• ই-পেপার

আক্কেলপুরে ১ দিনে ৩ মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর মামলা, গ্রেপ্তার ৩
প্রতীকী ছবি

ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। মামলার পর সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

গ্রেপ্তাররা হলেন, ঝিনাইদহ সদর এলাকার আরাপুর গ্রামের মেহেদী হাসান সোহেল, শিবতলা গ্রামের আশিক এবং উপজেলার হলিধানি ইউনিয়নের কোলা গ্রামের ফারহান নিলয়। 

এর আগে সোমবার (৮ জুন) ভোরবেলা ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। 

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটাতে শহরে মিছিল করেছে। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় ২৫ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার ৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 
 

কক্সবাজারে ঘেরে মাছ ধরার সময় ১৯ রোহিঙ্গা আটক

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারে ঘেরে মাছ ধরার সময় ১৯ রোহিঙ্গা আটক
কক্সবাজারের উখিয়ায় ঘেরে মাছ ধরার সময় আটক ১৯ রোহিঙ্গা সদস্য।

কক্সবাজারের উখিয়ায় ক্যাম্পের বাহিরে স্থানীয় একটি ঘেরে মাছ ধরার সময় ১৯ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাঁদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজিবি জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়নের বালুখালী বিওপির বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রহমতের বিল এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্থানীয় একটি মাছের ঘেরে কাজ করার সময় ১৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দা।

বিজিবি আরো জানায়, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে অবাধ চলাচল এবং স্থানীয় বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত হওয়া নিষিদ্ধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অনেক সময় তারা বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয় জনগণসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভারতে সাজা ভোগ করে দেশে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
ভারতে সাজা ভোগ করে দেশে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি
সংগৃহীত ছবি

ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগের পর ৭ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তারা দেশে ফেরেন।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উপস্থিতিতে তাদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দেশে ফেরা ব্যক্তিরা হলেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সংগ্রামপুঞ্জির পুহস্টার ডেখারের চেলে রেস্টলি ব্লাহ, সুনামগঞ্জ জেলার সদর থানার নইগাঙ গ্রামের মো. সাদির মিয়ার দুই ছেলে মো. মুহিবুর রহমান ও আবদুল কুদ্দুছ, টুকেরবাজারের মৃত শওকত আলীর ছেলে মানিক আহমদ, চানপুরের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে মো. সুহেল আহমেদ, বনগাঁও’র জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. আল আমিন ও শাল্লা থানার শ্রীহাই গ্রামের আবদুল হাইয়ের ছেলে বাদশাহ মিয়া।

আরো পড়ুন
কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক

কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক

 

তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা এসব বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন সময় সিলেটের গোয়াইনঘাটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। অনুপ্রবেশের দায়ে দেশটির পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং ডিস্ট্রিক্ট কারাগারে দীর্ঘ মেয়াদে সাজাভোগ শেষে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বজলুর রশিদ জানান, বিজিবি, বিএসএফ ও উভয় দেশের পুলিশের উপস্থিতিতে ৭ বাংলাদেশিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
 

কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক
ছবি: কালের কণ্ঠ

নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগ ঘিরে চলমান অস্থিরতার মধ্যে কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংকের শাখায় টাকা তোলার হিড়িক পড়েছে। গত ৮ কার্যদিবসে ব্যাংকটির এ শাখা  থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা তোলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। অধিকাংশ গ্রাহক তাদের এফডিআর ও ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ভাঙছেন।    

ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আমানত তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিন কুমিল্লা প্রধান শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার পর থেকে ব্যাংকের নিচতলায় পা রাখার জায়গা নেই। গ্রাহকরা তাদের জমা রাখা আমানত উত্তোলনে ভিড় করছেন। ব্যাংকে যার যত টাকা জমা আছে অ্যাকাউন্ট ক্লোজিংসহ সব তোলে নিচ্ছেন অধিকাংশ গ্রাহক। তাদের সেবা দিতে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই। গ্রাহকরাও জমা রাখা অর্থ ফেরত পেতে ব্যাংকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করতে দেখা গেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৮ কার্যদিবসে এই শাখা থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন গ্রাহকরা। এরমধ্যে ৯ জুন একদিনেই প্রায় ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।  

মনোয়ারা বেগম নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে বর্তমান সময়ে টাকা জমা রাখা নিরাপদ নয়। আমার ২০ লাখ টাকা এফডিআর এবং সেভিংস একাউন্টে আরো ২ লাখ টাকা জমা ছিল। আজ সব টাকা তোলে নিয়েছি। এই টাকা উত্তোলন করতে মানুষের ভিড়ে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা।        

স্কুল শিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, ‘আমার দুইটি ডিপিএস ছিল। এটাই আমার শেষ সম্বল। মানুষ বলাবালি করছে ইসলামী ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আজই টাকা সব টাকা তোলে নেব।’  

কুমিল্লা নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকার ৫ বছর মেয়াদি একটি ডিপিএস করেছি। এটি ম্যাচিউরড হতে তিন মাস বাকি ছিল। ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে ভয়ে সব টাকা তোলে ফেলেছি।’  

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসাইন আখতার কথা বলতে রাজি হননি।  

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলম নিয়োগ পান। তার দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কর্মদিবসে বোর্ড সভা ভার্চুয়ালি হয়। একই সময়ে চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগ করেন। এ ছাড়া সারা দেশের ব্যাংকের গ্রাহকরা প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন।