• ই-পেপার

নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিল ব্রাজিল

বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় করলেই হলুদ কার্ড!

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় করলেই হলুদ কার্ড!
ছবি : রয়টার্স

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চোখের পলকে হারিয়ে যাওয়ার মতো গোল, গ্যালারি কাঁপানো উত্তেজনা আর মহাতারকাদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। তবে এই জমকালো মঞ্চের আড়ালে থাকে নিয়ম-শৃঙ্খলার এক কঠোর ও নিখুঁত বেড়াজাল। মাঠ এবং মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে, যা বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে প্রতিটি ফুটবলারকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হয়।

মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ফুটবলারদের প্রতিটি আচরণ থাকে রেফারিদের কড়া নজরদারিতে। আবেগের আতিশয্যে গোল উদযাপনের সময় জার্সি খুলে ফেলা, ইচ্ছাকৃতভাবে সময় অপচয় করা কিংবা গ্যালারির দর্শকদের দিকে কোনো উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করলে রেফারি পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করতে দ্বিধা করেন না। এমনকি ফাউল না হওয়া সত্ত্বেও ফাউলের নাটক করা কিংবা পেনাল্টি পাওয়ার লোভে বক্সে ডাইভ দিলে, তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য দেখতে হয় হলুদ কার্ড।

এখানেই শেষ নয়, মাঠের প্রধান পরিচালকের (রেফারি) সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ, কটু কথা বলা কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করলে সরাসরি লাল কার্ড কিংবা হলুদ কার্ডের শাস্তি পেতে হয়। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের আগে ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। আর সরাসরি লাল কার্ড দেখলে তো তৎক্ষণাৎ মাঠ ছাড়ার পাশাপাশি অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় পরবর্তী কয়েক ম্যাচের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়তে পারে।

ফুটবলারদের পোশাক ও ব্যবহৃত সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও ফিফার নিয়ম বেশ কড়া। মাঠে ফুটবলারদের নিরাপত্তার স্বার্থে আংটি, গলার চেইন, হাতঘড়ি বা ব্রেসলেটের মতো অলঙ্কার পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে চোটজনিত কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ থাকলে বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফেস মাস্ক, ব্যান্ডেজ বা সুরক্ষামূলক গার্ড ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জার্সির নিচে থাকা ভেতরের গেঞ্জিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্লোগান বা বার্তা প্রদর্শন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

শুধু মাঠের ভেতরের সবুজ ঘাসেই নয়, মাঠের বাইরে টিম হোটেলেও ফুটবলারদের থাকতে হয় কড়া নজরদারিতে। বিশ্বকাপ চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তে ফুটবলারদের ডোপ টেস্টের জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো কিংবা নমুনায় কারচুপির চেষ্টা করলে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়তে পারে; হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা।

বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্বাধীনতা থাকলেও সেখানে বর্ণবাদী, আপত্তিকর বা রাজনৈতিক উসকানি ছড়ায়—এমন কোনো পোস্ট করা যাবে না। পাশাপাশি অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়াটা খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক। যথাযথ কারণ ও অনুমতি ছাড়া এগুলো এড়িয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা।

এমনকি নিজেদের ক্যাম্প বা টিম হোটেল ছাড়ার ক্ষেত্রেও কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। যাতায়াতের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে হয় ফিফা ও আয়োজকদের অনুমোদিত পরিবহন। মূলত বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটি বৈশ্বিক আসরের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং ফেয়ার-প্লে নিশ্চিত করতেই এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।  
 

নাইটক্লাব কাণ্ডে তদন্তের মুখে স্টোকস ও অ্যাটকিনসন, নেতৃত্ব নিয়েও শঙ্কা

ক্রীড়া ডেস্ক
নাইটক্লাব কাণ্ডে তদন্তের মুখে স্টোকস ও অ্যাটকিনসন, নেতৃত্ব নিয়েও শঙ্কা
ছবি : রয়টার্স

লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১১৫ রানের দুর্দান্ত জয়। ড্রেসিংরুমে তখন উৎসবের আমেজ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে খোদ অধিনায়ক বেন স্টোকসও বলেছিলেন, ‘ছেলেদের সাথে এক পাত্র কড়া বিয়ারে চুমুক দেওয়ার আগ পর্যন্ত আমার মুখে চওড়া হাসি ফুটছে না।’ কিন্তু সেই হাসির আড়ালে যে এত বড় ঝড় লুকিয়ে ছিল, তা কে জানত!

সেই ‘বিয়ার উৎসব’ রূপ নিয়েছে মহাবিতর্কে। নাইটক্লাবের এক অপ্রীতিকর ঘটনায় এখন টালমাটাল ইংলিশ ক্রিকেট। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন। পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে যে, টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথাও নাকি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন স্টোকস। ওভালের দ্বিতীয় টেস্টে তাদের দলে থাকা নিয়েও তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।

ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার দিবাগত শেষ রাতে (সোমবার ভোর)। লর্ডস টেস্ট জয়ের পর লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে উদযাপনে মেতেছিলেন স্টোকস ও অ্যাটকিনসন। সেখানেই সারেসেন্স রাগবি ক্লাবের খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হন তারা। সারেসেন্সও সেখানে তাদের মৌসুম শেষের পার্টি করছিল।

ইএসপিএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারেসেন্সের এক একাডেমি খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইংলিশ পেসার গাস অ্যাটকিনসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে জড়াতে হয় স্টোকসকেও। মারামারির ঘটনা না ঘটলেও এবং দুই ক্রিকেটারের কেউ আহত না হলেও, বিষয়টিকে ‘দলের আচরণবিধি লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

ঘটনাটি মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না ইসিবি। সোমবার সন্ধ্যায় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শেষ হওয়ার পর দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি ঘটনা তদন্ত করছে ইসিবি। সোমবার ভোরে একটি নাইটক্লাবে বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। বিষয়টি ক্রিকেট রেগুলেটরকে জানানো হয়েছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুন ওভালে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে এই দুই তারকার খেলা প্রায় অসম্ভব। তদন্ত চলাকালীন তাদের স্কোয়াডের বাইরে রাখা হতে পারে। সারেসেন্স রাগবি ক্লাবও নিশ্চিত করেছে যে, তাদের এক একাডেমি খেলোয়াড় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এই ঘটনার পর মানসিকভাবে বেশ ধাক্কা খেয়েছেন স্টোকস। নিজের টেস্ট অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন তিনি। যদি স্টোকসকে বাদ দেওয়া হয় বা তিনি নিজে সরে দাঁড়ান, তবে ওভাল টেস্টে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিতে পারেন সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক।

পুরনো অভ্যাসে ডুবল ইংলিশ ক্রিকেট!

ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য মদ্যপান আর নাইটক্লাব বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০১৭ সালে ব্রিস্টলে এক নৈশকালীন মারামারির ঘটনায় ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময় হারিয়েছিলেন স্টোকস। আদালত থেকে খালাস পেলেও ইসিবি তাকে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। গত বছর স্টোকস দাবি করেছিলেন তিনি মদ ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু লর্ডস টেস্টের পরই আবার সেই পুরনো ফাঁদে পা দিলেন।

এমনকি গত অ্যাশেজ সফরেও ক্রিকেটারদের বেসামাল আচরণের কারণে মাঝরাতে ‘কারফিউ’ জারি করতে বাধ্য হয়েছিল ইসিবি। সেবার বাউন্সারের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে হ্যারি ব্রুক এবং নোসার এক ক্যাফেতে মাতাল অবস্থায় ভিডিওবন্দী হয়ে বেন ডাকেট চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

অ্যাশেজের সেই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের পর দলের ডিরেক্টর রব কি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইংল্যান্ড দলে কোনো ‘মদ পানের সমস্যা’ নেই, তবে কিছু খেলোয়াড় সুযোগ পেলে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন। ক্রিকেটারদের লাগাম টানতে নতুন সংস্কৃতি ও কড়া নিয়ম চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইসিবি।

কোচ ব্র্যান্ডন ম্যাককালামও দায়িত্ব নেওয়ার পর ছেলেদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘এমন কিছু করো না যাতে খবরের কাগজের প্রথম পাতায় নাম ওঠে। মনে রেখো, মধ্যরাতের পর ভালো কিছু ঘটে না।’

কিন্তু কোচের সেই অমর বাণী যেন কানেই তোলেননি স্টোকস-অ্যাটকিনসনরা। লর্ডসের গৌরবময় জয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইসিবিকে আবারও লজ্জার সাগরে ডুবিয়ে কাগজের প্রথম পাতার ‘হেডলাইন’ হলেন তারা। 

অস্ট্রেলিয়া বলেই বাড়তি রোমাঞ্চিত বাংলাদেশ

আজ প্রথম ওয়ানডে

ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়া বলেই বাড়তি রোমাঞ্চিত বাংলাদেশ
ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি নিয়ে দুই অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও জশ ইংলিস। ছবি : বিসিবি

সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার অবস্থা যেমন এখনো তৈরি হয়নি, তেমনি জাতীয় দলের হয়ে এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডারের আবার মাঠে নামার কোনো নিশ্চয়তাও নেই। কিন্তু আজ শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দলে না থেকেও প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন সাবেক এই অধিনায়ক। 

তিনি থাকলে গল্পটা একটু অন্য রকম হতো। অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলে ২০১১ সালে, সেটাও ঘরের মাঠে। ১৫ বছর পর ওই সিরিজে খেলা দুই দলের কোনো ক্রিকেটার এবারের লড়াইয়ে নেই। থাকার কথাও নয়। 

সবাই এই সংস্করণ থেকে অবসর নিয়েছেন। ব্যতিক্রম শুধু সাকিব। তবে তিনিও নেই এবার। মেহেদী হাসান মিরাজরা প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন। এ জন্য বাড়তি রোমাঞ্চ অনুভব করছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

গতকাল সিরিজ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি মিরাজ, ‘আমরা সবাই অনেক উচ্ছ্বসিত যে দীর্ঘদিন পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ খেলব। অধিনায়ক হিসেবে আমিও অনেক রোমাঞ্চিত। এটা আমাদের জন্য একটি ভালো চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। যদি আমরা ভালোভাবে শুরু করতে পারি, তাহলে বেশ ইতিবাচক হবে।’ 

তবে অজিদের বিপক্ষে পরিসংখ্যান সুখকর নয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ফল হওয়া ২১ ম্যাচে মাত্র এক জয় বাংলাদেশের। সেটাও দুই দশকের বেশি সময় আগে—২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিতে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই এখনো ওয়ানডেতে সিরিজ জেতেনি দলটি। এবার অতৃপ্তি ঘোচাতে চান মিরাজ, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ভালো ক্রিকেট খেলতে। সবাই ভালো ফর্মে আছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অনেক বছর পর সিরিজ খেলছি। যেহেতু হোম গ্রাউন্ড, সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে আমাদের জন্য দারুণ হবে।’
এই সফরে পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। অলরাউন্ডার মিচেল মার্শের গোড়ালির চোট ভালো না হওয়ায় পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। ব্যক্তিগত কারণে মারকুটে ওপেনার ট্রাভিস হেডও নেই। প্রতিপক্ষ শিবিরে এ দুই তারকা না থাকা বাড়তি সুবিধা বাংলাদেশের জন্য। তবে এসব নিয়ে না ভেবে নিজেদের খেলার ওপর মনোযোগ রাখতে চান স্বাগতিক অধিনায়ক, ‘আগেই শুনেছি তারা না-ও আসতে পারে। গতকাল (পরশু) নিশ্চিত হয়েছি। তার পরও অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী দল। তারা ভালো দল নিয়েই এসেছে। আমরা তাদের নিয়ে চিন্তা না করে নিজেদের খেলাটার দিকে মনোযোগ দিতে চাই।’

এদিকে সর্বশেষ সিরিজ থেকে বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রথম ওয়ানডেতে খেলাতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ মুহূর্তে খুব বেশি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি না হলে এই অলরাউন্ডারকে নিয়েই একাদশ সাজাবে স্বাগতিকরা। মোসাদ্দেক ঘরোয়া ক্রিকেটের ছন্দ ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশ দল উপকৃত হবে বলেই মনে করেন মিরাজ, ‘মোসাদ্দেক ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক বছর ধরে ভালো পারফর্ম করছে এবং ভালো ক্রিকেট খেলছে, ফর্মেও আছে। তাকে দলে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। আমরা যে জায়গাটার কথা চিন্তা করেছি, সেখানে যদি সে ভালো করতে পারে, তাহলে দলের জন্য অনেক উপকার হবে।’
 

ক্রিস্টোফ ক্রেমার

ফাইনালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা এক বিশ্বজয়ী

সাহিদ রহমান অরিন
ফাইনালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা এক বিশ্বজয়ী
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে মাথায় আঘাত পেয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন জার্মানির ক্রিস্টোফ ক্রেমার (মাঝে)। ছবি: সংগৃহীত

‘এটা কি (বিশ্বকাপ) ফাইনাল?’ খেলা চলাকালে রেফারি নিকোলা রিজ্জোলিকে জিজ্ঞেস করলেন ক্রিস্টোফ ক্রেমার। রিজ্জোলি ভাবলেন, ক্রেমার তাঁর সঙ্গে মজা করছেন। তাই প্রশ্নটা আবার শুনতে চাইলেন।

ক্রেমার আরেকটু জোর গলায় বললেন, ‘আমি জানতে চাইছি এটা কি ফাইনাল, নাকি অন্য কোনো ম্যাচ?’ এবার রিজ্জোলির এক কথায় উত্তর, ‘হ্যাঁ।’ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ক্রেমার বললেন, ‘আপনাকে ধন্যবাদ। এটা জানা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

ক্রেমার আবার খেলা চালিয়ে গেলেন। কিন্তু ইতালিয়ান রেফারি রিজ্জোলি ততক্ষণে বুঝে ফেলেছেন, কিছু একটা গড়বড় হয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জার্মান ডাগ আউটে বিষয়টি জানালেন। ফিজিওরা এসে ক্রেমারকে নিয়ে গেলেন মাঠের বাইরে।

PIC2
ফাইনালের ৩১ মিনিটে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্টোফ ক্রেমার। ছবি: ফিফা

ব্যস, ২৩ বছর বয়সে জার্মানির ২৩ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে খেলতে নামা ক্রেমারের বিশ্বকাপ ফাইনাল সেখানেই শেষ! ম্যাচের তখন আধাঘণ্টা পেরিয়েছে।

কোন ফাইনালের কথা বলা হচ্ছে জানেন? ১৩ জুলাই ২০১৪, মারাকানা স্টেডিয়াম, রিও ডি জেনিইরো, আর্জেন্টিনা-জার্মানি বিশ্বকাপ ফাইনাল।

সেই রাতে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে কপাল পুড়েছিল মেসি-মাসচেরানোদের। ১১৩ মিনিটে মারিও গোটজের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি। ৩১ মিনিটে ক্রেমারের বদলি নামা আন্দ্রে শুর্লের ক্রস থেকেই গোলটা করেছিলেন গোটজে।

তা, ফাইনালের রাতে ক্রেমারের কী এমন হয়েছিল যে রেফারির কথায় তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হন জার্মান কোচ ইওয়াখিম ল্যোফ? চিকিৎসকরা জানান, ক্রেমার খেলা চলাকালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন! মাঠে থাকলেও তিনি কিছুই মনে করতে পারছিলেন না।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে আর্জেন্টাইন সেন্টার ব্যাক এজেকিয়েল গারাইয়ের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে মাথায় আঘাত পান ক্রেমার। এরপর মাঠে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসাও করা হয়। ফিজিওরা ভেবেছিলেন ক্রেমার ঠিক আছেন; তাই খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পান। পরে বোঝা যায়, তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।

মারাকানায় ফাইনালের রাতে শুরুর একাদশে ক্রেমারের থাকার কথাই ছিল না। ম্যাচ শুরুর মিনিট কয়েক আগে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার সামি খেদিরা চোটে পড়লে ক্রেমারকে কোচ ল্যোফ জানিয়ে দেন, ‘প্রস্তুত হও, তুমি খেলতে নামছ।’

ক্রেমার তাঁর ক্যারিয়ারজুড়ে খেলেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে। তাঁকেই কিনা শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে নিতে হয়েছে বাড়তি দায়িত্ব। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফরোয়ার্ডদের বলের জোগান দেওয়া তো আর যেনতেন কাজ নয়! কাজটা ক্রেমারকে করতে হয়েছে সেই সময়ের রিয়াল মাদ্রিদ তারকা খেদিরার জায়গায়; সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে।

PIC5
বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি খুব বেশি মনে নেই ক্রিস্টোফ ক্রেমারের। ছবি: সংগৃহীত

ক্রেমার ফাইনালে পুরোটা সময় খেলতে পারেননি ঠিকই; কিন্তু স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলার পরও দেশের প্রতি তাঁর নিবেদন সত্যিই ব্যতিক্রমী এক ঘটনা হয়ে আছে।

বিশ্বকাপ জয়ের পরদিনই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে ফাইনালের রাতের বর্ণনা দেন ক্রেমার, ‘আমি ম্যাচের খুব বেশি ঘটনা মনে করতে পারি না। প্রথমার্ধের কিছুই আমার মনে নেই। মাঠ ছাড়ার পর কিভাবে ড্রেসিংরুমে পৌঁছলাম, সেটাও মনে নেই। আমার মনে হয়েছে, ম্যাচটি দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু হয়েছে।’

কয়েক দশক ধরে জার্মানির বিশ্বকাপ স্কোয়াড মানেই বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের খেলোয়াড়দের আধিক্য। তাই বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট ক্লাবের ফুটবলার হিসেবে ইওয়াখিম ল্যোফের নজর কাড়া ক্রেমারের জন্য মোটেও সহজ ছিল না।

Trophy1
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ক্রিস্টোফ ক্রেমার। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির সোলিঙ্গেন শহরের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান ক্রেমার। পরে হন সেই শহরের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বজয়ী। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি একটিই শিরোপা জিতেছেন—বিশ্বকাপ। অথচ সেদিনের স্মৃতি তাঁর খুব বেশি মনে নেই!

২০১৬ সালের পর জার্মানি জাতীয় দলে আর কখনো ডাক পড়েনি ক্রিস্টোফ ক্রেমারের। ক্লাব ফুটবল খেলেছেন ২০২৪ সাল পর্যন্ত। সেই বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখেই ১১ মৌসুম কাটিয়ে চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করেন। এরপর অন্য কোনো ক্লাব তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। ফলে গত বছরের জুনে অবসরের ঘোষণা দেন।

PIC1
নিজের লেখা বই হাতে ক্রিস্টোফ ক্রেমার। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

বর্তমানে ৩৫ বছর বয়সী ক্রেমার কাজ করছেন ফুটবল বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হিসেবে। উপস্থাপনা করছেন পডকাস্টেও। এই সুযোগে একটা বইও লিখে ফেলেছেন, জার্মান ভাষায় যার নাম ডাস লেবেন ফিং ইম জোমার আন (বাংলা অর্থ জীবন শুরু হয়েছিল গ্রীষ্মকালে)।

বিশ্বকাপজয়ী অনেকেই নিজেদের কিংবদন্তির কাতারে নিয়ে গেছেন, অনেকে পারেননি। অনেকের নাম বিশ্বফুটবল মনে রাখেনি। ক্রিস্টোফ ক্রেমারের নাম সেই তালিকায় উঠতে পারত। কিন্তু ওঠেনি ওই একটি ঘটনার কারণে—স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেও তিনি যে বিশ্বজয়ী! বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ভাষায়, ‘যে শিরোপা (ক্রেমারকে) অমরত্ব এনে দিয়েছে।’