• ই-পেপার

আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে সন্তানকে রক্ষা করুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে সন্তানকে রক্ষা করুন

কয়েকবছর আগে বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে ছাত্রদের গাদাগাদি করে থাকার একটি ছবি ছাপা হয়েছিল। ছবিতে ছাত্রদের দুরবস্থার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছিল। ছবিতে তারচেয়েও ভয়ঙ্কর ছিল আরেকটি ছবি। এতগুলো তরুণ এক রুমে গাদাগাদি করে আছে। কিন্তু কেউ কারো সঙ্গে কথা বলছে না, কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না পর্যন্ত। সবার চোখ যার যার ফোনের স্ক্রিনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আরো বেশি অসামাজিক করে তুলছে। শুধু অসামাজিক করা পর্যন্ত সীমিত থাকলেও না হয় চলতো। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি এখন এক ভয়ঙ্কর সঙ্কট সৃষ্টি করছে।

আরো পড়ুন
শিগগির হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ

শিগগির হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ

 

আসক্তি শব্দটা আগে শুধু মাদকের সঙ্গেই ব্যবহার করা হতো। আসলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবকিছু্ই খারাপ। এমনকি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভাতও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। পান, তামাক, সিগারেট থেকে শুরু করে হিরোইন, গাজা, মদ—সবই ক্ষতিকর। প্রচলিত এসব নেশা মানুষ লুকিয়ে চুরিয়ে করে। কিন্তু এসব নেশার চেয়েও ভয়ঙ্কর এক নেশা আমাদের চোখের সামনেই আমাদের সন্তানদের বর্তমান, ভবিষ্যত গ্রাস করে নিচ্ছে। আর এই নেশার নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অন্ধকার এক ভার্চুয়াল জগৎ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হাজারটা ভালো দিক আছে। গোটা বিশ্বে কোটি মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উপকার করেছে; আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপ্রয়োজনীয়, অতিরিক্ত ব্যবহার অনেকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসক্তি আমাদের জীবনে বহুবিধ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ভার্চুয়াল জগতের আসক্তির ফলে বাস্তব জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যাওয়া, চাইলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে বেরুতে না পারা, কোনো কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে না পারলে বিরক্ত বা ক্রদ্ধ হওয়া, অনলাইনে না থাকলেও কল্পনায় ভার্চুয়াল জগতে বাস করা, লুকিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার, এমনকি খাওয়া, ঘুম, ব্যয়ামের রুটিন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে আমাদের জীবনে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাস্তব সম্পর্ক ভুলে যাওয়া, নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি মনোযোগী না হওয়া, নিজের ক্ষতি করা, এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন
ইরানীদের কি তাহলে কোন দেশপ্রেম নেই— প্রশ্ন নট আউট নোমানের

ইরানীদের কি তাহলে কোন দেশপ্রেম নেই— প্রশ্ন নট আউট নোমানের

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আগের জগতটা ছিল বাস্তব। মানুষে মানুষে সম্পর্ক হতো মুখের কথায়, একটু ছোঁয়া, একটু মান-অভিমান আমাদের ভাসিয়ে নিতো সুখের সাগরে। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ঝগড়া-অভিমান— সবই হতো মুখোমুখি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সৃষ্টি করা এক কল্পনার জগৎ আমাদের বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এক বিভ্রমের জগতে আমরা কাল্পনিক সুখের সাগরে ভাসতে গিয়ে আসলে ডুবে যাই। পাশের ঘরে হয়তো মা অসুখে কষ্ট পাচ্ছে। আর সন্তান ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে মা দিবসের আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছে। বাস্তবের মায়ের চেয়ে কল্পনার ’মা দিবস’ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কারণ মা দিবসের স্ট্যাটাসের লাইক আসবে, কমেন্টস আসবে। সে মনের সুখে বারবার চেক করে আপডেট নেবে। পাশের রুমে মা যে কষ্ট পাচ্ছে, সে খেয়াল রাখার সময় কোথায়? ভার্চুয়াল জগতে আচ্ছন্ন থেকে আমরা ভুলে যাই পাশের প্রিয়জন বা বন্ধুর কথা। আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকা সত্যিকারের স্বজনরা পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনকি নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ- সবকিছুই অগ্রাধিকারের তালিকায় খালি পিছিয়েই ‍যায়। বারবার ডিভাইস চেক করতে গিয়ে আমরা বাস্তব জগতকে ভুলে যাই। বাস্তবের চেয়ে কল্পনা এগিয়ে যায় আর আমরা পিছিয়ে যাই। 

আরো পড়ুন
আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

 

এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানরা দিনে গড়ে ৩৪৪ বার তার ফোন বা স্মাট ডিভাইস চেক করেন। তরুণদের অনেকে ফোন নিয়েই ঘুমাতে যায় এবং রাতভর স্ট্যাটাস আপডেট চেক করে। তাতে শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় নিরবচ্ছিন্ন ঘুমটা আর হয় না। ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, তীব্র হতাশা, মানসিক অবসাদ, নার্ভাসনেস, ক্রোধ, দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন গবেষকরা নিরবচ্ছিন্ন শান্তির ঘুমের জন্য স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার দুই ঘণ্টায় সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

বাস্তব জগতে আমরা সত্যিটাই শুধু দেখি। সেই সত্যিটা সবসময় আমাদের ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু ভার্চুয়াল জগৎ সবকিছু আমাদের সামনে উপস্থাপন করে সুন্দরভাবে, আমাদের মনের মতো করে। ভার্চুয়াল জগতের ফিল্টার করা সৌন্দর্য্য দেখে তরুণ-তরুণীদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

এক জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ৪০ ভাগ তরুণী এবং ১৪ ভাগ তরুণ নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য্য নিয়ে গ্লানিতে ভোগেন। তাদের খালি মনে হতে থাকে, অমুককে এত সুন্দর দেখায়, আমি এত কুৎসিত কেন?

আরো পড়ুন
পাবনায় স্কুলছাত্রী হত্যার জেরে অগ্নিসংযোগ, ৩ জনের মৃত্যু

পাবনায় স্কুলছাত্রী হত্যার জেরে অগ্নিসংযোগ, ৩ জনের মৃত্যু

 

ভার্চুয়াল জগতের সবকিছুই কিন্তু সুন্দর নয়। সেই কল্পনার জগতেও আছে গভীর, গভীরতর অন্ধকার। ভার্চুয়াল জগতে প্রেম করে প্রতারিত হওয়ার হাজারটা উদাহরণ আমাদের চোখের সামনেই আছে। গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার উদাহরণও তো ভুরি ভুরি। নতুন নতুন আইন করেও ঠেকানো যাচ্ছে না প্রতারণা আর ব্ল্যাকমেইল। বাস্তব জগতের বুলিং আর সাইবার বুলিং-এ আকাশ-পাতাল ফারাক। বাস্তবের ঝগড়া, গালি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা থেকে আসে। আবার মিলিয়েও যায়। কিন্তু সাইবার বুলিং সাইবার স্পেসে থেকে যায়, ভাইরাল হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে যায় আমাদের মনে, মননে।

তাছাড়া ভার্চুয়াল জগৎ আমাদের যে আনন্দ দেয়, বাস্তব জগতে সে আনন্দ না পেলে তরুণ প্রজন্ম হতাশ হয়। এসব হতাশা, প্রতারণা, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইলের চাপ তরুণ-তরুণীরা নিতে পারে না। তারা আরো গভীর হতাশায় তলিয়ে যায়। জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে তা কেড়ে নিতেও দ্বিধা করে না। 

আরো পড়ুন
সালাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিবাদন

সালাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিবাদন

 

কিন্তু এভাবে তরুণ প্রজন্মকে, আমাদের মানবসভ্যতার ভবিষ্যতকে ভার্চুয়াল জগতের হাতে ছেড়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে বসে আফসোস করলে তো চলবে না। আমাদের সন্তানদের বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। আপনি নিশ্চয়ই আপনার সন্তানকে হিরোইন নিতে দেবেন না। স্মার্ট ডিভাইস কিন্তু হিরোইনের চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়। একজন মাদকাসক্তকে যেমন হুট করে মাদক কেড়ে নিয়েই সুস্থ করে তোলা সম্ভব নয়। তেমনি হঠাৎ একদিন সন্তানের হাত থেকে স্মাট ডিভাইস কেড়ে নিলেই তার আসক্তি দূর হয়ে যাবে না। আপনাকে আপনার সন্তানের পাশে দাঁড়াতে হবে গভীর ভালোবাসা নিয়ে। তাকে বোঝান বাস্তব জগতের ভালোবাসাটাই আসল। তাকে সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়ানো নয়, সমসা মোকাবেলা করতে শেখান। আপনার সন্তানকে বলুন, সে কত ভালো, সে কত সুন্দর, তার মধ্যে লুকিয়ে আছে কি অপার সম্ভাবনা। তাকে বোঝান পৃথিবীটা কত সুন্দর। সন্তানকে স্ক্রিন টাইম মানেজ করতে শেখান। হুট করে ৮ ঘণ্টার স্ক্রিন টাইমকে আপনি ২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে পারবেন না। আস্তে আস্তে বোঝাতে হবে, কমাতে হবে। তাকে সময়ের মূল্য বোঝান। অপ্রয়োজনে স্ক্রল করা বন্ধ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে শেখান। নিশ্চয়ই একদিন সে বুঝবে, কল্পনার আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, বাস্তবের আনন্দ চিরদিনের। জীবন একটাই। সে জীবন যাপন করতে হবে বাস্তব আনন্দের সঙ্গে, প্রিয়জনের সান্নিধ্যে।

লিংকডইনে চাকরির নামে গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ চীনের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক
লিংকডইনে চাকরির নামে গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ চীনের বিরুদ্ধে
ছবি : রয়টার্স

চাকরির প্রস্তাবের আড়ালে সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক সদস্য এবং সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে চীনা গুপ্তচররা। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘ফাইভ আইজ’ গোয়েন্দা জোটের সদস্য দেশগুলো।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই , যুক্তরাজ্যের এমআই৫ , কানাডার সিএসআইএস , অস্ট্রেলিয়ার এএসআইও এবং নিউজিল্যান্ডের এনজেড এসআইএস যৌথভাবে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। এ প্রতবেদনে জানানো হয়, চীনা সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছেন।

গুপ্তচররা নিজেদের মানবসম্পদ (এইচআর) কর্মকর্তা বা নিয়োগদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে লিংকডইন, ইনডিড ও আপওয়ার্ক এর মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে চাকরির বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। এসব বিজ্ঞাপন দেখতে সাধারণ চাকরির সুযোগের মতো হলেও এর মূল উদ্দেশ্য গোপন তথ্য সংগ্রহ করা।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এসব ভুয়া নিয়োগদাতারা সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারী ব্যক্তি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং সামরিক সদস্যদের বেশি টার্গেট করছেন। তবে শুধু তারাই নন, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা ফ্রিল্যান্স লেখকরাও তাদের নজরদারির তালিকায় রয়েছেন।

প্রতারণার অংশ হিসেবে প্রথমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে অনলাইনে সাক্ষাৎকারের সময় তাদের সরকারি সংযোগ, সামরিক কার্যক্রম বা সংবেদনশীল তথ্য সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পরীক্ষামূলক কাজ হিসেবে চীন-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রতিবেদন লিখতেও বলা হয়।

এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে আরো সংবেদনশীল ও অপ্রকাশিত তথ্য চাওয়া শুরু হয়। বিষয়টি গোপন রাখতে যোগাযোগ এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপে স্থানান্তর করা হয়। বিনিময়ে কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থ পাঠানো হয় পেপ্যাল , ওয়াইজ , জেল কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে ফৌজদারি মামলা, চাকরি হারানো এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল হওয়ার মতো গুরুতর পরিণতি হতে পারে। এমনকি সাধারণ বা অশ্রেণিবদ্ধ তথ্যও অন্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

ফাইভ আইজ জোটের মতে, চাকরির প্রলোভনে গোপন তথ্য সংগ্রহের এই কৌশল বর্তমানে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। তাই অপরিচিত নিয়োগদাতা ও সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

পূর্ণাঙ্গ ফাইভজি সেবা চালুর নির্ভরতা সম্পর্কে জানা গেল

বাসস
পূর্ণাঙ্গ ফাইভজি সেবা চালুর নির্ভরতা সম্পর্কে জানা গেল

দেশে বর্তমানে ৪৪০টিরও বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু হয়েছে। এই কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের জন্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজও চলছে। তবে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও উৎপাদন খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর প্রস্তুতির ওপর পূর্ণাঙ্গ ফাইভজি সেবা চালু নির্ভর করবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফাইভজি ইকোসিস্টেম ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত খাতগুলো চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধির কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন
রাহুল-গিলের সেঞ্চুরিতে চালকের আসনে ভারত

রাহুল-গিলের সেঞ্চুরিতে চালকের আসনে ভারত

 

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক পর্যায়ে ফাইভজি সেবা চালুর প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তবে ইতোমধ্যে আবাসিক ও শিল্প এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সীমিত আকারে ফাইভজি সেবা চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, রাজধানীর আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও রেস্তোরাঁসহ প্রায় ৪০টি স্থান বর্তমানে ফাইভজি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।

তিনি আরো জানান, ঢাকার বাইরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটের ৪০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানও সীমিত পরিসরের ফাইভজি সেবা চালু হয়েছে। সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চললেও ফাইভজি প্রযুক্তির পূর্ণ সুফল পেতে যেসব খাত এ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, সেসব খাতের প্রস্তুতিও জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোন কোন শিল্প খাত ফাইভজি প্রযুক্তি ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে উপযোগী, তা নির্ধারণেও কাজ চলছে।

দেশের প্রস্তুতি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ট্রান্সমিশন অবকাঠামো শক্তিশালী করা। ‘ফাইভজি সক্ষমতার জন্য বিটিসিএল অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন ট্রান্সমিশন সেবা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলাকে ব্যাকআপ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের (ওএফসি) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে জেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে উপজেলায় উচ্চগতির ব্যান্ডউইথ সরবরাহের জন্য এএসওএন (অটোমেটিক্যালি সুইচড অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক)-সক্ষম ডিডব্লিউডিএম সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর এলাকাতেও ব্যাকআপ সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন
১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 

মন্ত্রী বলেন, অপটিক্যাল ফাইবার ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে ফাইভজি সম্প্রসারণের জন্য আরো শক্তিশালী ট্রান্সমিশন অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

প্রযুক্তিটির বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ফাইভজি সেবার জন্য ২.৩ গিগাহার্টজ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ফাইভজি সম্প্রসারণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি স্পেকট্রাম রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। সে অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা প্রদান ও মান উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার গ্রাহকবান্ধব ইন্টারনেট শুল্ক চালু করেছে এবং ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্টারনেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সেবার মান নিশ্চিতে কোয়ালিটি অব সার্ভিস ও এক্সপেরিয়েন্সের মানদ- চালু করা হয়েছে। সেখানে সেবামান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের ফাইভজি সেবার প্রস্তুতির লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৪২০টি স্থানে উচ্চগতির ফোরজি সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, টেলিটক ইতোমধ্যে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (ভিওওয়াইফাই), ভয়েস ওভার এলটিই (ভিওএলটিই) চালু করেছে এবং সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চারটি স্থানে পাইলট ফাইভজি সেবা চালু করেছে। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেটার গতি বাড়াতে ও নেটওয়ার্কের আওতা সম্প্রসারণে বৈদেশিক সহায়তায় আরও দুটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার নতুন ফোরজি সাইট এবং ১ হাজার ৬০০টি ৫জি সক্ষম সাইট স্থাপন করা হবে। এতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ও কভারেজ আরও উন্নত হবে।

স্থলভিত্তিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ফাইভজি সেবার ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বর্তমানে সি-মি-উই ৪ এবং সি-মি-উই ৫ সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করছে।

দুটি ব্যবস্থার সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২২০ জিবিপিএস। এর মধ্যে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ নেটওয়ার্ক নির্ভরযোগ্যতা বজায় রেখে দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস সরবরাহ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামের আওতায় দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি শেষ হলে আরও ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে। এতে বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশে ব্যাপক পরিসরে ৫জি সেবা চালুর ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, সামগ্রিকভাবে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশ সীমিত পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে ব্যাপকভিত্তিক ফাইভজি গ্রহণের ভিত্তি নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ফাইভজি সেবায় উত্তরণ ক্যাবল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও স্পেকট্রাম প্রাপ্যতার ওপর নয়, বরং মূল শিল্পখাতগুলো এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহারে কতটা প্রস্তুত তার ওপরও নির্ভর করবে।

ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ফোনে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি,বিতর্কে মেটা

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ফোনে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি,বিতর্কে মেটা
ছবিঃ রয়টার্স

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে ঘিরে নতুন করে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ম্যাগাজিন ওয়্যার্ড-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটা আমাদের স্মার্টফোনে থাকা "মেটা এআই" অ্যাপের ভেতরে গোপনে মানুষের মুখ চেনার ( ফেসিয়াল রিকগনিশন ) কোড ঢুকিয়ে দিয়েছে ।

এ কোম্পানিটির তৈরি রে-ব্যান ও ওকলি স্মার্ট চশমার মাধ্যমে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা যেকোনো মানুষকে সরাসরি চেনার জন্যই এই গোপন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও মেটা দাবি করেছে, এই ফিচারটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এখনও চালু করা হয়নি


সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সফটওয়্যার বিশ্লেষকদের পরীক্ষায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে একাধিক অ্যাপ আপডেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ফোনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এআই মডেল যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মানুষের মুখ শনাক্ত করতে পারে, দ্বিতীয়টি ছবির ভেতর থেকে মুখ আলাদা করে ক্রপ করতে পারে এবং তৃতীয়টি সেই মুখকে একটি বিশেষ ডিজিটাল বায়োমেট্রিক পরিচয়ে রূপান্তর করতে সক্ষম।

গবেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তি এখন প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। মেটা অভ্যন্তরীণভাবে প্রকল্পটির নাম দিয়েছিল “নেমট্যাগ”। তবে সাম্প্রতিক এক আপডেটে এর নাম পরিবর্তন করে “কানেকশনস” রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এ বিষয়ে মেটার মুখপাত্র রায়ান ড্যানিয়েলস বলেন, কোম্পানি কেবল এ ধরনের প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করছে। এখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো ফেসিয়াল রিকগনিশন ফিচার চালু করা হয়নি এবং কোনো কেন্দ্রীয় ফেস ডেটাবেস তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি প্রযুক্তিটি শুধুই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকে, তাহলে কয়েক মাস আগেই কেন এর প্রয়োজনীয় কোড ব্যবহারকারীদের ফোনে পাঠানো হলো—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেয়নি মেটা।

আরো বিতর্ক তৈরি হয়েছে কারণ চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও মেটার কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, স্মার্ট চশমায় ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিক ও সামাজিক দিক নিয়ে তারা এখনো চিন্তাভাবনা করছেন। অথচ নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারও কয়েক মাস আগে এই প্রযুক্তির মূল উপাদান ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ট্যাগ করার প্রযুক্তির তুলনায় স্মার্ট চশমাভিত্তিক রিয়েল-টাইম ফেসিয়াল রিকগনিশন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে রাস্তায় চলাফেরা করা কোনো অপরিচিত ব্যক্তির পরিচয় মুহূর্তেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই উদ্বেগ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) এবং ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ফাইট ফর দ্যা ফিউচার সহ ৭০টির বেশি মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মেটাকে স্মার্ট চশমায় ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২০২১ সালে তীব্র সমালোচনার মুখে মেটা ফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় ফেস-ট্যাগিং প্রযুক্তি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় কোম্পানিটি ব্যবহারকারীদের এক বিলিয়নের বেশি ফেসপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক তথ্য মুছে ফেলার কথাও জানিয়েছিল।

শুধু তাই নয়,এর আগে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে অতীতে মেটাকে যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের আইনি জরিমানাও গুনতে হয়েছে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কোম্পানিটি ৬৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেয়। পরে ২০২৪ সালে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতায় আরও ১.৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়।

নতুন এই তথ্য প্রকাশের পর প্রযুক্তি বিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে—মেটা কি ভবিষ্যতে তাদের স্মার্ট চশমা ও এআই সেবায় ব্যাপকভাবে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে? যদিও কোম্পানিটি এখনই এমন কোনো পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি, তবু ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও সামনে চলে এসেছে।

তথ্যসূত্র: ওয়্যার্ড, এনগ্যাজেটদ্য নিউইয়র্ক টাইমস