মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
اِنَّ الَّذِیۡنَ سَبَقَتۡ لَهُمۡ مِّنَّا الۡحُسۡنٰۤی ۙ اُولٰٓئِكَ عَنۡهَا مُبۡعَدُوۡنَ
সরল অনুবাদ :
নিশ্চয় যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে পূর্ব থেকেই কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে তাদেরকে তা (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০১)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
পূর্ববর্তী ৯৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, ‘তোমরা এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদের ইবাদত কর, সবাই জাহান্নামের ইন্দন হবে।’ দুনিয়াতে কাফের-মুশরিকরা যেসব মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা করেছে, এ আয়াতে তাদের সবার জাহান্নামে প্রবেশ করার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এ আয়াত শোনার পর কাফেররা এটা বলতে শুরু করল যে, যদি প্রত্যেক অবৈধ উপাস্যই জাহান্নামে যায় তবে ঈসা (আ.) ও ফেরেশতারাও জাহান্নামে যাবে; কারণ খৃষ্টানরা তো ঈসা (আ.) ও ফেরেশতাদের উপাসনা করে থাকে। তাহলে তারাও কি জাহান্নামে যাবেন? এর জওয়াবে আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াত নাজিল করেন।
এই আয়াতে বলা হচ্ছে যে, ঈসা (আ.) ও ফেরেশতাদের উপাসনা করা হলেও তারা জাহান্নামে যাবেন না। কারণ তাঁরা হলেন আল্লাহর নেক বান্দা; যাঁদের নেকীর কারণে আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জাহান্নাম থেকে বহুগুণ দূরে থাকবেন। এখান থেকে এটাও পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে, যে ব্যক্তি পৃথিবীতে এই ইচ্ছা ও কামনা রেখে মারা যায় যে, তার মৃত্যুর পর তার কবরকে মাজার বানানো হোক এবং লোকেরা তাকে প্রয়োজন পূরণকারী (দাতা) মনে করে তার নামে বিভিন্ন মান্নত পেশ করুক ও তার পূজা (ও সিজদাহ) করা হোক, তাহলে সে ব্যক্তিও জাহান্নামের ইন্ধন হবে। কারণ নিঃসন্দেহে সেই নেক মানুষদের আওতায় কখনও পড়বে না, ‘যাদের জন্য আল্লার নিকট থেকে পূর্ব হতে কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে।’ (তাফসিরে আহসানুল বায়ান, মুস্তাদরাকে হাকিম, ২/৩৮৪–৩৮৫)
সুতরাং যারা দুনিয়ায় মানুষকে আল্লাহর ইবাদত করার শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং লোকেরা তাদেরই উপাস্য পরিণত করে অথবা যারা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ বেখবর যে দুনিয়ায় তাদের কবরের পূজা করা হচ্ছে আর এ কাজে তাদের ইচ্ছা ও আকাংখা না থাকে, তাহলে তাদের জাহান্নামে যাওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ, তারা এ শিরকের জন্য দায়ী নয়। (তাফসিরে জাকারিয়া)
শিক্ষা ও বিধান
১. জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে মানুষের আমল যথেষ্ট নয়; বরং আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ জরুরি।
২. যারা ঈমান ও সৎকর্মের ওপর জীবন অতিবাহিত করে, তাদের জন্য আল্লাহ পূর্ব থেকেই কল্যাণ ও মুক্তির ফয়সালা রাখেন।
৩. মুমিনদের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করা।
৪. আল্লাহ যাদের জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করেন, তাদের তিনি অবশ্যই জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবেন। তাঁর ওয়াদা কখনো ভঙ্গ হয় না।
৫. আল্লাহর নৈকট্য ও কল্যাণ লাভের জন্য বিশুদ্ধ আকিদা, ইখলাস এবং সৎকর্ম অপরিহার্য।
৬. যাদের জন্য কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে, তারা আল্লাহর জ্ঞান, ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতেই সেই মর্যাদা লাভ করবে।
আল্লাহর প্রতি ঈমান, আন্তরিক আনুগত্য এবং সৎকর্মের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের অধিকারী হয়। তখন আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখেন এবং তার জন্য চিরস্থায়ী সফলতার পথ উন্মুক্ত করে দেন। তাই প্রত্যেক মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন আমল করা, যা তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সেই ‘হুসনা’ বা সর্বোত্তম কল্যাণের যোগ্য করে তোলে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন।




