• ই-পেপার

বাগেরহাটে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

বরিশালের বস্তি থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালের বস্তি থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কেডিসি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মো. সগীর হোসেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেডিসি বস্তি এলাকার মাদক বিক্রেতা সাইদুল ইসলামকে আটকের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের আগেই তিনি পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। 

গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মো. সগীর হোসেন আরো জানান, সাইদুল ইসলাম ও নিলুফা ইয়াসমিন নিলু যৌথভাবে এসব মাদকদ্রব্য আমদানি করেছিলেন। এ ঘটনায় উভয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া মাদক আমদানিকারকদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ধুনটে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, ২ বছর ধরে বন্ধ সেতুর নির্মাণকাজ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
ধুনটে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, ২ বছর ধরে বন্ধ সেতুর নির্মাণকাজ
বগুড়ার ধুনটে পশ্চিম ভরণশাহী-চরপাড়া মোড়ে নির্মীয়মাণ সেতু। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার ধুনট-শেরপুর সড়কের পশ্চিম ভরণশাহী-চরপাড়া মোড়ে নির্মীয়মাণ সেতুর কাজ প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই কাজ শুরু করার কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর ওপর দিয়েই এখনো পথচারী ও ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ব্যবহারে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বগুড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট-শেরপুর সড়কের ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরণশাহী-চরপাড়া রইচখা দহের ওপর আশির দশকে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ওই সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে। কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এ অবস্থায় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ওই বেইলি সেতুর পরিবর্তে সেখানে ঢালাই সেতু নির্মাণের জন্য ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার এবং প্রস্থ ১০.৩ মিটার। ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে গেছে কাজ। প্রায় ৮৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি কাজ বন্ধ আছে দুই বছর ধরে।

ভুক্তভোগীরা জানান, কোনো টাকা-পয়সা, কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে, এমনকি অধিগ্রহণের কোনো কাগজপত্র না প্রস্তুত করেই তারা এ কাজটা তখন করতে চায়। এমনকি এখন অবধি কোনো অর্থও দেওয়া হয়নি। নতুন সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগে বাড়ছে পথচারী ও এলাকাবাসীর। ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই এই কাজ শুরু করায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

বগুড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ চলমান। এই ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এ জটিলতা নিরসন করে নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।’

ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজের ৪৪ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজের ৪৪ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
রাইসা মনি। সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া রাইসা মনি (৮) নামের এক শিশুর মরদেহ ৪৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন নদীতীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

নিহত রাইসা মনি কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকার রাশেদুল ইসলামের মেয়ে। সে কাঁচকোল বাজার নবীজান নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রবিবার বিকেলে সমবয়সী কয়েকজন শিশুর সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে যায় রাইসা। এক পর্যায়ে নদীর কিনারা থেকে কিছুটা দূরে চলে গেলে পানিতে তলিয়ে যায় সে। সঙ্গে থাকা শিশুরা উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে তারা নদীতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

খবর পেয়ে চিলমারী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরদিন সোমবার সকালে রংপুর থেকে একটি বিশেষ ডুবুরিদল এসে অভিযানে যোগ দেয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার দুপুরে কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের নদীতীরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে সেটি রাইসা মনির মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদলের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেছেন।’

এ বিষয়ে চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার বলেন, ‘শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আমরা জেনেছি।’

পুশ ইন আশঙ্কায় হবিগঞ্জ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
পুশ ইন আশঙ্কায় হবিগঞ্জ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
সংগৃহীত ছবি

ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশ ইনের আশঙ্কা মোকাবেলায় হবিগঞ্জ সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। সীমান্তের ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতেও সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহজনক ব্যক্তি শনাক্তকরণ এবং দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ ইনের ঘটনা নিয়ে সতর্কতা বৃদ্ধি করা হলেও এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয়রাও বিজিবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী গুইবিল এলাকার বাসিন্দা করিম হোসেন বলেন, ‘রাতে বিজিবির মাইকিংয়ের কারণে আমরা আরো সচেতন হয়েছি। তারা রাত-দিন সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, এতে আমরা নিরাপদ বোধ করছি।’

তেলিয়াপাড়া এলাকার চা বাগান কর্মী নৃপেন পাল বলেন, ‘উঠান বৈঠকে বিজিবি সদস্যরা আমাদের পুশ ইন সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝিয়ে দিয়েছেন। সন্দেহজনক লোকজনকে কীভাবে শনাক্ত করতে হয় এবং দেশের স্বার্থে কীভাবে তথ্য দিতে হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেতন হয়েছি।’

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।