• ই-পেপার

আকাশছোঁয়া বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

  • রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

উক্তি

উক্তি

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়। আবার জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে এভাবে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসছে

১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন আমানতকারীরা ২৭ হাজার আমানতকারীর জমা ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসছে

দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের পদক্ষেপ হিসেবে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশের ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বোর্ডে আলোচনা হয়। সভায় বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্সকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। এখন আমাদের প্রথম কাজ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা। এরপর এসব প্রতিষ্ঠানে একীভূত ব্যাংকগুলোর মতো প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। প্রশাসক নিয়োগের পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি আমানতকারী ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। তিনি আরো বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে, তাদের এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা দেখাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করতে না পারলে সেগুলোকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ।

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন ২০টি এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না এই মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ এত বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (পরে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার চারটি এনবিএফআই পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত কয়েক বছর ধরেই তীব্র তারল্যসংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল সুশাসনের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে গ্রাহকদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

জামালপুর ও কুড়িগ্রাম

সীমান্তের আলো নিভিয়ে ট্রাকে করে লোক এনেও পুশ ইনে ব্যর্থ বিএসএফ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সীমান্তের আলো নিভিয়ে ট্রাকে করে লোক এনেও পুশ ইনে ব্যর্থ বিএসএফ

জামালপুর ও কুড়িগ্রাম সীমান্তের আটটি পয়েন্টে ট্রাকে লোক এনে জড়ো করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাদের পুশ ইনের চেষ্টা চালালেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ। একইভাবে বিজিবি ও স্থানীয়দের যৌথ পাহারা, টর্চলাইটের আলো এবং সতর্ক অবস্থানের মুখে বিএসএফ তাদের পুশ ইনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

দেশের বিভিন্ন এলাকার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

জামালপুর : বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে আবারও বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রৌমারীর সীমান্তের আটটি পয়েন্টে ট্রাকে করে লোক আনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তারা পুশ ইনের চেষ্টা চালালেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খেয়ারচর, পাথরেরচর, বাঘারচর, ঝাউডাঙ্গা, সাতানীপাড়া এবং রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, মোল্লারচর ও ইসলামারী সীমান্ত পয়েন্টে বিএসএফ সীমান্তের আলো নিভিয়ে ট্রাকযোগে লোকজন নিয়ে আসে। তাদের পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হলে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দেয়। ফলে পিছু হটে বিএসএফ।

জামালপুর ব্যাটালিয়নের (৩৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাতে পুশ ইনের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। স্থানীয়রাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এপারে যৌথ পাহারা, টর্চলাইটের আলো এবং সতর্ক অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানিয়েছে, সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ভুন্দুরচর, উত্তর বারবান্দা, বড়াইবাড়ী, ঝাউবাড়ী, বকবান্ধা ও খেয়ারচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানার নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।

স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি আসামের মানকারচর থানার অধীন কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়েছে। সুযোগ পেলেই বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে এলাকাবাসী বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে রৌমারী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি প্রস্তুত।

হবিগঞ্জ : বিজিবি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা চললেও এখনো হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। থার্মাল ও ইনফ্রা রেড ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, প্রতিটি বিওপিতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

২১ বছর পর অজি-বধের গল্প

তরিকুল ইসলাম সজল
২১ বছর পর অজি-বধের গল্প
আরেকটি শিকারের পর নাহিদ রানার সঙ্গে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি : মীর ফরিদ

এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। গতকাল মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মোসাদ্দেক হোসেনের পারফরম্যান্সের মহিমা বোঝাতে এর চেয়ে ভালো বিশেষণ আর কি-ই বা হতে পারে! ওয়ানডেতে প্রায় চার বছরের বিরতির পর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেই নিজের প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছেন তিনি। প্রথমে ব্যাট হাতে ইনিংস সর্বোচ্চ ও নিজের ক্যারিয়ারসেরা অপরাজিত ৮৬ রান করার পর বল হাতেও নেন ২ উইকেট। তাঁর সঙ্গে ৪ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানার পেস-আগুনের সামনে ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বজ্রপাতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলে সফরকারীরা। পরে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ অজিদের বিপক্ষে এই জয়টি এলো ২১ বছর পর এবং ঘরের মাঠে প্রথমবার। এর আগে ২০০৫ সালের ইংল্যান্ড সফরে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে মোহাম্মদ আশরাফুলের বীরত্বপূর্ণ সেঞ্চুরিতে প্রথম ও শেষবারের মতো ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। 

অথচ এত বছর পর মাত্র দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্যে নেমে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। আবারও ব্যর্থ সাইফ হাসান। মাত্র ৫ রানে আউট হন এই ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন তানজিদ হাসান ও নাজমুল  হোসেন। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬২ রান তোলে বাংলাদেশ। তবে ফিফটি করার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি তানজিদ। নাথান অ্যালিসের দ্বিতীয় শিকার হন ৫৪ রানে। একটু পর লিটন দাস ৭ রানে থামলে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এই চাপ আরো বেড়ে যায় ফিফটি করা আরেক ব্যাটার নাজমুল ৬৭ রানে আউট হলে। ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ দল।

এরপর তাওহিদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হাল ধরলেও কমে আসে রান তোলার গতি। তাওহিদ ধীরে খেলেন, রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই একাদশে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক। তিনি ব্যক্তিগত ২২ রানে জীবন না পেলে আড়াই শ রানের গণ্ডিও হয়তো টপকানো হতো না স্বাগতিকদের। অর্ধশতকের পর আরো দুবার জীবন পান এই ব্যাটার। তবে ভাগ্য এত সুপ্রসন্ন ছিল না তাওহিদের। ৩১ রানে আউট হন তিনি। অধিনায়ক মিরাজও সুবিধা করতে পারেননি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৩ রান। তবে হাল ধরে রাখেন মোসাদ্দেক। অষ্টম উইকেট জুটিতে তাসকিন আহমেদের (২০) সঙ্গে যোগ করেন ৪৫ রান। তাঁর ৭০ বলে ৮৬ রানের ইনিংসের সৌজন্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।  যেখানে ৭টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কাও মারেন মোসাদ্দেক।

মিরপুরের বদলে যাওয়া উইকেটে এই লক্ষ্যকে আরো পাহাড়সম বানান বাংলাদেশি বোলাররা। শুরুতেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন এই ডানহাতি পেসার। পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে (১) আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অজিরা। কুপার কনোলিকে নিয়ে লড়াই চালান অধিনায়ক জশ ইংলিশ। এই জুটি বড় হওয়ার আগে আঘাত হানেন নাহিদ। ১৯ রানে থাকা ইংলিশকে আউট করার পর উদযাপনেও আগ্রাসী হন ডানহাতি গতি তারকা। ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কও মেজাজ হারান। তখন বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। গোটা ম্যাচে রোমাঞ্চ বলতে এতটুকুই। এ ছাড়া ব্যাট-বলের লড়াই জমাতে পারেনি সফরকারীরা।

পরে ৩৫ রানে থাকা কনোলিকে আউট করেন মোসাদ্দেক। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারের বাকি ধসটুকু নামান নাহিদ। তাঁর  পেস-আগুনে শিকার হন অ্যালেক্স ক্যারি (৪৭)। ছয় নম্বরে নেমে এক প্রান্ত আগলে খেলেন ক্যামেরুন গ্রিন, কিন্তু অন্য প্রান্তের ব্যাটারদের সুবিধা করতে দেননি নাহিদ। তাঁর দাপটে ১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারালে হার অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় অজিদের। শেষ উইকেটে অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে জুটি গড়েন গ্রিন। এই জুটির ৩৫ রানের সময় বৃষ্টি শুরু হলে পরে আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। এতে বৃষ্টি আইনে লেখা হয় অজিবধের গল্প। যেটি লেখা মোসাদ্দেকের হাতেই!

বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৮৪/৮

অস্ট্রেলিয়া : ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯

ফল : বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী (বৃষ্টি আইনে)

ম্যাচসেরা : মোসাদ্দেক হোসেন (বাংলাদেশ)