• ই-পেপার

ফার্মগেট থেকে বৃদ্ধ বাবা নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে জবি শিক্ষার্থীর আবেদন

যার জন্য প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বৃদ্ধি হচ্ছে তাকে খুঁজে বের করতে হবে :  প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
যার জন্য প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বৃদ্ধি হচ্ছে তাকে খুঁজে বের করতে হবে :  প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি যার জন্য হচ্ছে তাকে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার সচিবালয় কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। 

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। যে কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কার কারণে প্রকল্পটিতে বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভায় প্রকল্পের খরচ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রকল্পের অধিকাংশ খরচ বা ব্যয় অস্বাভাবিক বলে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এলজিইডি-পিডাব্লিউডিসহ সব বিভাগের রেট শিডিউল এক না হওয়ায় বিরক্ত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য দ্রুত সময়ে রেট শিডিউল একীভূত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল, যা দেখে ভালো লাগত। ঢাকা-বগুড়া সড়কেও গাছ নেই।’ সড়কের পাশে যেন ইউক্লিপটাস-ইপিলি-ইপিল গাছ না লাগানো হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে কক্সবাজারের ঈদমনি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রকল্পটির মাধ্যমে আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করা হবে।

এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়া হয়েছে ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্প। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের ৩৩টি জেলার সার্কিট হাউস এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজনের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে অনুমোদন পেয়েছে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো—‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবার সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বশান্তিতে অবদান রাখা শান্তিরক্ষীদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বশান্তিতে অবদান রাখা শান্তিরক্ষীদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

বিশ্বশান্তিতে অবদান রাখা শান্তিরক্ষীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ অভিনন্দন জানান।

পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ। সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।

তিনি লেখেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে আমি বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

তিনি আরো লেখেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী আত্মত্যাগ করেছেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের অবদান স্মরণ করছি। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

তারেক রহমান লেখেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাদারি, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তিনি লেখেন, বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরাও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতার মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছেন। এটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান।

তিনি লেখেন, আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরো লেখেন, আসুন, আমরা সবাই শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ ধারণ করে একটি উন্নত ও নিরাপদ পৃথিবী গঠনে একযোগে কাজ করি।
 

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক বা কোনো রাজনৈতিক দলকে ইসলামের সঙ্গে একাকার না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সব কিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকসংক্রান্ত বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের আনা ৬৮ বিধির নোটিশের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তার আগে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সমালোচনা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের লুটপাটের পর ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু নতুন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্বে বসানো হয়েছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিষয়ে ব্যাংক কম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি মোকাবেলা করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। ‘গ্রাহক’ পরিচয়ে আন্দোলন সংঘটিত করারও চেষ্টা চলছে। বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করুক, সেটি স্বাভাবিক। তবে পর্দার আড়াল থেকে বা প্রকাশ্যে অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ও মালিকানা কাঠামো নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেয়ার কেনাবেচা, মালিকানা পরিবর্তন কিংবা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের বিষয়। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনও এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পারে। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। প্রকৃত তথ্য ও পরিসংখ্যান জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

ধর্মকে রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যাংক, ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। ইসলামের প্রশ্নকে রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা উচিত হবে না।

সংসদকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে এবং শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়গুলো আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে অতীতে ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে ফেরত না দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে।

সংসদে অর্থমন্ত্রী

হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে চিহ্নিত ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে ও বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আদালতের আদেশে জব্দ ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজিং) করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে অর্থপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে এই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আদালতের আদেশে দেশের অভ্যন্তরে ৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত (অ্যাটাচমেন্ট) এবং ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে ১৫ হাজার ১১১ কোটি ৯২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ রয়েছে। বিদেশে অবরুদ্ধ সম্পদ ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে ১৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। আরো ১২টি অনুরোধ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, অর্থপাচার-সংক্রান্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় হয়েছে। জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় চিহ্নিত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুদকের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কাজ করছে।

পাচার হওয়া অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড এবং হংকং-চীনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং-চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড বিকল্প সহযোগিতা কাঠামোর বিষয়ে মতামত দিয়েছে। এ ছাড়া পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক অনেক আর্থিক পণ্য এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। বাজার তদারকি ও কার্যকারিতা বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিশনে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ফলে পুঁজিবাজারে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপি শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জারি করা নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকে বিশেষ তদারকির আওতার আনা হয়েছে। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন ঋণগ্রহীতা পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বোচ্চ কত ঋণ নিতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হবে। ঋণখেলাপিদের রিটের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত করার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহকে উৎসাহিত করা হবে। বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠার জন্যও আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। আগে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে আমানত ফেরত পেতে ১৮০ কার্যদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, নতুন আইনে তা কমিয়ে ১৭ কার্যদিবস করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ব্যাংক সংকটে পড়লে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।