নাটোরের লালপুরে উদ্বোধনের আগেই একটি কালভার্টে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্বোধনের মাত্র চার দিন আগে এমন ঘটনায় কালভার্টটি নির্মাণ কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগে উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার চকনাজিরপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের চন্দনা খালের ওপর আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ২৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫০ টাকা ব্যয়ে কালভার্টটি নির্মাণ করেছে হিমেল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যা আগামীকাল (১০ জুন) উদ্বোধন করার কথা। কিন্তু গত শুক্রবার (৫ জুন) কালভার্টের গার্ডার ও সংযোগস্থলে ফাটল দেখা দেয়।
সোমবার (৮ জুন) সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দুই মাস ধরে কালভার্টটির নির্মাণকাজ চলছে। তাদের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম লক্ষ করা যায়। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অপর্যাপ্ত তদারকি এবং দায়সারা কাজের কারণেই কালভার্টে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সফুরা বেগম বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই কাজের মান নিয়ে সন্দেহ করেছি। এখন উদ্বোধনের আগেই যদি কালভার্টে ফাটল ধরে, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের চলাচল কতটা নিরাপদ হবে?’
মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘কালভার্টটি আমাদের এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফাটল অবস্থায় এটি চালু করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা চাই সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
আরেক বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘এই কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা ভোগান্তিতে আছি। রাস্তা খারাপ, চলাচলে সমস্যা; তার ওপর এখন সেতুতে ফাটল—সব মিলিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শাজাহান আলী বলেন, ‘কালভার্টের পাশে মাটি ভরাটের সময় ভেকুর আঘাতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এটি বড় কোনো সমস্যা নয়, দ্রুত মেরামত করা হবে।’
লালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, কালভার্টে মাটি দিতে গিয়ে ভেকুর আঘাতে ফেটে গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুনরায় ভেঙে আবার নতুন করে করার কথা বলেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ বলেন, ‘কালভার্ট নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।






