• ই-পেপার

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ সিন্ডিকেটের বিস্ময়কর জাল

কৃষি ও পল্লী খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু

অনলাইন ডেস্ক
কৃষি ও পল্লী খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি আবর্তনযোগ্য (রিভলভিং) পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করাই এ তহবিলের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি ও পল্লী অঞ্চলে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতেও এ তহবিল ভূমিকা রাখবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

স্কিমের আওতায় তহবিলের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা, যা আবর্তনযোগ্য ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা এ স্কিমের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কৃষি ঋণ বিভাগ-২ এ স্কিম পরিচালনা করবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বার্ষিক ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং তারা ওই অর্থ গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানিয়েছে, এ স্কিমের আওতায় বিতরণ করা কৃষি ও পল্লী ঋণ বা বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে গণ্য করতে পারবে।

সকাল ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
সকাল ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

দেশের ১৬ জেলায় সকাল ৯টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এজন্য এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। 

আবহাওয়া অফিস জানায়, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অপচয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অপচয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে তিনি দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করে কীভাবে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার পথ দেখাচ্ছেন। তার কয়েকটি পদক্ষেপ জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সর্বশেষ উদাহরণ হলো, সরকারি অর্থের অপচয় না করে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার কারণে এক দিকে যেমন টি স্পোর্টস, বিটিভি ও সময় টিভি বিশ্বকাপের খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে। তেমন রাষ্ট্রের প্রায় দেড় শ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

সিঙ্গাপুরের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড’ শুরুতে ফিফার কাছ থেকে এ সম্প্রচারস্বত্ব কিনে নিয়েছিল। তারা বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর কাছে ১৫১ কোটি টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেয়। কর, ভ্যাটসহ যার মোট মূল্য দাঁড়াত প্রায় ২০০ কোটি টাকা। চড়া মূল্যের কারণে কোনো চ্যানেল এটি কিনতে রাজি হয়নি। এ সময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দেখাতে পারবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সরকার জনগণের বিপুল অর্থ এভাবে অপচয় না করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ যখন স্প্রিংবকের কাছ থেকে বিশ্বকাপ সম্প্রচার কিনতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেয়, তখন প্রতিষ্ঠানটি বাধ্য হয়ে খেলার স্বত্ব ফিফাকে ফেরত দেয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাফুফে সভাপতি ও তথ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং গতবারের চেয়েও কম দামে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করার স্বত্ব কিনে নেয়। বাংলাদেশের ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে মোট খরচ হচ্ছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের বারের চেয়ে এবার খরচ কমেছে ২৫ কোটি টাকা। অথচ এবার বিশ্বকাপের সম্প্রচার খরচ সবচেয়ে বেশি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে এ দেশে রীতিমতো লুটপাট হয়েছিল।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানো নিয়ে জটিল অবস্থা তৈরি হয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ওই বছর খেলা দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এজন্য তমা কনস্ট্রাকশনকে দিতে হয় ৯৮ কোটি টাকা। যাদের এ ধরনের কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা ছাড়া তমা কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে যাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এ প্রচারস্বত্ব কেনা যায়, এ-বিষয়ক প্রস্তাবে তখন নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আওয়ামী লীগ আমলে ঠিকাদারি কাজ বেশি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি তমা কনস্ট্রাকশন।

তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক আতাউর রহমান ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন (নোয়াখালী-২)। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। তিনি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। এটাই বিগত তিন মাসে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র পদক্ষেপ নয়।

মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের এ বিদেশ সফরের অনুমোদন দেননি। মশা নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই, দেশেই সন্ধ্যার পর কোনো ডোবার পাশে অবস্থান করলে মশা নিধনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব বলে অভিমত দিয়েছেন তিনি। কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার প্রস্তাব অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং তিনি মত দিয়েছেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে নতুন নামকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর অফিসে দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাশতা মিলিয়ে মোট বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ১৫০ টাকা, যা আগে ছিল এর ৫ গুণের বেশি। এমপিদের ১ কোটি টাকার থোক বরাদ্দের নামে লুটপাট বন্ধে প্রধানমন্ত্রী যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে সরাসরি এমপিদের কাছে থোক বরাদ্দের অর্থ যাবে না। তারা তাদের এলাকায় কী কী উন্নয়নকাজ লাগবে তার তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাবেন। প্রধানমন্ত্রী চাহিদা নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কাজ করার নির্দেশ দেবেন। এর ফলে একদিকে যেমন দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ হবে, তেমন সারা দেশে পরিকল্পিত এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। এ রকম উদাহরণ অনেক।

বাংলাদেশে বিগত সময়ে উন্নয়নের নামে অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি বললেও কম বলা হবে, রীতিমতো লুটপাট হয়েছে। একেকটি প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে লাগামহীনভাবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কয়েক গুণ খরচ বাড়ানো হয় শুধু দুর্নীতির জন্য। এভাবেই জনগণের অর্থ অপচয় হয়েছে। ইউনূস সরকারের আমলে এ দুর্নীতি বন্ধ হয়নি বরং আরো বাড়ে। বিদেশ সফরের নামে ইউনূস কোটি কোটি টাকার অপচয় করেছেন। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ রীতিমতো হরিলুট হয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহ তৎকালীন জেলা পরিষদের মাধ্যমে নিজেদের দুই উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে তার জেলার অন্য ১২ উপজেলার সঙ্গে বৈষম্য করেছেন। উল্লিখিত তহবিলের টাকা ছাড়াও তারা দুজন তাদের এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আরো অনেক বড় বড় বরাদ্দ এনেছেন বলে দাবি করেছেন মোস্তাক মিয়া। এভাবেই বিগত বছরগুলোতে দুর্নীতি ও অপচয় হয়েছে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়।

আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। শুধু নীতি গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হননি, নজির স্থাপন করে তিনি সবাইকে দুর্নীতিমুক্ত থাকার বার্তা দিচ্ছেন। দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতির রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে বটে, কিন্তু অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে হলে দেশের বেসরকারি খাতকে বাঁচাতে হবে।

ইউনূস সরকারের দেড় বছরে বেসরকারি খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বেসরকারি খাত ধ্বংসের মিশনে নেমেছিলেন ইউনূস এবং তার বাহিনী। বাংলাদেশের বেসরকারি খাত এখন মনোবলহীন, হতাশ। তারা হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। অনেকেই উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় যেভাবে বেসরকারি খাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল ফখরুদ্দীন-মইন সরকার, শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তালিকা প্রকাশ করে বেসরকারি খাতকে বিকলাঙ্গে পরিণত করেছিল। সেই একই ধারায় ইউনূস সরকার এক-এগারোর অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার মিশনে নেমেছিল।

ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, বিদেশভ্রমণে বাধা দিয়ে ইউনূস সরকার বেসরকারি খাতে এক ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। কলকারখানায় মব সন্ত্রাস, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নির্বিচার হামলা, অগ্নিসংযোগ করে দেশের অর্থনীতি কুড়ি বছর পিছিয়ে দিয়েছে ইউনূস সরকার। ইউনূস আমলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বেসরকারি উদ্যোক্তারা কাজকর্ম বন্ধ করে দেন। অর্থ পাচারের অসত্য গল্প বানিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল করা হয় বহু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, ১১ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের কল্পিত অভিযোগ এনে নজিরবিহীন হয়রানি। কীসের ভিত্তিতে কোনোরকম তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এই ১১ প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হলো? কেন তাদের সীমাহীন হয়রানি করা হলো? এর ফলে দেশের সব বড় ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তার মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত দেড় বছর সোশ্যাল মিডিয়া যেন সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছে। তারা বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অবিরাম অপপ্রচারে লিপ্ত। এদের কুৎসিত আক্রমণের শিকার হয়ে অনেকেই নিজেদের কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এখন সরকারের জন্য হুমকি। তারা যা খুশি বলছে। মানুষের চরিত্রহননের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসবুক এবং ইউটিউবকে। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে চলছে চাঁদাবাজি এবং ব্ল্যাকমেল। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ না করলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতি হবে দেশের অর্থনীতির। শুধু অর্থনীতি নয়, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় এবং সাহসী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। আগামী বৃহস্পতিবার নতুন সরকার প্রথম বাজেট পেশ করবে। এখন দেশ বাঁচাতে, গণতন্ত্র রক্ষায় অর্থনীতি বাঁচাতে হবে। অর্থনীতি বাঁচাতে হলে দরকার বেসরকারি খাত সচল করা। এজন্য অবিলম্বে বেসরকারি খাতের ওপর ইউনূস আমলের সব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। সব বেসরকারি উদ্যোক্তাকে আস্থায় আনতে হবে। তাদের জন্য সৃষ্টি করতে হবে ভয়হীন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। ভয়-আতঙ্কের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব নয়, সম্ভব নয় ব্যবসা পরিচালনা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে দেশের অর্থনীতি সচল হবে না।

প্রধানমন্ত্রী মাত্র তিন মাসের মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রমাণ করেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি বদ্ধপরিকর। যেভাবে তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করে দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করছেন, সেভাবেই বেসরকারি খাত পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। যেভাবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের ক্ষতগুলো সারানোর চেষ্টা করছেন, সেভাবেই ইউনূস সরকারের স্বেচ্ছাচারিতায় মুমূর্ষু বেসরকারি খাতকে সুস্থ করে তোলার উদ্যোগ নেবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা।

বিশাল ঘাটতি মেটাতে ঋণে অর্থমন্ত্রীর বাজি!

অনলাইন ডেস্ক
বিশাল ঘাটতি মেটাতে ঋণে অর্থমন্ত্রীর বাজি!
সংগৃহীত ছবি

খোদ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন দেশের অর্থনীতি কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে টেনে তুলতে বিশাল আকারের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এই বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা সত্ত্বেও ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে সারা বছর দেশিবিদেশি খাত থেকে ঋণ নিতে হবে। যদিও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত। খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংকগুলোতে মূলধন ও নগদ অর্থের সংকট প্রকটতর হয়েছে। তবুও এই বিশাল আকারের বাজেট ঘাটতি মেটাতে হবে এসব উৎস থেকে ঋণ নিয়ে, যা এক ধরনের বাজি ধরার মতোই মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনেক বলেন, বাজেট ঘাটতি কোনো সমস্যা নয়, যদি তা উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ব্যবহƒত হয়। কিন্তু রাজস্ব আহরণ দুর্বল থাকলে এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ঋণ-পরিশোধের চাপ অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে তা অর্জন কঠিন হবে।

সূত্র জানায়, একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং ধীরগতির বেসরকারি বিনিয়োগ; অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের প্রয়োজন। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা ব্যয়ের পরিমাণ নয়, সেই বাজেটের ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা।

এদিকে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে সরকার বিশাল এ বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। আর সেই ঘাটতি পূরণে মূলত দুটি প্রধান উৎসের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস (ঋণ ও অনুদান) থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি এবং অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক ও অন্যান্য খাত) থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে বাজেট ঘাটতি সাধারণত সহনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের ঘাটতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ঘাটতি পূরণে সরকারের ঋণনির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঘাটতি বাজেট নিজে কোনো সমস্যা নয়। বরং উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রায়ই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ঘাটতি বাজেট দেয়। প্রশ্ন হলো, সেই ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা থেকে কতটা অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যাবে।

ঋণ কি প্রবৃদ্ধির হাতিয়ার : অর্থনীতির পাঠ্যবই বলছে, রাষ্ট্র যখন ঋণ নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর, সড়ক, রেলপথ, শিল্প অবকাঠামো কিংবা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ করে, তখন সেটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায়। দেশের ইতিহাসও সেই কথাই বলে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল কিংবা বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধির সুফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেট ক্যারিং ক্যাপাসিটি’ বা ঋণ ধারণক্ষমতা। ঋণ নেওয়া কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন সেই ঋণের অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয় কিংবা দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়। তখন ঋণ উন্নয়নের ইঞ্জিন না হয়ে অর্থনীতির জন্য পরিণত হয় ফাঁদে।

ব্যাংক খাতের ওপর বাড়তি চাপ : ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। এর মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি এখানেই। বর্তমানে ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদহারের চাপে রয়েছে। এই অবস্থায় সরকার যদি বড় অঙ্কের ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব। সরকার ও বেসরকারি খাত একই ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে, শেয়ারবাজার থেকে শিল্প ঋণ নিলে কিছুটা সুফল মিলবে।

বৈদেশিক ঋণের আরেক বাস্তবতা : ঘাটতি অর্থায়নের দ্বিতীয় বড় উৎস বৈদেশিক ঋণ। প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা রয়েছে। সরকার আগামী অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ নিলেও এর মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও আসল পরিশোধে। অর্থাৎ নতুন ঋণের একটি বড় অংশ উন্নয়ন ব্যয়ে নয়, বরং পুরোনো দায় শোধে চলে যাবে। আর সংশ্লিষ্টদের মতে এটিই দেশের ঋণচক্রের নতুন বাস্তবতা। কয়েক বছর আগেও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। এখন বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের সময় শুরু হওয়ায় সেই চাপ দ্রুত বাড়ছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন