• ই-পেপার

অপচয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষি ও পল্লী খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু

অনলাইন ডেস্ক
কৃষি ও পল্লী খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি আবর্তনযোগ্য (রিভলভিং) পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করাই এ তহবিলের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি ও পল্লী অঞ্চলে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতেও এ তহবিল ভূমিকা রাখবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

স্কিমের আওতায় তহবিলের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা, যা আবর্তনযোগ্য ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা এ স্কিমের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কৃষি ঋণ বিভাগ-২ এ স্কিম পরিচালনা করবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বার্ষিক ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং তারা ওই অর্থ গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানিয়েছে, এ স্কিমের আওতায় বিতরণ করা কৃষি ও পল্লী ঋণ বা বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে গণ্য করতে পারবে।

সকাল ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
সকাল ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

দেশের ১৬ জেলায় সকাল ৯টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এজন্য এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। 

আবহাওয়া অফিস জানায়, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ সিন্ডিকেটের বিস্ময়কর জাল

অনলাইন ডেস্ক
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ সিন্ডিকেটের বিস্ময়কর জাল
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য কেউ রাতভর গোপন ‘বুথে’ বসে মুখস্থ করেছেন ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর, কেউ আবার মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটার সুবিধা। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়োগব্যবস্থার ভিতরে গড়ে ওঠা এমন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এ চক্রের হাত ধরে শত শত প্রার্থী মেধা ডিঙিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন, যার বিনিময়ে হাতবদল হয়েছে কোটি কোটি টাকা।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভুয়া সনদ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক অনুসন্ধানে সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থার এ অন্ধকার চিত্র সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৯ জুন রাজধানীর পল্টন থানায় করা প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপপরিদর্শক (এসআই) নিপ্পন চন্দ্র চন্দ।

তিন দশকের প্রশ্নফাঁস বাণিজ্য : আদালতে জমা দেওয়া সিআইডির অভিযোগপত্রের তথ্যানুযায়ী, পিএসসির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে অন্তত ৩০ বছর ধরে সক্রিয় ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, মধ্যস্বত্বভোগী এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। তদন্তে বলা হয়েছে, বিসিএস থেকে শুরু করে রেলওয়ে, বিআরটিএ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন আগেভাগে সংগ্রহ করে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। পদভেদে একজন প্রার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হতো ৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত।

প্রশ্নফাঁস থেকে শতকোটি টাকার সম্পদ : সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের অর্থে চক্রের সদস্যরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সৈয়দ আবেদ আলীর নামে ও তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে ৪১ কোটির বেশি টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম ছাত্র হলেও বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার এবং একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা গড়ে তোলেন। পিএসসির অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলামের কাছ থেকে গ্রেপ্তারের সময় নগদ ৭১ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। এ ছাড়া পিএসসির উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৩ কোটি টাকা এবং চক্রের সদস্য আবু সোলায়মান মো. সোহেলের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ১০ কোটি টাকা জমার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

‘বুথে’ বসে প্রশ্ন মুখস্থ : তদন্তে উঠে এসেছে চক্রটির সবচেয়ে আলোচিত কৌশল-গোপন ‘বুথ’। রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, বাসাবো ও এজিবি কলোনির বিভিন্ন বাসা ও আবাসনে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার এক থেকে দুই দিন আগে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ও উত্তর সারা রাত ধরে মুখস্থ করানো হতো। পরীক্ষার দিন ভোরে তাদের সরাসরি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হতো। ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এমন ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। একইভাবে রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার আগে কয়েক ডজন প্রার্থীকে সাভারের পালমিরা রিসোর্টে রেখে প্রশ্ন ও উত্তর পড়ানো হতো।

প্রশ্ন পেয়ে পুলিশ ক্যাডার! : অভিযোগপত্রের অন্যতম আলোচিত তথ্য হলো ৩০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া রহমানকে ঘিরে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৈয়দ আবেদ আলীর মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে তিনি পুলিশ ক্যাডারে চাকরি পান। পরে তিনি নিজেও প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে কাজ করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। জানতে চাইলে জাকারিয়া রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো কিছুর সঙ্গে তার সামান্যতম সংশ্লিষ্টতা নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজির (মিডিয়া) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।

পিএসসির ভিতর থেকেই বের হতো প্রশ্ন : তদন্ত অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের সুসংগঠিত নেটওয়ার্কটির শেকড় ছিল পিএসসির ভেতরেই। সাজেদুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, তিনি বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন পিএসসির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতেন। এমনকি ২০২৪ সালে রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন পিএসসি সদস্যের চেম্বারে রাখা ট্রাঙ্ক থেকে চুরি করে ফটোকপি করার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

এবার নজরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ : মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভুয়া সনদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে মাঠে নেমেছে দুদক। সংস্থাটির সূত্র বলছে, বিভিন্ন বিসিএস ও সরকারি দপ্তরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের সনদ যাচাই করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে ভুয়া বা জাল সনদ ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। দুদক ইতোমধ্যে ৩৮তম থেকে ৪৩তম বিসিএস পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে নবম বিসিএস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোটার সুবিধা নিয়ে চাকরিতে প্রবেশকারীদের তথ্যও যাচাই করছে। পানগাঁও কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার সাবরিনা আমিনের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়ার তথ্য পায় দুদক। তার বাবা আমিনুল ইসলামের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটের সঠিকতা যাচাইয়ে অধিকতর অনুসন্ধান শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৭ এপ্রিল ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় ভুয়া সার্টিফিকেটে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি।

এদিকে গত বছরের ২৯ মে দুদকে জমা হওয়া এক অভিযোগ থেকে জানা যায়, জাল ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দাখিল করে এলজিআরডি অডিট অধিদপ্তরে চাকরি নেন গোপালগঞ্জ মুকসুদপুরের মাহমুদুল হাসান মামুন নামে এক ব্যক্তি। এর আগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর মাহমুদুল হাসান মামুন ও তার স্ত্রী তানজিন ফারহার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু করেন দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম। জানতে চাইলে মাহমুদুল হাসান মামুন এ প্রতিবেদককে বলেন, দুদক আমার ও আমার স্ত্রীর বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান করছে কি না তা জানা নেই। আর আমার বাবার নাম লাল মুক্তিবার্তায় রয়েছে। অতএব মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট ভুয়া নয়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশাল ঘাটতি মেটাতে ঋণে অর্থমন্ত্রীর বাজি!

অনলাইন ডেস্ক
বিশাল ঘাটতি মেটাতে ঋণে অর্থমন্ত্রীর বাজি!
সংগৃহীত ছবি

খোদ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন দেশের অর্থনীতি কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে টেনে তুলতে বিশাল আকারের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এই বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা সত্ত্বেও ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে সারা বছর দেশিবিদেশি খাত থেকে ঋণ নিতে হবে। যদিও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত। খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংকগুলোতে মূলধন ও নগদ অর্থের সংকট প্রকটতর হয়েছে। তবুও এই বিশাল আকারের বাজেট ঘাটতি মেটাতে হবে এসব উৎস থেকে ঋণ নিয়ে, যা এক ধরনের বাজি ধরার মতোই মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনেক বলেন, বাজেট ঘাটতি কোনো সমস্যা নয়, যদি তা উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ব্যবহƒত হয়। কিন্তু রাজস্ব আহরণ দুর্বল থাকলে এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ঋণ-পরিশোধের চাপ অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে তা অর্জন কঠিন হবে।

সূত্র জানায়, একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং ধীরগতির বেসরকারি বিনিয়োগ; অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের প্রয়োজন। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা ব্যয়ের পরিমাণ নয়, সেই বাজেটের ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা।

এদিকে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে সরকার বিশাল এ বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। আর সেই ঘাটতি পূরণে মূলত দুটি প্রধান উৎসের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস (ঋণ ও অনুদান) থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি এবং অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক ও অন্যান্য খাত) থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে বাজেট ঘাটতি সাধারণত সহনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের ঘাটতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ঘাটতি পূরণে সরকারের ঋণনির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঘাটতি বাজেট নিজে কোনো সমস্যা নয়। বরং উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রায়ই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ঘাটতি বাজেট দেয়। প্রশ্ন হলো, সেই ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা থেকে কতটা অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যাবে।

ঋণ কি প্রবৃদ্ধির হাতিয়ার : অর্থনীতির পাঠ্যবই বলছে, রাষ্ট্র যখন ঋণ নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর, সড়ক, রেলপথ, শিল্প অবকাঠামো কিংবা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ করে, তখন সেটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায়। দেশের ইতিহাসও সেই কথাই বলে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল কিংবা বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধির সুফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেট ক্যারিং ক্যাপাসিটি’ বা ঋণ ধারণক্ষমতা। ঋণ নেওয়া কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন সেই ঋণের অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয় কিংবা দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়। তখন ঋণ উন্নয়নের ইঞ্জিন না হয়ে অর্থনীতির জন্য পরিণত হয় ফাঁদে।

ব্যাংক খাতের ওপর বাড়তি চাপ : ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। এর মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি এখানেই। বর্তমানে ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদহারের চাপে রয়েছে। এই অবস্থায় সরকার যদি বড় অঙ্কের ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব। সরকার ও বেসরকারি খাত একই ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে, শেয়ারবাজার থেকে শিল্প ঋণ নিলে কিছুটা সুফল মিলবে।

বৈদেশিক ঋণের আরেক বাস্তবতা : ঘাটতি অর্থায়নের দ্বিতীয় বড় উৎস বৈদেশিক ঋণ। প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা রয়েছে। সরকার আগামী অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ নিলেও এর মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও আসল পরিশোধে। অর্থাৎ নতুন ঋণের একটি বড় অংশ উন্নয়ন ব্যয়ে নয়, বরং পুরোনো দায় শোধে চলে যাবে। আর সংশ্লিষ্টদের মতে এটিই দেশের ঋণচক্রের নতুন বাস্তবতা। কয়েক বছর আগেও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। এখন বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের সময় শুরু হওয়ায় সেই চাপ দ্রুত বাড়ছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন