বগুড়ার ধুনট-শেরপুর সড়কের পশ্চিম ভরণশাহী-চরপাড়া মোড়ে নির্মীয়মান সেতুর কাজ প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই কাজ শুরু করার কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর ওপর দিয়েই এখনও পথচারী ও যানবাহন চলাচল করছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ব্যবহারে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট-শেরপুর সড়কের ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরণশাহী-চরপাড়া রইচখা দহের ওপর আশির দশকে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বেইলি সেতুর পাশে একটি ঢালাই সেতু নির্মাণের জন্য ছয় কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে যায় কাজ। প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি কাজ দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, এ ধরনের প্রকল্পের কাজ ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া কীভাবে শুরু করা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমির মালিকদের অভিযোগ, কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে, এমনকি অধিগ্রহণের কোনো কাগজপত্র প্রস্তুত না করেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা কাজটি তখন করতে চান। এমনকি এখন পর্যন্ত তাদের কোনো অর্থও দেওয়া হয়নি।
এদিকে, নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে এলাকাবাসীর। ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই এই কাজ শুরু করায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে বগুড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। এই ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এ জটিলতা নিরসন করে নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।





