• ই-পেপার

হয়রানির কারণ যেন না হয়

  • বাড়ছে ভ্যাটের আওতা

মানবিক সংকট এড়াতে হবে

এআইয়ের প্রভাবে কর্মী ছাঁটাই

মানবিক সংকট এড়াতে হবে

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্মে এআই যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। অনেক কাজ সহজ করে দিয়েছে, অনেক কাজ আগের তুলনায় চিত্তাকর্ষক করে তুলেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সেই ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্স বা পিডব্লিউসি পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপের বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়, এআইয়ের প্রভাবে দেশে আগামী তিন বছরে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মী কমতে পারে। ওই জরিপে ৯৫টি দেশের ও বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) মতামত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকেও ৪৫ জন সিইও এতে অংশ নেন। বাংলাদেশের ৩৫ শতাংশের বেশি সিইও মতামত দিয়েছেন, এআইয়ের প্রভাবে সামনের তিন বছরে নিম্নস্তরে কর্মীর সংখ্যা কমতে পারে।ু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্ষেত্রে এই হার ৪৩ শতাংশ। বৈশ্বিকভাবে ৪৯ শতাংশ সিইও একই কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এর বিপরীতে নেতৃস্থানীয় পদগুলোয় কর্মী কমার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও জরিপে বলা হয়েছে।

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেছেন, পৃথিবী যেভাবে এগোচ্ছে, আমরা সেভাবে এগোতে পারছি না। এখন পৃথিবী এআইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে চাচ্ছে। আমার ৭৫ হাজার কর্মী। সেখান থেকে আমার টার্গেট ১০ হাজার কর্মী কমানোর। এই ১০ হাজার লোক তো দক্ষ। তাঁরা চাকরিতে ছিলেন। তো তাঁরা যাবেন কোথায়?

দেশের ২০ শতাংশ সিইও জানিয়েছেন, তাঁদের চাহিদার এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনার বড় পরিসরে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে দেশের ১৬ শতাংশ সিইও সহায়তা সেবা ও পণ্য উন্নয়নে এআই ব্যবহার করছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের আয় বেড়েছে এবং পরিচালন ব্যয় কমেছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

অতীত বলছে, যখনই কোনো বড় প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটেছে, কিছু মানুষ সাময়িকভাবে কাজ হারিয়েছেন, কিন্তু কালক্রমে নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। আশা করা যায়, এআইয়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। আমরা মনে করি, কর্মী ছাঁটাই সঠিক পন্থা নয়। বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হলে সমাজের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকবে না। তাই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ অনুসরণ না করে এআই বিষয়ে দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে নীতিমালাও থাকা জরুরি। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য, মানুষকে কর্মহীন রাখার জন্য নয়। এআইকে দেখতে হবে মানুষের সহকারী হিসেবে, কখনোই বিকল্প হিসেবে নয়।

জনস্বার্থ সংরক্ষণ করুন

ওষুধ বাণিজ্যে নির্মম অনৈতিকতা

জনস্বার্থ সংরক্ষণ করুন

চিকিৎসকের ফি, রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ, ক্রমাগতভাবে দাম বাড়তে থাকা ওষুধ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনাসব মিলিয়ে চিকিৎসার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে এক শ্রেণির চিকিৎসক, ওষুধ কম্পানি ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনৈতিক যোগসাজশের কারণে চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচের পরিমাণ। ফলে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের একটি বড় অংশ জরুরি ক্ষেত্রেও চিকিৎসা নিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকারে চিকিৎসক ও ওষুধ কম্পানির অনৈতিক যোগসাজশ, তার প্রতিক্রিয়ায় ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি এবং চূড়ান্তভাবে রোগীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির এক নির্মম চিত্রই উঠে এসেছে।

জানা যায়, ওষুধ কম্পানিগুলোর আগ্রাসি বিপণন কার্যক্রম ক্রমেই ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। চিকিৎসকরা যাতে নির্দিষ্ট কম্পানির ওষুধ বেশি করে লেখেন সে জন্য কমিশন ও দামি উপহারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আছে বিদেশে সেমিনার-কনফারেন্স বা নিছক ভ্রমণে পাঠানো, ফ্রিজ, টিভি, এসি থেকে শুরু করে গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, এমনকি বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার মতো অনৈতিক লেনদেন। এর ফলে ওষুধ উৎপাদনের খরচ অনেক বেড়ে যায়। তখন ওষুধের দাম ইচ্ছামতো বাড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রয়োজন না থাকলেও চিকিৎসকরা সেসব ওষুধ বা ভিটামিন বেশি করে লিখে দেন।

বর্তমানে দেশে দুই শতাধিক কম্পানি দেড় হাজার রাসায়নিক ধরনের বা জিনেরিক নামের অধীনে প্রায় ৩১ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ বিপণন করে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় তালিকাভুক্ত ১১৭টি জিনেরিক নামের ওষুধের দাম ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নির্ধারণ করে। বাকি সব ওষুধের দাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যূনতম যৌক্তিক অবস্থানে রাখার চেষ্টাও খুব একটা দৃশ্যমান নয়। ফলে ওষুধ কম্পানিগুলো ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারছে। আর এর অসহায় শিকার হচ্ছে রোগীরা।

ব্যক্তিগত চিকিৎসার ব্যয় কমানোর রাষ্ট্রীয় ঘোষণা সত্ত্বেও দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগীর নিজস্ব ব্যয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের তথ্য মতে, ব্যক্তির চিকিৎসা খরচের ৬৪.৬ শতাংশই যায় ওষুধের পেছনে। এদিকে উচ্চ ব্যয়ের কারণে বহু মানুষ চিকিৎসাই নিতে পারছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের তথ্য মতে, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ গ্যাস্ট্রিক, রক্তচাপ, বাতজ্বর, হাঁপানি ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগলেও তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি কোনো ধরনের চিকিৎসাই নেয় না। অন্যতম কারণ, ওষুধের অতিরিক্ত দাম।

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিদ্যমান অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ওষুধের দাম নির্ধারণে যৌক্তিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। দেশের বেশির ভাগ দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।

দ্রুত বিচারের অনন্য দৃষ্টান্ত

রামিসা হত্যা মামলার রায়

দ্রুত বিচারের অনন্য দৃষ্টান্ত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিহাসের দ্রুততম রায়ের মধ্য দিয়ে দেখা গেল, সদিচ্ছা থাকলে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসেও বিচারকার্য সম্পন্ন করা যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তৎপর হলে স্বল্প সময়ে আসামি গ্রেপ্তার অসম্ভব নয়। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যার কোনো বিকল্প নেই। এদিক থেকে রামিসা হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আমাদের সামনে অনন্য দৃষ্টান্ত।

প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি শুধু একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়, এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

শিশু রামিসার ওপর নৃশংসতা আমাদের বাকরুদ্ধ করেছিল। মাত্র সাত বছরের ফুটফুটে মেয়ে। পাশের ফ্ল্যাটেই পাশবিক নির্মমতার শিকার হয়। সেই ঘটনা ১৯ মের। ঘটনার পরপরই প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে গোটা দেশ। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৎপর হন। ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন দিনের মধ্যে ডিএনএ ও ফরেনসিক রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় চার্জশিট দেওয়া হয়। এরপর মাত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে গত রবিবার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। সব মিলিয়ে ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় এই রায়কে বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন ইতিহাসের দ্রুততম রায়। অবুঝ রামিসার ওপর নৃশংস ঘটনা সমাজে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, মৃত্যুদণ্ডের রায় কিছুটা হলেও সেই ক্ষত প্রশমিত করেছে। জনমনে স্বস্তি এনেছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা, এই রায়ে সেটা আমি পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আমি শতভাগ আশাবাদী, রায় দ্রুত কার্যকর হবে।

আমাদের বিচারপ্রক্রিয়ার সবচেয়ে হতাশার দিক হলো দীর্ঘসূত্রতা, যাকে বলা যায় বিচারের নামে প্রহসন। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, রায়ে সাজা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। বছরের বছর ঝুলে আছে। এমনকি অনেক আলোচিত ঘটনার ক্ষেত্রেও রায় অকার্যকর রয়ে গেছে। তথ্য বলছে, গত ১০ বছরে দেশে ছয় হাজারের বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তিন শতাধিক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের পরিবার এখনো বিচার পায়নি।

কালের কণ্ঠ গতকাল জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করবেন। আগামী সপ্তাহেই এই বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হবে, যা অত্যন্ত অপরিহার্য ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

আমরা মনে করি, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের সমাজে যে অনাস্থা রয়েছে, তা দূর করতে অবশ্যই রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় অবিলম্বে কার্যকরসহ সব শিশু নিপীড়কের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোকএটাই কাম্য।

রাষ্ট্র ও সমাজকে পদক্ষেপ নিতে হবে

প্রবীণদের দুর্দশা বেড়েই চলেছে

রাষ্ট্র ও সমাজকে পদক্ষেপ নিতে হবে

চিকিৎসাবিজ্ঞান উন্নত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। ফলে বাড়ছে মানুষের গড় আয়ু। বাড়ছে বয়োবৃদ্ধ বা প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। যত দিন যাবে এই সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে একই সঙ্গে বাড়ছে প্রবীণ মানুষের দুর্ভোগ, অসহায়ত্ব ও জীবন-যন্ত্রণা। সম্প্রতি গণমাধ্যমে আসা দুটি খবর বিবেকসম্পন্ন প্রতিটি মানুষের হৃদয়-যন্ত্রণার কারণ হয়েছে। মিরপুরে এক বাসায় একাকী মরে পড়ে ছিলেন এক মা, যাঁর শরীরে ঘা হয়ে গিয়েছিল। অথচ তাঁর দুই ছেলে ঢাকায়ই অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত। মিরপুরেই আরেক ফ্ল্যাট থেকে এক মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁর স্বামী-সন্তান বিদেশে থাকেন। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে।

গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনেক প্রবীণের এমনই দুর্দশার করুণ চিত্র উঠে এসেছে। কেউ নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাটে একা থাকেন। কেউ প্রবীণনিবাসের ছোট্ট কুঠরির চার দেয়ালে বন্দি হয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করছেন। অনেকে সন্তান-স্বজনদের দেখা পাবেনএমন আশাও ছেড়ে দিয়েছেন। আবার যাঁদের নিজের সংগতি কম, প্রবীণনিবাসের খরচ জোগানোর ক্ষমতা নেই, তাঁদের কী অবস্থা? প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করে সন্তানের সংসারে মুখ গুঁজে কোনো রকমে পড়ে থাকতে হয়। মৃত্যু কেন আসে না বলে আক্ষেপ করতে হয়। অনেকের অবস্থা হয় আরো খারাপ। নিকট অতীতে বৃদ্ধ মা-বাবাকে দূরে কোথাও রাস্তার ধারে বা জঙ্গলে ফেলে আসার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের (বাইগাম) মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইন্তেজার রহমান বলেন, এখানে যাঁরা আসেন, বাধ্য হয়েই আসেন। পরিবারের লোকজন এসে দেখা করে যায়। কিন্তু দিনশেষে তাঁরা একাকী। এটাই বাস্তবতা। তাঁদের একেকজনের একেক ধরনের কষ্ট। তিনি জানান, ঢাকাসহ সারা দেশে তাঁদের মোট ৯২টি শাখায় ১০ থেকে ১২ হাজার প্রবীণ থাকেন। প্রবীণ হিতৈষী লেখক ও সংগঠক হাসান আলী বলেন, আগে প্রবীণদের আড্ডা দেওয়ার জায়গা ছিল। গল্প করতে পারতেন। এখন অনেকের জীবন চার দেয়ালে আটকে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, সময় যত যাবে, দেশে প্রবীণের সংখ্যা তত বাড়বে। তবে এখন যেহেতু যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই প্রবীণদের একাকিত্ব বাড়ছে। নিঃসঙ্গতার ফলে তাঁদের মধ্যে মৃত্যুভয়, বিষণ্নতা, মেজাজ খিটখিটে হওয়াসহ নানা শারীরিক ও মানসিক রোগ দেখা দেয়।

মা-বাবার ভরণ-পোষণের বিষয়ে আইন আছে, কিন্তু আইনের বাস্তবায়ন নেই। আর যেখানে পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা, মানবিকতা হারিয়ে যাচ্ছে; সেখানে আইন কতটুকুই বা করতে পারবে! রাষ্ট্র ও সমাজকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। পদক্ষেপ নিতে হবে। আনন্দময় শৈশবের মতোই আনন্দময় বার্ধক্য নিশ্চিত করতে হবে।