• ই-পেপার

রামিসা হত্যা-ধর্ষণ

সোহেল-স্বপ্নার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হচ্ছে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হচ্ছে আজ

যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার ঈদের ছুটি থাকায় দেশে আজ এই দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। সাকাল সাড়ে ৯টায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার তাঁর বাণীতে বলেছেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ। বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত  সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী আত্মত্যাগ করেছেন তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে মর্যাদাপূর্ণ স্থান অক্ষুণ্ন রেখে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম স্থানে ছিল। এর আগেও কখনো প্রথম, কখনো দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের বহু গৌরবময় অধ্যায়ের অংশ বাংলাদশের শান্তিরক্ষীরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশ নেওয়া শুরু। এরপর ৩৮ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের এক গর্বিত অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই মিশনে দায়িত্ব পালন করছে ১৯৯৩ সাল থেকে। বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন ১৯৮৯ সাল থেকে। ওই বছর নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ পরিবারের সদস্য হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের এক হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন সদস্য ২৫টি দেশের ২৭টি শান্তি রক্ষা মিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এসব মিশনে মোট দুই লাখ ছয় হাজার ৪৭৬ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে নারী শান্তিরক্ষী তিন হাজার ৬৪৫ জন। সেনাবাহিনী থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জন। বর্তমানে জাতিসংঘের ৯টি শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের চার হাজার ৪১২ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন।

শুরু থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৩৮ জন, নৌবাহিনীর চারজন, বিমানবাহিনীর ৯ জন এবং পুলিশের ২৪ জন। আহত হয়েছেন মোট ২৮৭ জন।

আরো ৭ জেলায় ৫ খুন ৩ মরদেহ উদ্ধার

শেরপুর ও গফরগাঁওয়ে দুই কলেজছাত্র হত্যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেরপুর ও গফরগাঁওয়ে দুই কলেজছাত্র হত্যা

শেরপুর ও গফরগাঁওয়ে দুই শিক্ষার্থী খুন হয়েছে। তা ছাড়া কিশোরগঞ্জে ব্যবসায়ী, লালমনিরহাটে কিশোর, যশোরে প্রতিবাদী নানা, নেত্রকোনায় মা, ঝিনাইদহে চাচাকে হত্যা করা হয়েছে। তা ছাড়া গলাচিপায় শিশু ও কিশোরী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র আল মুহতাছিম সায়িফ (১৭) নিহত হয়েছে। সে শহরের দমদমা কালীগঞ্জ মহল্লার মালেক মিয়ার একমাত্র সন্তান।

গত ২৯ মে হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে এবং জড়িতদের প্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

 

গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্র খুন

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জন্মদিন উদযাপন শেষে বাড়ি ফেরার পথে সোমবার রাতে পৌর শহরের মাজারবাড়ী রোড এলাকায় কলেজছাত্র রবিন (২৪) খুন হয়েছেন। একই ঘটনায় তাঁর বন্ধু মাসুম (২৪) আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাজীব নামের একজনকে অস্ত্র, মাদকসহ আটক করা হয়েছে।

 

হোসেনপুরে ছিনতাইকারীদের হামলায় ব্যবসায়ী নিহত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের পুমদি ইউনিয়নের ডাহোড়া এলাকায় ছিনতাইকারীদের হামলায় রনি (২৮) নামের এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেকজন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

 

লালমনিরহাটে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সোমবার রাতে লিয়াকত আলী লাদেন (১৭) নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা হয়েছে।

যশোরে ইভ টিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নানা খুন : যশোরে নাতনিকে ইভ টিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় সোমবার রাতে ইমামুল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নেত্রকোনায় শাবলের আঘাতে মায়ের মৃত্যু : নেত্রকোনায় শাবলের আঘাতে গতকাল আবুনি রাজভর নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে শ্যামল রাজভরকে আটক করেছে পুলিশ।

ঝিনাইদহে ভাতিজার সঙ্গে সংঘর্ষে চাচার মৃত্যু : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে গতকাল ভাতিজার হামলায় নিয়ামত আলী নিহত হয়েছেন।

গলাচিপায় শিশু ও কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার : পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৃথক ঘটনায় শিশু মাঈনুল এবং কিশোরী লামিয়া আক্তার সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে ডোবা থেকে শিশুটির এবং একটি বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারীর মরদেহ উদ্ধার : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে রেললাইনের পাশ থেকে গতকাল অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর  বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

ড. ইউনূসের বিচার দাবিতে কারামুক্ত ৬১ আইনজীবীর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ড. ইউনূসের বিচার দাবিতে কারামুক্ত ৬১ আইনজীবীর মানববন্ধন
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন কারামুক্ত ৬১ আইনজীবী। গতকাল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ  ইউনূসের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন কারামুক্ত ৬১ আইনজীবী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় এই আইনজীবীরা ড. ইউনূসের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে কারামুক্ত আইনজীবী মাহফুজুর রহমান লিখিত বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া, আদালতে  মামলা পরিচালনা করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা জানান। বিগত সরকারের সময় কারাগারে থাকা আইনজীবীদের মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কারামুক্ত আরেক আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম জানান, গত বছরের ৬ এপ্রিল ৎ্াঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। দুই মাস পর ৬ জুন তাঁরা মুক্ত হন। ওই দিনটিকে তাঁরা আইনজীবী কারামুক্তি দিবস হিসেবে দেখেন।

আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম জানান, চলতি বছর ৬ জুন দিবসটি পালনের পরিকল্পনা থাকলেও সেটি হয়ে ওঠেনি অন্য একটি অনুষ্ঠানের কারণে। তাই এদিন (গতকাল) তাঁরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কারামুক্তি দিবস পালন করেন।

কারামুক্ত আরেক আইনজীবী লিটন মিয়া বলেন, গত বছরের ৬ এপ্রিল ৬১ জন আইনজীবীকে বিনা অপরাধে কারাগারে পাঠান ড. ইউনূস। ৬ জুন আমরা কারামুক্ত হই। দিনটিকে স্মরণে রাখতে কারামুক্তি দিবস পালন করছি। বেআইনিভাবে আইনজীবীদের কারাগারে পাঠানোয় ড. ইউনূসের বিচার দাবি করছি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে আসামিরা ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

১৬ জুন আপিল শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, সেই রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। সরকারের আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ও অন্য দুই পক্ষের আপিলে আগামী ১৬ জুন শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে সরকারের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। এ ছাড়া শুনানিতে ছিলেন আরেক আপিলকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। আর আপিলকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান।

স্থগিতাদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, আপিলটি শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগ আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। অর্থাৎ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, যে রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল এবং একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেটি স্থগিত থাকবে।

এই আদেশের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ২০১৭ সালে প্রণীত শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী চলবে বলে জানান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। রিটকারী পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি দ্রুততার ভিত্তিতে শুনানি করতে পারলে মূল সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিন্তু একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন, সেটি হচ্ছে সরকারের যে অ্যাপ্রোচ, দ্যাট অ্যাপ্রোচ ওয়াজ নট গুড অ্যাপ্রোচ। হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে দিয়েছেন। এই বিলুপ্ত করার যে অ্যাপ্রোচটা তাঁরা গ্রহণ করেছেন, তা আদালত অবমাননার শামিল। এই ধরনের কাজ সরকারের পক্ষ থেকে করা উচিত হয়নি।

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে গত বছর ২ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা সব সংশোধনী অবৈধ ও অসাংবিধানিক উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এই রায়ের পর গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদ সংলগ্ন ৪ নম্বর প্রশাসনিক ভবনে সচিবালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই ভবনেই চলে আসছিল সচিবালয়ের কাজ। গত ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর দুই দিন পর ৯ এপ্রিল বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল পাস করা হয় সংসদে। গত ২০ এপ্রিল এই রহিতকরণ বিল স্থগিত এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম চলমান রাখার নির্দেশনা চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

এরপর গত ১৯ মে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে সরকার। সেদিনই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় থেকে ১৫ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে নেয় আইন মন্ত্রণালয়। ২১ মে হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে আপিল করে সরকার।

এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়। ওই দিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সরকারের আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর মধ্যে ১১৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। গতকাল তিনটি আপিল শুনানিতে ওঠে। সর্বোচ্চ আদালত আপিল শুনানির দিন ধার্য করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন।