• ই-পেপার

যার জন্য প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বৃদ্ধি হচ্ছে তাকে খুঁজে বের করতে হবে :  প্রধানমন্ত্রী

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ছে
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে বাজেটে বরাদ্দ চূড়ান্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হারও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আরো পড়ুন
ভারতে সাজা ভোগ করে দেশে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি

ভারতে সাজা ভোগ করে দেশে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি

 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। ফলে সামগ্রিকভাবে বেতন বৃদ্ধি দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে।

সূত্র আরো জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীরা সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এরপরের অর্থবছরে ভাতা অন্তর্ভুক্ত হবে, অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা কাঠামো কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন
ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ : ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা আপনার জানা উচিত

ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ : ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা আপনার জানা উচিত

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকতে পারে এবং আংশিক বাস্তবায়নের কারণও তুলে ধরা হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি যে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। ফলে ওই সুপারিশ অনুযায়ীই নবম পে স্কেল কার্যকর হবে।

জ্বালানি খাতে ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
জ্বালানি খাতে ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, সম্প্রতি ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। 

অর্থমন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলে প্রায় ১০ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, গ্যাসে ১১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, বিদ্যুতে ১৯ হাজার ৮২১ কোটি টাকা এবং সারে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তা সত্ত্বেও সরকার সাধারণ জনগণ, কৃষি ও উৎপাদন খাতকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তাৎক্ষণিক ও সম্ভাব্য উভয় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এখন পর্যন্ত এ প্রভাব প্রধানত জ্বালানি, সার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বেশি দৃশ্যমান। তবে খাতভিত্তিক প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ভরযোগ্যভাবে নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার তথ্য সমন্বয় করা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিদ্যুৎ, পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতের ব্যয় বাড়াতে পারে, যা পরোক্ষভাবে বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়প্রবাহের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সরকার এ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খাতভিত্তিক ক্ষতির নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
 

বিশ্বশান্তিতে অবদান রাখা শান্তিরক্ষীদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বশান্তিতে অবদান রাখা শান্তিরক্ষীদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

বিশ্বশান্তিতে অবদান রাখা শান্তিরক্ষীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ অভিনন্দন জানান।

পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ। সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।

তিনি লেখেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে আমি বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

তিনি আরো লেখেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী আত্মত্যাগ করেছেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের অবদান স্মরণ করছি। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

তারেক রহমান লেখেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাদারি, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তিনি লেখেন, বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরাও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতার মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছেন। এটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান।

তিনি লেখেন, আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরো লেখেন, আসুন, আমরা সবাই শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ ধারণ করে একটি উন্নত ও নিরাপদ পৃথিবী গঠনে একযোগে কাজ করি।
 

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক বা কোনো রাজনৈতিক দলকে ইসলামের সঙ্গে একাকার না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সব কিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকসংক্রান্ত বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের আনা ৬৮ বিধির নোটিশের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তার আগে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সমালোচনা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের লুটপাটের পর ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু নতুন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্বে বসানো হয়েছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিষয়ে ব্যাংক কম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি মোকাবেলা করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। ‘গ্রাহক’ পরিচয়ে আন্দোলন সংঘটিত করারও চেষ্টা চলছে। বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করুক, সেটি স্বাভাবিক। তবে পর্দার আড়াল থেকে বা প্রকাশ্যে অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ও মালিকানা কাঠামো নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেয়ার কেনাবেচা, মালিকানা পরিবর্তন কিংবা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের বিষয়। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনও এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পারে। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। প্রকৃত তথ্য ও পরিসংখ্যান জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

ধর্মকে রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যাংক, ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। ইসলামের প্রশ্নকে রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা উচিত হবে না।

সংসদকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে এবং শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়গুলো আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে অতীতে ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে ফেরত না দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে।