• ই-পেপার

গফরগাঁওয়ে বাড়ি ফেরার পথে কলেজছাত্রকে হত্যার অভিযোগ

নেত্রকোনা

হাওরের প্রতিবেশ বিপন্ন, হুমকিতে জীবন-জীবিকা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে হতাশায় চাষি ও মৎস্যজীবীরা

ইবাদ হোসেন, নেত্রকোনা
হাওরের প্রতিবেশ বিপন্ন, হুমকিতে জীবন-জীবিকা
পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে তা নৌকায় করে নিয়ে আসছেন এক কৃষক। নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের সুমাইখালী হাওর এলাকায়। গত ৩০ এপ্রিল তোলা। -কালের কণ্ঠ

‘কত কষ্ট কইরা ক্ষেতটা করছিলাম। আট কাডা (কাঠা) ক্ষেত সবডা পানিতে ডুইব্বা গেছে। ক্ষেতটার মাঝে নাকের হমান (সমান) পানি অইছিন। কয়ডা ধান কাইট্টা আনতাম পারছিলাম। যা আনতাম পারছিলাম, তা দিয়া সারা বছর কিবায় (কিভাবে) চলবাম, কিতা খাইয়াম?’

কথাগুলো বলছিলেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর গ্রামের কৃষক ইদ্রিছ মিয়া। বয়স ৭০  পেরিয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধানক্ষেত থেকে কোনোমতে কিছু আধাপচা ধান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পরে তা সড়কের পাশে শুকানোর চেষ্টা করছিলেন। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, সামনে অনিশ্চয়তার দীর্ঘ হিসাব।

ইদ্রিছ মিয়ার দুর্দশা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলে আগাম বন্যা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ছে কৃষি ও মৎস্যনির্ভর নিম্নআয়ের মানুষ, যাদের জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

জেলার মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, মদন ও কলমাকান্দার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল ঘুরে কৃষক, জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দশক আগেও এসব এলাকায় বৈশাখের শেষ দিকে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিত। কিন্তু এখন চৈত্র মাসের শুরু থেকেই উৎকণ্ঠা ঘিরে ধরে হাওরপারের মানুষকে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, আগে বন্যার ঝুঁকি ছিল নির্দিষ্ট মৌসুমকেন্দ্রিক। এখন মৌসুমের শুরু থেকেই উজানের ঢল ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। জলবায়ুর পরিবর্তিত আচরণ এতটাই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে যে আগের অভিজ্ঞতা ও প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর করা যাচ্ছে না। ফলে ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে জীবিকা পরিকল্পনা—সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।

সম্প্রতি মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর সড়ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটারজুড়ে কৃষকেরা ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত। কেউ নৌকায় করে ধান নিয়ে আসছেন, কেউ সড়কের পাশে ছড়িয়ে ধান শুকাচ্ছেন। 

মোহনগঞ্জের বরান্তর গ্রামের গৃহবধু রোকেয়া বলেন, ‘সমিতি থাইক্যা কিস্তিতে ট্যাহা লইয়্যা ক্ষেতটি করছিলাম। সবডি (পুরোটা)  ক্ষেত পানিতে ডুইব্বা গেছে। কিছু ধান লইতাম হারছি। যেডি লইছিলাম, হেইনও অনেক ধান পইচ্ছা গেছে। অহন কিছু ধান কোনোমতে শুকাইতাছি, যাতে অন্তত ভাত খাওনের খোরাকিডা মিলে।’

হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা বছরের অধিকাংশ সময় অপেক্ষা করেন একটি মাত্র ফসলের জন্য; সেটি হলো বোরো ধান। সেই ধান ঘরে ওঠার আগেই যদি উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে, তাহলে কয়েক মাসের শ্রম মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যায়। ২০২২ সালের আগাম বন্যার ভয়াবহতা এখনও ভুলতে পারেনি অনেক কৃষক। সেই বন্যায় নেত্রকোনার হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নষ্ট হয়। ঋণ নিয়ে চাষ করা অনেক কৃষক ফসল হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন। প্রায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ২০২৬ সালেও।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২০২৬ সালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যায় জেলায় মোট ১৭ হাজার ৪৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর। হাওর এলাকার ১০ হাজার ৭২৭ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

উপপরিচালক বলেন, ‘এ দুর্যোগে জেলায় মোট ৭৭ হাজার ৩৩৬ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলের কৃষকের সংখ্যা ৩৮ হাজার ২৩৮ জন। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী জেলায় ফসলের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু হাওরাঞ্চলেই ক্ষতির পরিমাণ ২৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়ছে হাওরের মৎস্য সম্পদেও।

খালিয়াজুরীর মেন্দিপুর গ্রামের জেলে রিটন মিয়া বলেন, এক সময় খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জের হাওরে প্রচুর পাবদা, টেংরা, গুতুম, খলিসা ও বাইন মাছ পাওয়া যেত। এখন এসব মাছের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। হাওরের পানির গভীরতা, প্রবাহ ও প্রজনন পরিবেশের পরিবর্তনের পাশাপাশি জলাশয় সংকুচিত হওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন তিনি। 

এদিকে, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকিও বেড়েছে। জেলার সোমেশ্বরী, উপদাখালী, কংস ও ধনু নদীর কোথাও তীব্র ভাঙন; কোথাও আবার পলি জমে নাব্য সংকট তৈরি হচ্ছে। প্রতিবছর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে কৃষিজমি ও বসতভিটা।

এ ব্যাপারে সমাজকর্মী অধ্যাপক আল হেলাল তালুকদার বলেন, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র পরিবারগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে। ফসলহানি ও মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার বছরের একটি অংশ জীবিকার তাগিদে অন্য জেলায় গিয়ে শ্রম বিক্রি করছে। আবার কেউ কেউ স্থায়ীভাবে শহরমুখী হচ্ছেন।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, ‘হাওরের পরিবেশ ও প্রকৃতি বিনষ্টের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ। এটি বন্ধে স্থানীয় মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের একটি হলো হাওরাঞ্চল। তাই এ অঞ্চলের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। হাওরের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত করে এমন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া উচিত নয়।’

কাসমির রেজা আরো বলেন, ‘পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে—এমন চলমান প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে তা অপসারণ করতে হবে। এ ছাড়া ভরাট হয়ে যাওয়া নদী, খাল ও বিল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ 

গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ আ. লীগ কর্মী, হাসপাতালে ভর্তি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি গাজীপুর
গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ আ. লীগ কর্মী, হাসপাতালে ভর্তি

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশের যৌথ বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ফরিদ (৫৫) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়। ফরিদ টঙ্গীর গুটিয়া এলাকার বাসিন্দা ও টঙ্গী পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য।

আরো পড়ুন

হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়কের মৃত্যুর গুঞ্জন

হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়কের মৃত্যুর গুঞ্জন

 

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব ও টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে টঙ্গী পূর্ব থানায় ১২ জন ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে টঙ্গী পশ্চিম থানার মামলায় ফরিদকে গ্রেপ্তারের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

 

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেপ্তার ১১ জন বিভিন্ন মামলার আসামি। তাদের কাছ থেকে মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। একজন অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‘পরকীয়ায়’ ধরা পড়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে মুক্তি বিএনপি নেতার

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
‘পরকীয়ায়’ ধরা পড়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে মুক্তি বিএনপি নেতার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরকীয়া করতে গিয়ে আটক হয়েছেন সফিক সিকদার নামে এক বিএনপি নেতা। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে মুক্তি মেলে তার। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামে এক নারীর বাড়ি ঘেরাও করে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। 

সফিক সিকদার একই ওয়ার্ডের কটামারা গ্রামের রহমান সিকদারের ছেলে। তিনি বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

আরো পড়ুন
গফরগাঁওয়ে বাড়ি ফেরার পথে কলেজছাত্রকে হত্যার অভিযোগ

গফরগাঁওয়ে বাড়ি ফেরার পথে কলেজছাত্রকে হত্যার অভিযোগ

 

স্থানীয়রা জানান, দুই সন্তানের জননী ওই নারীর সঙ্গে সফিক সিকদারের দীর্ঘ দিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। এর মধ্যে গতকাল রাতে ওই নারীর বাড়িতে যান সফিক। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাড়ি ঘেরাও করে সফিক সিদকারকে আটক করেন। খবর পেয়ে বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ ছাড়া বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাঁশতৈল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আক্কাছ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিয়াম উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে যান। পরে সফিক ও ওই নারীর সম্মতিতে ৫ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত হলে সফিক মিয়াকে পুলিশ আর আটক করেনি। 

আরো পড়ুন
রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের, রুশ কর্তৃপক্ষের সম্মতি

রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের, রুশ কর্তৃপক্ষের সম্মতি

 

বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, স্থানীয়দের হাতে নারী-পুরুষ আটকের খবর শুনে ঘটনাস্থলে যাই। পরে রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে মীমাংসার প্রক্রিয়া শুরু হলে আমরা চলে আসি। 

বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, দুজনের সম্মতিতে ৫ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। 

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করে খুন হলেন নানা

যশোর অফিস
ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করে খুন হলেন নানা

 

 

যশোরে নাতনিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নানা ইমামুল হোসেনকে (৫০) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ইমামুল হোসেন ঝিকরগাছার ফারাসতপুর গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে।

সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামের মতিনের দোকানের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ইমামুল হোসেনের নাতনিকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে রবিউল, হোসাইন, রাকিব, মেহেদী ও রাব্বিসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।

হামলায় গুরুতর আহত ইমামুল হোসেনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাহুল দেব ঘোষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।