বর্ষা মৌসুমে নদী-নালা, খাল-বিল ও বন্যার পানিতে ডুবে শিশু ও কিশোরদের মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের উলিপুরে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের নিয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চর দাঁগারকুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বৈঠকের আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘ উলিপুর উপজেলা শাখা।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ উলিপুর শাখার সভাপতি নূরে আলম সিদ্দীকি। এতে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি রোকনুজ্জামান মানু, স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল ওহাব, চর দাঁগারকুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক বিনেন্দ্র নাথ ও স্থানীয় সমাজসেবক মাঈদুল ইসলামসহ এলাকার অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ও অভিভাবক।
এ সময় বক্তারা বলেন, ১৬টি ছোট-বড় নদ-নদী বেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলায় প্রতিবছর বর্ষা ও বন্যার সময় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুদের একা গোসল করতে যাওয়া, নদীতীরে খেলাধুলা, নৌযান চলাচলের সময় অসতর্কতা এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বৈঠকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বর্ষা ও বন্যাকালে করণীয় এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারী মনোষা রাণী, মমতাজ বেগম ও মোসলেমা খাতুন বলেন, নদীতীরবর্তী এ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে শিশুদের নদী, খাল-বিল ও বন্যার পানিতে চলাচল বেড়ে যায়। অনেক সময় অভিভাবকদের অসচেতনতা ও নজরদারির অভাবে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ উলিপুর শাখার সভাপতি নূরে আলম সিদ্দীকি বলেন, ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু একটি নীরব দুর্যোগ। সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের নিবিড় নজরদারি এবং নিরাপদ চলাফেরা নিশ্চিত করা গেলে অনেক মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘ এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’







