• ই-পেপার

ভারতে সাজা ভোগ করে দেশে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় আব্দুর রহিম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন তার বাবা। শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরের পর কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ ধর্ষণের ঘটনায় মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত শনিবার সকালে ওই শিশু বাড়ির সামনের হাওরে গরু আনতে গেলে বৃদ্ধ একা পেয়ে ধর্ষণ করে।

অভিযুক্ত আব্দুর রহিম উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাঁও গ্রামে শিশুটি বাড়ির পাশের হাওরে গরু আনতে পাঠায় তার মা। দেরি হওয়ায় কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা নিজেই হাওরে যান। মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দেখে স্থানীয় ধলেশ্বর হাওরের মাঝখানে একটি গাব গাছের নিচে আব্দুর রহিম শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে।

শিশুটির চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে শিশুটির মা এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সমাজপতিরা বৃদ্ধের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের তৎপরতায় গত সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করার কারণে মামলা করতে দেরি হলো বলে এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন। 

এ ব্যাপারে শিশুটির মা বলেন, আমার শিশু বাচ্চাটার সঙ্গে এরকম নিষ্ঠুর লোমহর্ষক ঘটনা ঘটল। আমি এখন বেঁচে থেকে মৃত। এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী মাকসুদ বলেছেন, আজ দুপুর ২টার দিকে শিশুটির বাবা আব্দুর রহিম নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন। আসামি পলাতক রয়েছে। আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। 

বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও

কালুখালীতে পাঠদান কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে শোকজ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
কালুখালীতে পাঠদান কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে শোকজ
রাজবাড়ীর কালুখালীর চরপাতুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছেন ইউএনও মো. মেজবাহ উদ্দিন।

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের চরপাতুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে পাঠদান কার্যক্রমে নানা অনিয়মের চিত্র দেখতে পান।

পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দৈনিক ক্লাস রুটিন অনুযায়ী তৃতীয় পিরিয়ড চলমান থাকার কথা থাকলেও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শ্রেণিকক্ষেই পাঠদানরত শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করলেও শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রমে শৃঙ্খলার অভাব ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

এ সময় ইউএনও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পাঠদানের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উপস্থিতি রেজিস্ট্রার ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে জবাবদিহি চান।

পরে বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইতোমধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

প্রাইভেট কারে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারে মিলল সাড়ে তিন কোটি টাকার ইয়াবা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রাইভেট কারে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারে মিলল সাড়ে তিন কোটি টাকার ইয়াবা
সীতাকুণ্ডে ইয়াবার চালান খুলে গণনা করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে একটি প্রাইভেট কারের গ্যাস সিলিন্ডারে লুকানো থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বড়দারোগারহাট এলাকা থেকে কারটি আটক করা হয়। তবে অভিযানকালে পালিয়ে যায় পাচারকারীরা।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের একটি দল মহাসড়কে ঢাকামুখী একটি কারকে থামতে সংকেত দিলে কারটি না থেমে দ্রুত পালিয়ে যেতে থাকে। এতে পুলিশ কারটিকে ধাওয়া করলে তারা দ্রুত চলতে চলতে উপজেলার বড় দারোগারহাট এলাকার অন্ধকার এক স্থানে গাড়ি থামিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ কারটি থানায় নিয়ে আসে। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চালানটি খুলে দেখা যায় সেখানে এক লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা।

ইয়াবা গণনার সময় উপস্থিত জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. রাসেল সাংবাদিকদেরকে জানান মাদক নির্মূলে পুলিশ সবসময় তৎপর আছে। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে ঢাকা চট্গ্রাম মহাসড়কে তল্লাশি চালিয়ে একটি কারকে থামতে বললে কারটি দ্রুত চালাতে শুরু করে। পুলিশ কারটির পিছু ধাওয়া করে বড়দারোগাহাট এলাকা থেকে আটক করেন। তবে ওই কারে নারী-পুরুষ যাত্রী দেখা গেলেও অন্ধকারে কার থামিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম  জানান, কক্সবাজার থেকে একটি বড় ইয়াবা চালান আসতে পারে কার যোগে এমন একটি সূত্র পেয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান সোমবার মধ্যরাতে। একসময় একটি সাদা প্রাইভেট কারকে দাঁড়ানোর জন্য সংকেত দিলে কারটি দ্রুত চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ও পিছু ধাওয়া করে। এসময় কার আরোহীরা বড় দারোগাহাট স্ক্যালের পাশে গিয়ে কারটি রাস্তার পাশে থামিয়ে পালিয়ে যায় এর আরোহীরা।

কারটিকে থানার হেফাজতে নিয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. রাসেলের উপস্থিতিতে কারটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি রহস্যজনক গ্যাসের ট্যাংকি দেখতে পায়। ট্যাংকিটি খুলে এর ভেতর এক লাখ ২৪ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন। যার অনুমানিক মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা।

পুলিশ আটককৃত কারটিকে জব্দ করে তার প্রকৃত মালিক কে তা অনুসন্ধান চলছে। এরপরই এই ইয়াবা চালানের মূল জড়িতদেরকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে বলে ওসি মহিনুল জানান। তল্লাশিকালে ওসি মো. মহিনুলের নেতৃত্বে এসআই জাফর, এসআই আশরাফসহ সঙ্গীয় ফোর্স  উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় বজ্রাঘাতে বাবার সামেন প্রাণ গেলো ছেলের

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় বজ্রাঘাতে বাবার সামেন প্রাণ গেলো ছেলের
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বাবা- ছেলে একসাথে ধানের চারা রোপন করছিলেন। হঠাৎ বাবার সামনেই বজ্রাঘাতে প্রাণ কেড়ে নিল ছেলের। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল পৌনে ৪টায় উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের সীমারকান্দা গ্রামের কৃষি মাঠে ঘটনাটি ঘটে ।

নিহত মিনহাজুর রহমান (১৫) উপজেলার সীমারকান্দা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ও এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র । তার মৃত‍্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মিনহাজের নিকট আত্মীয় এলাহাবাদ গ্রামের নারী নেত্রী শামিমা আক্তার রীমা জানান, বিকালে বাবা ছেলে এক সাথে জমিতে ধানের চারা রোপন করছিল। এসময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে ছেলের প্রাণ গেলেও বাবা অক্ষত থাকেন।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সন্ধ‍্যার পর থেকে অনেকেই ফোনে বজ্রাঘাতে কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনা জানতে চায়। এ বিষয়ে আমাদের নিকট কেউ লিখিত অঁভিযোগ করেনি, বিষয়টির খোঁজ খবর নিচ্ছি।’