ডিম দিয়ে তৈরি খাবারের তালিকা বেশ দীর্ঘ। অমলেট, পোচ, ডিম ভুনা, কালিয়া, কোরমা কিংবা ভাপা— প্রতিদিনের রান্নাঘরে ডিমের ব্যবহার নিত্যদিনের ব্যাপার। তবে একই ধরনের পদ বারবার খেতে খেতে অনেক সময় নতুন স্বাদের খোঁজ শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে রেস্টুরেন্টের জনপ্রিয় খাবার ‘এগ লবাবদার’ হতে পারে দারুণ একটি বিকল্প।
ঘন, মসৃণ ও ক্রিমি গ্রেভিতে তৈরি এই পদটি স্বাদে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি দেখতে আকর্ষণীয়। বিশেষ কোনো আয়োজন, অতিথি আপ্যায়ন বা ছুটির দিনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এটি সহজেই জায়গা করে নিতে পারে খাবারের টেবিলে।
যা যা লাগবে
এগ লবাবদার তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে ৪ থেকে ৫টি সেদ্ধ হাঁসের ডিম, ২টি মাঝারি আকারের পেঁয়াজ, ১টি টমেটো, ৭ থেকে ৮টি কাজুবাদাম, ১ টেবিল চামচ চারমগজ, ৭ থেকে ৮ কোয়া রসুন এবং ৫ থেকে ৬টি কাঁচা মরিচ।
এ ছাড়া লাগবে ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ কাশ্মীরি মরিচের গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ ঘি, ১টি তেজপাতা, ৩ থেকে ৪টি গোলমরিচ, ১ থেকে ২ টেবিল চামচ ফ্রেশ ক্রিম, স্বাদমতো লবণ ও চিনি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রান্নার তেল।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে ডিমগুলো সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে লম্বালম্বি দুই ভাগ করে নিন। এরপর সামান্য লবণ ও মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে তেলে হালকা করে দুই পাশ ভেজে তুলে রাখুন। একটি ডিম আলাদা করে খুব মিহি করে কুচি করে রাখুন।
এরপর একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তেজপাতা ও গোলমরিচ ফোড়ন দিন। তারপর বড় টুকরো করে কাটা পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে হালকা ভেজে নিন। পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে টমেটো, কাজুবাদাম, চারমগজ, লবণ, হলুদ ও কাশ্মীরি মরিচের গুঁড়া যোগ করুন। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে সামান্য পানি দিয়ে ঢেকে দিন।
প্রায় পাঁচ মিনিট রান্না করার পর মিশ্রণটি নামিয়ে ঠান্ডা করে ব্লেন্ডারে মিহি পেস্ট তৈরি করুন। এতে গ্রেভি হবে আরও মসৃণ ও সমৃদ্ধ।
গ্রেভি তৈরির শেষ ধাপ
এবার কড়াইয়ে ঘি গরম করে ব্লেন্ড করা মিশ্রণটি ঢেলে দিন। মাঝারি আঁচে নেড়ে রান্না করুন। মসলা থেকে তেল আলাদা হয়ে এলে আগে থেকে কুচি করে রাখা সেদ্ধ ডিম মিশিয়ে দিন। এরপর ভেজে রাখা ডিমগুলো গ্রেভির মধ্যে সাজিয়ে অল্প পানি দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন।
সবশেষে ওপর থেকে ফ্রেশ ক্রিম ছড়িয়ে দিন। চাইলে কিছু গ্রেট করা সেদ্ধ ডিমও ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে খাবারের স্বাদ ও সৌন্দর্য দুটোই বাড়বে।
পরিবেশন
গরম গরম এগ লবাবদার পোলাও, নান, পরোটা, রুমালি রুটি কিংবা সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়। মশলাদার ও ক্রিমি স্বাদের এই পদটি একবার তৈরি করলে পরিবারের সবাই নিশ্চয়ই পছন্দ করবে। বিশেষ করে ডিমপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে পরিচিত স্বাদের বাইরে নতুন এক অভিজ্ঞতা।




