বেশি দেবে? সুতরাং, বিটিভিকে দিয়ে ২০০ কোটি টাকায় কিছু কেনানো আর অন্য কেউ ব্যবসা করে লাভ নিয়ে যাওয়া—এতে বিটিভির হাত খালিই থাকে। আমরা জনগণের টাকার অপচয় এবং দুর্নীতি বন্ধ করেছি।

এই যৌথ আলোচনার চূড়ান্ত ফল দাঁড়িয়েছে অত্যন্ত ইতিবাচক। ৩টি জাতীয় টেলিভিশনের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এখন নিশ্চিত হয়েছে সম্প্রচার স্বত্ব।

প্রতিমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির চূড়ান্ত সংখ্যাটি প্রকাশ করে বলেন, আজ আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি—অতীতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লুটের গন্ধ থাকা প্রাথমিক ২০০ কোটি টাকার দাবির ফাঁদ এড়িয়ে, আমরা অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও যুক্তিসংগত মূল্যে ফিফার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।

তিনি টাকার হিসাব দিয়ে বলেন, ‘একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং বাংলাদেশের নীতিমালা অনুযায়ী, এ বছরের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৩৮.৫ লাখ মার্কিন ডলার—যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৪৭ কোটি টাকা।’

সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা হলো, এই ৪৭ কোটি টাকা বিটিভিকে তার নিজের তহবিল থেকে দিতে হচ্ছে না। বিভিন্ন স্পনসরশিপ ও উপ-স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমেই এই টাকা উঠে আসবে।

জনগণকে আশ্বস্ত করে ইয়াসের বলেন, জনগণের জন্য সুখবর এবং আমি আবারও বলছি, জনগণের জন্য সুখবর হলো, বিটিভিকে এই টাকা নিজে দিতে হবে না। এর অর্থ হলো, নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন এবং টেলিকম কোম্পানি, স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে স্বত্ব বিক্রি করে আমরা প্রায় পুরো অর্থই তুলে নিতে সক্ষম হয়েছি। বিটিভি নামমাত্র খরচে ফিফা ২০২৬ সম্প্রচার করবে। এই খরচ শুধু আগের সরকারের আমলের চেয়ে কমই নয়—এটি প্রমাণ করে যে উদ্দেশ্য যদি সৎ হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে সততা দেখিয়েছি, তা দিয়ে দেশের টাকা বাঁচানো এবং জনগণকে বিশ্বের সেরা সেবা দেওয়া সম্ভব।

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ টাইম পাবেন লিওনেল মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ টাইম পাবেন লিওনেল মেসি
ছবি : এপি

বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন মেসি বলে নিশ্চিত করেছেন কোচ স্কালোনি। অ্যালাবামার অবার্নে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চোট পরবর্তী মাঠে দেখা যাবে এই মহাতারকাকে।

বাম হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশির টান থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় ওয়ার্ম-আপে অংশ নিলেও হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি। বিশ্বকাপের জন্য লিগ স্থগিত হওয়ার আগে শেষ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে খেলার মাঝে পেশিতে টান অনুভব নিয়ে মাঠ ছাড়েন। চোট শঙ্কা নিয়েই মায়ামির এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেন।

ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কালোনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মেসি খেলবে, তবে কত মিনিট খেলবে তা আমি জানি না। আজকের অনুশীলনে তার সাথে আমার কথা বলতে হবে এবং যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সে কত মিনিট খেলে তা আমরা দেখব। আমরা সিদ্ধান্ত নেব, তবে আজকে সে খেলবে।’

আর্জেন্টিনার কোচ আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাদের শিরোপা রক্ষার প্রস্তুতি সময় দলের খেলার সময়ের ওপর কড়া নজর রাখা হবে। যেকোনো ধরনের অঘটন এড়ানোর চেষ্টায় আমরা আগামীকাল যারা খেলবে তাদের খেলার সময় বন্টন করে দেব বলে যোগ করেন এই বিশ্বকাপজয়ী কোচ।

ওয়ানডে সিরিজ

মোসাদ্দেক-নাহিদে ২১ বছর পর বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া বধ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
মোসাদ্দেক-নাহিদে ২১ বছর পর বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া বধ
নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেনের উদযাপন। ছবি : মীর ফরিদ, মিরপুর থেকে

১৮ জুন ২০০৫, সোফিয়া গার্ডেন্স, কার্ডিফ। মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরি। 

এতটুকু বললেই সবাই বুঝে নেন কোন ম্যাচের কথা বলা হচ্ছে। রিকি পন্টিংয়ের মহাপরাক্রমশালী দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক জয়। 

এত দিন সেটিই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের একমাত্র জয় ছিল। অবশেষে আজ এলো দ্বিতীয়টি; ২১ বছর পর আরেক জুনেই!

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অলরাউন্ড নৈপুণ্য ও নাহিদ রানার গতিতে ধরাশায়ী হলো অস্ট্রেলিয়া। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ জিতল ৮৬ রানে। 

Mosaddek1
বাংলাদেশ দলে ফেরার ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করেছেন মোসাদ্দেক। ছবি: মীর ফরিদ, মিরপুর থেকে

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আজ প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান করার পর বজ্রপাত শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর বাগড়া দেয় বৃষ্টি। 

তাতে আর একটি বলও মাঠে না গড়নোয় ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি প্রকাশ ভাট। 

মিরপুরের সবুজাভ পিচে লক্ষ্যটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদের বলে ম্যাথু শটের বোল্ড হওয়া আর দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মারনাস লাবুশেনের এলবিডাব্লিুউ হয়ে ফেরা রান তাড়াকে আরো কঠিন করে তোলে। 

শুরুর সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। আলোচিত ফাস্ট বোলার নাহিদ রানাই আসলে সফরকারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি। ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৪ উইকেট।

এই ম্যাচ দিয়েই প্রায় ৪ বছর পর বাংলাদেশ দলে ফেরা মোসাদ্দেকও দারুণ বোলিং করেছেন। ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট। 

তবে মোসাদ্দেক আসল কাজটা করেছেন ব্যাট হাতে। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭০ বলে তার ৮৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসই বাংলাদেশের সংগ্রহ তিন শর কাছাকাছি নিয়ে যায়।

এর আগে শুরুতে সাইফ হাসানের উইকেট হারালেও তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। তানজিদ-শান্ত দুজনই ফিফটির দেখা পান। 

Photo
ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে মোসাদ্দেক। ছবি : মীর ফরিদ, মিরপুর থেকে

তবে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা হয়ে প্রত্যাবর্তনের দিনটা স্মরণীয় করে রেখেছেন মোসাদ্দেক। 

মিরপুরেই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন)।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৮৪/৮ (মোসাদ্দেক ৮৬*, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪; এলিস ৩/৩৮, রেনশ ২/৩৫, স্কট ২/৫৭)।
অস্ট্রেলিয়া : ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯ (গ্রিন ৫২*, ক্যারি ৪৭, কনোলি ৩৫; নাহিদ ৪/৪১, মুস্তাফিজ ২/২৪, মোসাদ্দেক ২/৩৭)।
ফল : বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী (ডিএলএস পদ্ধতিতে)।
ম্যাচসেরা : মোসাদ্দেক হোসেন।
সিরিজ : ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।