• ই-পেপার

মসজিদে বসে থাকলেও সওয়াব লাভ হয়

হাদিসের বাণী

কেয়ামতের আগে যখন আমনতদার খুঁজে পাওয়া যাবে না

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কেয়ামতের আগে যখন আমনতদার খুঁজে পাওয়া যাবে না

হুজাইফাতুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) আমাদের দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার একটির নিদর্শন আমি দেখেছি, আর অপরটির জন্য অপেক্ষা করছি। মহানবী (সা.) আমাদের বলেছেন, নিশ্চয় আমানত মানুষের অন্তরের গভীরে নাজিল হয়েছে। এরপরে মানুষের ওপর কোরআন নাজিল হয়েছে। মানুষ কোরআন-হাদিস থেকে জ্ঞান অর্জন করেছে। এরপরে মহানবী (সা.) আমাদের আমানতের ব্যাপারে বললেন, একজন মানুষ ঘুমাবে, তখন তার অন্তর থেকে আমানতকে তুলে নেওয়া হবে। তখন তার অন্তরে দাগ পড়ে যাবে। এরপরে আবার ঘুমাবে, তখন তার অন্তর থেকে আমানত উঠিয়ে নেওয়া হবে। তখন তার অন্তরে একটি ফোসকা পড়ে যাবে-কোনো ব্যক্তি অঙ্গারকে পা দিয়ে পিষলে যেমন পড়ে, তেমন। তুমি তাতে পানি আছে মনে করবে, কিন্তু আসলে তার মধ্যে কোনো কিছুই নেই। তারপর মহানবী (সা.) একটি পাথরের টুকরো নিয়ে পায়ে ঘষা দিয়ে দেখালেন। তিনি বললেন, তখন মানুষ বেচাকেনা করবে, কিন্তু তেমন কাউকে আমানতদার পাওয়া যাবে না। সবাই বলাবলি করবে যে, অমুক গোত্রে একজন আমানতদার লোক আছে। তখন তার ব্যাপারে বলা হবে, কত উত্তম, ভালো, সম্মানিত ব্যক্তি! কিন্তু তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ইমান অবশিষ্ট থাকবে না।

হুজাইফা (রা.) বলেন, আমি এমন যুগে ছিলাম, যখন এটা পরওয়া করতাম না যে, আমি কার সাথে লেনদেন করছি। কারণ, তখন সে মুসলমান হয়ে থাকলে তার দ্বীন আমাকে তার খিয়ানতি থেকে বিরত রেখেছিল। আর সে ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টান হয়ে থাকলে, শাসক আমার অধিকার ফিরিয়ে দেবে (এই বিশ্বাষ ছিল)। কিন্তু বর্তমানে আমি অমুক-অমুক ব্যক্তি ছাড়া তোমাদের কারো সাথে বেচাকেনা করতে পারব না।' (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৪৯৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৩৬৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ২৩২৫৫)

শিক্ষা ও বিধান 

১. আমানত শুধু কারো জিনিস গচ্ছিত রাখা নয়; বরং দায়িত্ব, কর্তব্য, প্রতিশ্রুতি, অধিকার ও বিশ্বাস রক্ষা করাও আমানতের অন্তর্ভুক্ত।

২. গুনাহ ও অবহেলার কারণে আমানত ধীরে ধীরে উঠে যায়। একবারে নয়, ধাপে ধাপে মানুষের অন্তর থেকে আমানত ও ঈমানের প্রভাব কমে যায়।

৩. আমানত উঠে যাওয়ার পর যে দাগ ও ফোসকার কথা বলা হয়েছে, তা অন্তরের কঠোরতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতীক। বাহ্যিকভাবে মানুষ ভালো মনে হলেও অন্তর শূন্য হয়ে যেতে পারে।

৪. কিয়ামতের আগে আমানতদার লোক বিরল হয়ে যাবে। এমন সময় আসবে যখন একজন সৎ ও বিশ্বস্ত মানুষকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

৫. আল্লাহর কাছে মূল বিষয় হলো অন্তরের ঈমান ও তাকওয়া। তাই বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়।

৬. প্রকৃত মুমিন সেই, যার হাতে ও জিম্মায় মানুষ নিরাপদ থাকে। তাই মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হলো আমানতদারিতা।

৭. একজন মুসলমানের পরিচয় তার নাম বা পরিচয়ে নয়; বরং তার সততা ও আমানতদারিতায়। ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতারণা, মিথ্যা ও খিয়ানত ঈমানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

সুতরাং যখন মানুষের অন্তর থেকে আমানতদারিতা চলে যায়, তখন সমাজে প্রতারণা, অবিশ্বাস ও নৈতিক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়ে। তাই একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো নিজের ঈমান, সততা, দায়িত্ববোধ ও আমানতদারিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ করা।

রিজিক পেয়েও তকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়ার পরিণতি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
রিজিক পেয়েও তকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়ার পরিণতি
সংগৃহীত ছবি

তকদির অনুযায়ী যখন কোনো কিছু সংঘটিত হয়, তখন তাকে বলা হয় তকদিরের ফয়সালা। তকদিরের ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করাকে শরয়ি ভাষায় ‘রিজা’ বলে। আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অপরিহার্য দাবি। আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তকদিরের ব্যাপারে অন্তরকে প্রশান্ত রাখা, প্রফুল্লচিত্ত থাকা এবং মানসিকভাবে ব্যথিত না হওয়া। যদিও আপতিত বিপদকে সে অপছন্দ করে।

এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে যা কিছু নির্ধারণ করেছেন, সেটা ভালো হোক বা মন্দ হোক, পছন্দনীয় হোক বা অপছন্দনীয় হোক, সে ব্যাপারে মনের মধ্যে কোনো অভিযোগ না রাখা এবং অস্থির না হয়ে সেটাকে নির্দ্বিধায় ও প্রশান্তচিত্তে মেনে নেওয়া।

আর এটা বিশ্বাস করা যে আমাদের সার্বিক জীবনে আগত আনন্দ-বেদনা, রোগ-শোক, বিপদাপদ এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সবকিছুই আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত তাকদিরের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আমাদের দিন-দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর সিদ্ধান্তই আমাদের জন্য সর্বাধিক কল্যাণকর ও ইনসাফপূর্ণ। একই কথা রিজিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল্লাহ বান্দাদের জন্য রিজিক বণ্টন করে থাকেন। মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত রিজিকের প্রতি সন্তুষ্ট থাকলে তার জীবিকায় বরকত লাভ হয়। 

পক্ষান্তরে ওই রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট না হলে জীবিকার বরকত চলে যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ বান্দাকে প্রদত্ত জিনিসের মাধ্যমে পরীক্ষা করে থাকেন। আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তাতে যদি সে সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন এবং তা বৃদ্ধি করে দেন। আর যদি সন্তুষ্ট না থাকে, তাহলে তাতে বরকত দেন না। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২০২৭৯; সহিহুল জামে, হাদিস : ১৮৬৯)
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সর্বাবস্থায় শোকরগুজার বান্দা হিসেবে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
 

স্বামী-স্ত্রীর প্রতি ১০টি বিশেষ পরামর্শ

মুফতি উমায়ের কোব্বাদী
স্বামী-স্ত্রীর প্রতি ১০টি বিশেষ পরামর্শ
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবীর প্রথম সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। সুখময় দাম্পত্য জীবন সবার কাম্য। নিম্নে সুখয়ম দাম্পত্য জীবন গড়তে ১০টি বিশেষ পরামর্শ উল্লেখ করা হলো—

১. একে অপরের প্রতি শারীরিক বা মানসিক ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা : হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করতেন। (জাদুল মাআদ : ৪/২৫৩)
তা ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক ঘনিষ্ঠতা অন্তরের খারাপ চিন্তা দূর করে দেয়।

২. একে অপরকে সিক্রেট নামে ডাকা : একে অপরের জন্য এমন কোনো নাম ঠিক করুন, যেটা হবে সুইট, রোমান্টিক ও সিক্রেট। যে নাম সঙ্গীর কানে গেলে রাগের সময়ও অন্তরে ভালোবাসার ঝংকার সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪)

তবে এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে আপনাদের এই একান্ত বিষয়টা যেন অন্যদের সামনে প্রকাশ না পায়। কারণ, তখন এই সুন্দর বিষয়টাই হয়ে যাবে নির্লজ্জতা।

৩. একে অপরকে বিশ্বাস রাখুন : সঙ্গীর প্রতি আপনার বিশ্বাস খুবই জরুরি একটি বিষয়। এটা না থাকলে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া সুখময় হয় না। যে পরিবারে সন্দেহের রোগ বাসা বাঁধে সেখানে সুখের আশা করা বৃথা। কাতাদাহ (রহ.) বলেন, না দেখে, দেখেছি বলো না। না শুনে, শুনেছি বলো না। না জেনে, জেনেছি বলো না। কেননা এসব বিষয় সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। (ইবনু কাসির : ৫/৭৫)

৪. তৃতীয় পক্ষকে নাক গলানোর সুযোগ দেবেন না : বেশির ভাগ সময় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয় তৃতীয় পক্ষের কারণে। আর যদি এই ঝগড়ার মাঝে আপনি নিজের ভাই-বোন প্রমুখদের টেনে আনেন, তাহলে ঝামেলা গুরুতর আকার নেবে। যদি বন্ধুবান্ধবকে টানেন, তাহলে সম্পর্কের ‘ইন্নালিল্লাহ’ হয়ে যাবে। তা ছাড়া একটু আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলাম, আপনাদের দাম্পত্য জীবনে আপনার বোনের কিংবা আপনার মায়ের মাধ্যমে আপনার স্ত্রীর বিচারক হয়ে উঠতে পারে আপনার ভগ্নিপতি। এটা কক্ষনো হতে দেবেন না। মনে রাখবেন, যারা অন্যের প্রাইভেট জীবন নিয়ে নাক গলায়, এদের দৃষ্টান্ত রাস্তায় চলা বেয়াড়া ট্রাকের মতো। ট্রাকের পেছনে যেভাবে লেখা থাকে, ১০০ গজ দূরে থাকুন। অনুরূপভাবে এজাতীয় লোক থেকেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

৫. নিজেকে পরিপাটি রাখুন : পুরুষরা তাদের সঙ্গিনীকে সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করে। ঠিক একই ভাবে তারা তাদের সঙ্গীকেও সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করে। ইবনু আব্বাস (রা.) বলতেন, আমি আমার স্ত্রীর জন্য পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন পছন্দ করি আমার স্ত্রী আমার জন্য পরিপাটি থাকাকে। (মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা : ১৫৭১২)

৬. বলবেন কম, শুনবেন বেশি : আপনার সঙ্গী কী বলছেন, সেই কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন। তার দুটো কথা শুনেই নিজের মতামত দিতে শুরু করবেন না। এতে আপনাদের মধ্যে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। আমরা সবাই নিজের কথা বলতে ভালোবাসি, কিন্তু বিপরীতের মানুষটির বক্তব্য শোনার কোনো ইচ্ছাই আমাদের মধ্যে থাকে না। তাই ঝগড়া-অশান্তিও বাড়ে। সব সময়ই যে আপনাকে ডিফেন্সিভ হতে হবে, এমন কোনো অর্থ নেই। বরং এবার থেকে শোনার অভ্যাসও গড়ে তুলুন। তাঁর মতামতকে সম্মান করুন। আপনার এই ব্যবহারে তিনিও খুশি হবেন।

৭. মধুর স্মৃতিগুলো স্মরণ করুন : আপনার সঙ্গীর কোনো কাজ বা আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কারণ আপনি তাকে অনেক ভালোবাসেন। সে এমনটি করবে বা বলবে তা আপনি কল্পনায়ও ঠাঁই দিতে পারছেন না! তাই খুব চটেছেন! একটু থামুন! কয়েক সেকেন্ড ভাবুন। তার সঙ্গে অতিবাহিত সুন্দর ভালোবাসার ও ভালো লাগার আচরণগুলো স্মরণ করুন। সেগুলোর স্মৃতিচারণা করুন। দেখবেন, রাগ কমে যাবে! স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

মানুষ ভুল করে। ভুল করতে পারে। ভালো-মন্দ স্বভাবের মিশ্রণেই মানুষের সৃষ্টি! একটি আচরণ খারাপ হলে তার অনেক আচরণ আছে, যেগুলো মুগ্ধকর। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। আপনার ক্ষেত্রে। আপনার সঙ্গী/সঙ্গিনীর ক্ষেত্রে। সবার ক্ষেত্রে! প্রত্যেকের উচিত তার সঙ্গীর উত্তম আচরণগুলো দেখা। মন্দগুলো মানবিক দুর্বলতা হিসেবে ক্ষমা করে দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো মুমিন অন্য মুমিন নারী (পুরুষ)-কে চূড়ান্তভাবে ঘৃণা করতে পারে না। তার একটি স্বভাবে সন্তুষ্ট না হলে অন্য স্বভাবে অবশ্যই সন্তুষ্ট হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৯)

আরো পড়ুন
সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ

সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ

 

৮. শয়তান কিন্তু জিতে গেল, আপনি হেরে গেলেন : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইবলিস তার সিংহাসন পানিতে স্থাপন করে। তারপর তার বাহিনীদের প্রেরণ করে। সর্বোচ্চ দুষ্কৃতকারী তার সর্বাধিক নৈকট্য লাভ করে। (দুষ্কৃতি শেষে) একজন এসে বলে : আমি এই এই কাজ করেছি। ইবলিস বলে, তুমি উল্লেখযোগ্য কিছু করনি! অপর একজন এসে বলে, আমি স্বামীর পেছনে লেগেই ছিলাম। একপর্যায়ে তার ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাই! তখন শয়তান তাকে কাছে টেনে নেয় আর বলে, হ্যাঁ, তুমিই কাজের কাজ করেছ! এবং তার সঙ্গে আলিঙ্গন করে! (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫০৩৯)

যখনই নিজেদের মাঝে কিছু হয়ে যাবে লক্ষ্য রাখতে হবে শয়তান যেন জিতে না যায়! সাবধান হতে হবে।

৯. বিরতি নিন : আপনি যদি মনে করেন যে আলোচনাটি উত্তপ্ত হতে চলেছে, তবে বিরতি নিন। কথায় আছে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। সুতরাং এ সময় প্রয়োজনে তাকে নিজ সম্মুখ থেকে সরিয়ে দিন অথবা নিজেই অন্যত্র সরে যান কিংবা অজু করে নিন বা কিছু পানি পান করুন, আপনার গাছপালা দেখুন। এসব একটি রিসেট বোতামের মতো কাজ করবে। আপনি যখন আবার রুমে প্রবেশ করবেন এবং আপনার সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলবেন, তখন দুজনেই নিজেকে শান্ত করবেন এবং সম্ভবত বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলবেন।

আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহ.)-কে বলা হলো—উত্তম চরিত্র সম্পর্কে এককথায় আমাদের কিছু বলুন। তিনি বললেন, রাগ ত্যাগ করা। (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম : ১/৩৬৩)

১০. সহজ উপায় খুঁজে বের করুন : ঝগড়াবিহীন কোনো দম্পতি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনাদের সম্পর্কে যদি টুকটাক ঝগড়া না থাকে, তবে সেটি স্বাভাবিক নয়। তবে দিন দিন ঝগড়া বাড়তে দেওয়াও কোনো কাজের কথা নয়। কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে তার সমাধান করার সহজ পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে কোনোভাবেই যেন তালাকের প্রসঙ্গ সামনে না আসে। নুন থেকে চুন খসলে কিংবা নিজের পরিবারের কথায় প্ররোচিত হয়ে স্বামী  স্ত্রীকে তালাক দেওয়া কিংবা স্ত্রী স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া জঘন্য কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৭৫)

সুতরাং প্রতিশোধ নেওয়া বা পরাস্ত করা থেকে বিরত থাকুন! কাকে পরাস্ত করবেন? কার ওপর প্রতিশোধ নেবেন? সে তো আপনার জীবনসঙ্গী! এখানে প্রতিশোধ নয়, বরং ভালোবাসা ও মমতা কাম্য! নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। সাবধান হোন!

মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরো পড়ুন
আদর্শ সন্তানের প্রতি ইসলামের ৮ নির্দেশনা

আদর্শ সন্তানের প্রতি ইসলামের ৮ নির্দেশনা

 

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৯ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৯ জুন ২০২৬

আজ মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২২ জিলহজ ১৪৪৭।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০১ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৩৭ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৯ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৫ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৪৬ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১১ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।