• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে

রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের, রুশ কর্তৃপক্ষের সম্মতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের, রুশ কর্তৃপক্ষের সম্মতি

বাংলাদেশ থেকে আগামী বছরের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি ১ লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রা‌শিয়ার স‌ঙ্গে আলোচনা ক‌রেছে‌ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে রাশিয়া।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ্য জানা‌নো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রাশিয়ায় কাজ করছেন। সেখানে জনশক্তি রপ্তানি এক লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হ‌লে তারা দ্রুত এ বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়। উভয়পক্ষ শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ান ফেডারেশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করেন। সফরকালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজ আয়োজন করেন। মধ্যাহ্নভোজে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আরো পড়ুন
তাপে পুড়ছে ৫ জেলা

তাপে পুড়ছে ৫ জেলা

 

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। উভয়পক্ষই এই সম্পর্ককে আগামী দিনে আরো শক্তিশালী, গতিশীল ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে এত উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদলকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই সফর বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরো সুদৃঢ় করার অভিন্ন আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাপে পুড়ছে ৫ জেলা

অনলাইন ডেস্ক
তাপে পুড়ছে ৫ জেলা

দেশের পাঁচ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরো বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে গরমের দাপট আরো বাড়তে পারে। 

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বৃষ্টি নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে  সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

আরো পড়ুন
সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

 

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমিবায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমিবায়ু আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে আরো অগ্রসর হয়ে সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে।

এদিকে গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ঝরেছে সিলেটে ৫৪ মিলিমিটার। 

নির্ধারিত সময়ের শুরুতে রিটার্ন জমা দিলে করছাড়, দেরিতে গুনতে হবে জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
নির্ধারিত সময়ের শুরুতে রিটার্ন জমা দিলে করছাড়, দেরিতে গুনতে হবে জরিমানা

আগামী অর্থবছর থেকে নির্ধারিত সময়ের শুরুতে রিটার্ন জমা দিলে করছাড় মিলবে, আর দেরি করলে গুনতে হবে জরিমানা। একই সঙ্গে কমানো হচ্ছে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সুবিধা। এছাড়া স্বর্ণালংকার ও ডিজিটাল সম্পদ বিক্রির মুনাফার ওপর মূলধনি কর (গেইন ট্যাক্স) আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।  

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, কর ব্যবস্থা আরও স্বয়ংক্রিয় ও সময়োপযোগী করতে আগামী বাজেটে আয়কর আইনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।  

বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে বিলম্ব সুদ আরোপের বিধান রয়েছে। তবে প্রতিবছরই করদাতাদের সুবিধার্থে এই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানো হয়। নতুন ব্যবস্থায় এই জটিলতা দূর করতে পুরো অর্থবছরকে চারটি প্রান্তিকে ভাগ করে রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রণোদনা ও জরিমানার কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে। 

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতা পরিশোধিত করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় পাবেন। তবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনও জরিমানা না থাকলেও বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাওয়া যাবে না।  

অপরদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ জরিমানা দিতে হবে। আর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই হারে জরিমানা আরোপ করা হবে। এই অর্থ মূল করের সঙ্গে যুক্ত হবে।  

বর্তমানে সঞ্চয়পত্র, জীবনবিমা, ডিপিএসসহ বিভিন্ন অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত পাওয়া যায়। বিদ্যমান আইনে মোট অনুমোদিত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াতের সুযোগ রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে এই সীমা কমিয়ে অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে করদাতারা আগের তুলনায় কম কর সুবিধা পাবেন। তবে কর রেয়াতের আওতাভুক্ত খাতগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। 

বাজেট প্রস্তাবে স্বর্ণালংকার, স্বর্ণের বার, রৌপ্য, মূল্যবান রত্ন, ধাতব মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, চিত্রকর্ম, এন্টিকস এবং ক্লাব সদস্যপদ হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্জিত আয়কে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এর আওতায় করদাতার রিটার্নে প্রদর্শিত স্বর্ণ বিক্রি করে যে মুনাফা অর্জিত হবে, তার ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনি কর আরোপ করা হবে। অর্থাৎ সম্পদ ক্রয়ের সময়ের মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর এই কর প্রযোজ্য হবে। করদাতাদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত কর পরিশোধ হলে তা ৬০ দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব খোলা, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়ন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ গ্রহণ এবং বিআরটিএতে প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হবে। 

নবম পে স্কেলের চাপ : পরিচালন ব্যয় বাড়ল ৮ হাজার কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
নবম পে স্কেলের চাপ : পরিচালন ব্যয় বাড়ল ৮ হাজার কোটি টাকা
সংগৃহীত ছবি

আগামী জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, পে স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নসহ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক। তিনি বলেছেন, কর্মচারীদের মধ্যে একটা চরম হতাশা কাজ করছে যে, আসলেই আমরা ৫০ শতাংশ পাব নাকি ১০০ শতাংশ পাব? যদিও সরকার থেকে আমরা কোনো আপডেট জানি না।

কঠোর ব্যয় সংকোচনের ঘোষণা থাকলেও আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় শেষ মুহূর্তে অনুৎপাদনশীল এ খাতে আরো ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে পরিচালন ব্যয় লাফিয়ে বেড়ে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াচ্ছে, যা ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) দ্বিগুণেরও বেশি। বিশাল এই পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে উন্নয়ন খাত যেমন সংকুচিত হচ্ছে, তেমনই অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আয় এবং সরকারি সেবার মান বাড়াতে না পারলে বিশাল ঘাটতির এই বাজেট বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

এর আগে মে মাসে বাজেটের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরির সময় পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব ছিল। একই সঙ্গে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর হিসাবনিকাশ বদলে যায়। নতুন পে স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর করতে বাজেটে অতিরিক্ত ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তাই শেষ পর্যন্ত পরিচালন ব্যয়ে আরও ৮ হাজার কোটি টাকা যুক্ত করা হয়। এর ফলে সামগ্রিক বাজেটের আকার বেড়ে হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এতে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছু ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে উৎপাদন না বাড়িয়ে ভোগ ব্যয় বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বহু বছর ধরে বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের সমন্বয় হয়নি। মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বেতন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। তবে এই ব্যয়ের বিপরীতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সেবার মানও বাড়তে হবে। শুধু বেতন বৃদ্ধি করলে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়বে; কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি। যদি রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ে, তাহলে বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারকে ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হবে। এতে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এদিকে, পরিচালন ব্যয়ের এই লাগামহীন বৃদ্ধির কারণে ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে পড়ছে উন্নয়ন খাতের পরিধি। ফলে থমকে যাচ্ছে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি বিনিয়োগের গতি। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য পরিচালন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য থাকা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হলে কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতি, সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ, বিলাসবহুল গাড়ি কেনা এবং অনুৎপাদনশীল খাতের খরচ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যদিকে, রাজস্ব আয় বাড়ানো, ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কার, এডিপি বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো খাত উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা এবং রাজস্ব খাতের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় বা অপচয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু বরাদ্দের আকার না বাড়িয়ে ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বেসরকারি খাতের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ধরে রাখতে সরকারকে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অনুসরণ করতে হবে।