রংপুর নগরীর বাজারগুলোতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পোলট্রি মুরগির ডিম ও বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। তবে বেড়েছে চিনি ও আলুর দাম।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, গত সপ্তাহে যা ছিল ৪২ টাকা থেকে ৪৪ টাকা। ফলে হালিপ্রতি দুই টাকা থেকে চার টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। ক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর বাজার কিছুটা ওঠানামা থাকলেও ডিমের দামে বর্তমানে স্বস্তি ফিরেছে।
আর অপরিবর্তিত রয়েছে চাল-ডাল, মাছ-মাংসসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের মূল্য। তবে খোলা চিনি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিকেজি খোলা চিনি গত সপ্তাহের ১০০-১০৫ টাকা থেকে বেড়ে ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে দামে এই পরিবর্তন এসেছে।
মুরগির বাজারে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০-১৭০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ৩২০-৩৩০ টাকা, হাইব্রিড জাত ২৮০-৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০-১১০০ টাকা কেজি দরে স্থিতিশীল রয়েছে।
মুরগি বিক্রেতা একরামুল ইসলাম বলেন, ‘মুরগির দাম কয়েকদিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। ঈদের পর কিছুটা কমেছিল, এখন আবার আগের অবস্থায় এসেছে। বিক্রি মোটামুটি স্বাভাবিক।’
সবজি বাজারে দামের ওঠানামা বেশি দেখা গেছে। টমেটো ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০-১২০ টাকা, গাঁজর ১০০-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকা, সজনে ১০০-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু সবজির দাম কমেছে। যেমন কাঁকরোল ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩৫-৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, কচুরমুখী ৮০-১০০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ টাকায় নেমে এসেছে। পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি আদা ১৮০-২০০ টাকা থেকে কমে ১৬০-১৮০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা বাদল মিয়া বলেন, ‘কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু বেড়েছে। সরবরাহ আর চাহিদার ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে।’
অন্যদিকে আলুর বাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কার্ডিনাল আলু ১৬-১৮ টাকা থেকে বেড়ে ১৮-২০ টাকা, সাদা আলু ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০-৩৫ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০-৩৫ টাকা, শিল আলু ৪০-৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ধনেপাতার দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রতিকেজি ১৩০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে শাক-সবজির দাম ১০ টাকা থেকে ২৫ টাকার মধ্যেই স্থিতিশীল রয়েছে। চাল, ডাল, আটা-ময়দা, মাছ-মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও আগের মতোই রয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। বাজারে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করতে না পারে,সে জন্য নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট।’